প্রচন্ড যুদ্ধের পর হিলি স্থলবন্দর ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয়েছিল

24

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে ।।  মহান মুক্তিযুদ্ধে দিনাজপুর হিলি স্থলবন্দরে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতিরোধের মুখে ১১ ডিসেম্বর পাকহানাদার বাহিনীর সদস্যরা ওই এলাকা ছেড়ে পালিয়ে যায়। ওই দিন বিজয়ের পতাকা উত্তোলন করে বীর মুক্তিযোদ্ধারা হিলি স্থলবন্দর মুক্ত করেছিল। সেই থেকে প্রতি বছর দিনটি হিলি স্থলবন্দর মুক্ত দিবস পালিত হয়।

দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের দায়িত্বে নিয়োজিত মোহাম্মদ নুর এ আলম জানান, করোনার কারণে স্বল্প পরিসরে এবারে দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলার হিলি স্থলবন্দর পাকহানাদার বাহিনী মুক্ত দিবস পালিত হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে মুক্তিযোদ্ধা স্মৃতিস্তম্ভে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা নিবেদন, স্বল্প পরিসরে স্মৃতিচারণ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্বর্ধনা প্রদান।

দিনাজপুর হাকিমপুর উপজেলা সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোহাম্মদ লিয়াকত আলী জানান, মহান মুক্তিযুদ্ধে ১৯৭১ সালের ৯ ও ১০ ডিসেম্বর পাকিস্তানি বাহিনীর সঙ্গে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নিয়ে শাহাদত বরণ করেন ৩৪৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা ও ভারতীয় মিত্রবাহিনীর সদস্য। অবশেষে ১১ ডিসেম্বর শক্রমুক্ত হয় দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর ও হাকিমপুর থানা এলাকা।

মুক্তিযোদ্ধা ও স্থানীয়রা জানান, সেইদিনের যুদ্ধের ভয়াবহতা কেউ আজও ভুলতে পারেনি। মনে পড়লেই কেঁদে ফেলেন মুক্তিযোদ্ধারা ও এলাকাবাসী। রণকৌশলগত কারণে হিলি দখলে নিতে ১৯৭১ সালের এপ্রিল মাস থেকে আকাশ ও স্থলপথে হামলা চালায় পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী।  ৯ ও ১০ ডিসেম্বর হাকিমপুর হিলির মুহাড়াপাড়া গ্রামের পাশে পাকিস্তানি বাহিনীকে হঠাতে মুক্তিযোদ্ধা ও মিত্রবাহিনীর সদস্যরা যৌথভাবে সম্মুখ যুদ্ধে অংশ নেয়। ১১ ডিসেম্বর মুক্ত হয় হাকিমপুর থানা এলাকা সহ হিলি স্থলবন্দর।