বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন সার্থক হোক কন্যার মধ্য দিয়ে

95

আজ ২৮ সেপ্টেম্বর বঙ্গবন্ধুকন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন। তিনি পা দিলেন ৭৪এ। রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের অভ্যুদয়ের পর মাত্র সাড়ে তিন বছরের মাথায় জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর একাত্তরের পরাজিত শক্তি ক্ষমতা দখল করে দেশকে অন্ধকার যুগে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। বঙ্গবন্ধুর দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বিদেশে অবস্থায় করায় তাঁরা হত্যাকারীদের হাত থেকে বেঁচে গিয়েছিলেন। ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী একাত্তরে যেমন বাংলাদেশের মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, ঠিক তেমনটিই পিতৃ-মাতৃহীন দুই কন্যাকে মাতৃ¯েœহে ভারতে নিয়ে এসে সম্মান ও মর্যাদার সঙ্গে আশ্রয়ের ব্যবস্থা করেন। বাংলাদেশের মানুষ তখন সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে লড়াই করছে, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও মূল্যবোধ হত্যার চেষ্টার বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াচ্ছে। প্রায় ছ’বছর পর শেখ হাসিনা মাতৃভূমিতে ফিরে এসে বঙ্গবন্ধুর মুক্তিযুদ্ধের পতাকা হাতে তুলে নিলেন। সেই শুরু বঙ্গবন্ধুর রক্তের উত্তরাধিকারি শেখ হাসিনার দেশ বাঁচানোর লড়াই। তাঁর নেতৃত্বে বাংলাদেশ ফিরেছে মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ধারায়। আজ অর্থনৈতিকভাবে এক সম্ভাবনাময় দেশই শুধু পরিণত হয়নি, ধর্মনিরপেক্ষ গণতান্ত্রিক ধারাকে তিনি বেগবান করেছেন। আজ বাংলাদেশ বিশ্বসভায় মর্যাদার এক অনন্য আসনে অধিষ্ঠিত।

যুদ্ধাপরাধীদের বিচার ও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনিদের বিচার করে শেখ হাসিনা বাংলাদেশকে কলঙ্কমুক্ত করেছেন। জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ করে গণতান্ত্রিক চেতনা বিকশিত করেছেন, মানবতার ধারাকে শক্ত ভিত্তির ওপর প্রতিষ্ঠা করেছেন। পার্বত্য চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন, একুশে ফেব্রুয়ারি আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি, ডিজিটাল বাংলাদেশ বিনির্মাণসহ মানুষের জাতীয় জীবনের সবক্ষেত্রে তাঁর সাফল্য অভাবনীয়। বাংলাদেশ আজ উদ্বৃত্ত খাদ্যশস্যের দেশ, স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে পরিণত হওয়ার পর এখন যাত্রা করেছে মধ্যম আয়ের দেশের পথে। করোনা আমাদের বিপর্যস্ত করলেও এখন ধীরে ধীরে দেশ উঠে দাঁড়াচ্ছে। সবই সম্ভব হয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শি ও গতিশীল নেতৃত্বে।

বঙ্গবন্ধুকে হত্যা করার পর আওয়ামী লীগকে নিশ্চিহ্ন করার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু বঙ্গবন্ধুর আওয়ামী লীগ এদেশের মানুষের হৃদয়ের গভীরে প্রতিষ্ঠিত, বঙ্গবন্ধুর রক্ত থেকে জন্ম নিয়েছে রক্তবীজ। শেখ হাসিনার মধ্য দিয়ে সে রক্তবীজ বিকশিত হয়েছে। একুশ বছর পর ক্ষমতায় ফিরে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে দেশ মুক্তির ধারায় ফিরে আসে। তাই পরাজিত শক্তি তাঁকে বারবার হত্যার চেষ্টা করেছে, অন্তত দেড় ডজন হামলা হয়েছে জননেত্রীর ওপর, যার মধ্যে ভয়াবহতম ছিল ২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলা। সৃষ্টিকর্তার অসীম দয়ায় শেখ হাসিনা বেঁচে যান, কিন্তু প্রাণ হারান ২৪ জন, আহত পাঁচশোরও বেশি যাদের মধ্যে অনেকে এখনো শরীরে গ্রেনেডের স্লিন্টার বহন করছেন।

জন্মদিনে আমাদের প্রার্থনা, তিনি মুক্তিযুদ্ধের যে পতাকা বহন করে চলেছেন, সে পতাকা তাঁর হাতে অক্ষুণœ থাকুক বাংলাদেশের মানুষের স্বার্থে। বঙ্গবন্ধু দুঃখী মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর যে স্বপ্ন দেখেছিলেন সে স্বপ্ন সার্থক হোক বঙ্গবন্ধু কন্যার মধ্য দিয়ে।