২৮ অক্টোবর বিএনপি নেতাদের কার কী ভূমিকা ছিল জানালেন ডিবিপ্রধান

14

ডেস্ক রিপোর্ট।। ২৮ অক্টোবর নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশের দিন সহিংসতায় বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতাদের মধ্যে কার কী ভূমিকা ছিল সেটি সামনে এনেছেন ডিএমপির অতিরিক্ত কমিশনার ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ খবর যুগান্তরের

বুধবার (০৮ নভেম্বর) দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডে নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তথ্য জানান তিনি

ডিবিপ্রধান বলেন, প্রথমত বিএনপির যেসব কেন্দ্রীয় নেতা আমাদের কাছে রিমান্ডে আছেন তারা প্রথমে বলছিলেন, নাশকতা আমাদের দলের লোকজন করেনি, মনে হয় অন্য কেউ করেছে এটা নিয়ে তারা সন্দিহান ছিলেন তখন আমাদের কাছে থাকা সিসি ক্যামেরার ফুটেজ, স্মার্ট টিমের করা ভিডিও বিএনপি নেতাদের দেখানো হয়

হারুন বলেন, আমরা বলেছি, আপনারা স্টেজে ছিলেন, সমাবেশের নেতৃত্বে ছিলেন এছাড়া ভিডিওতে তারা দেখেছেন, সমাবেশের দিন মঞ্চে থাকা কেন্দ্রীয় নেতাদের কে কী ভূমিকা পালন করেছেন  সুলতান সালাউদ্দিন কোথায় লাঠি নিয়ে দৌড়াচ্ছেন, রবিউল ইসলাম নয়ন কোথায় আগুন লাগাচ্ছেন, ছাত্রদলের সাবেক কেন্দ্রীয় নেতা আবু সাঈদ মিন্টুর বাসা থেকে যে গানপাউডার আমরা পেয়েছি, মিন্টু এর স্বীকারোক্তি দিয়েছেন সবকিছু দেখার পরে তারাও (কেন্দ্রীয় নেতা) দুঃখ প্রকাশ করেছেন তারা বলছেন, এটা ঠিক হয়নি

সংঘাতের মূল পরিকল্পনাকারী কারা বিষয়ে জানতে চাইলে ডিবিপ্রধান বলেন, তারা হয়তো মনে করছেন বাংলাদেশের কয়েকটা বিচ্ছিন্ন স্থানে আগুন লাগালেই ভয় পেয়ে যাবে, অথবা পুলিশ ডিমোরালাইজড হবে, এটা ঠিক না পুলিশ বাহিনীর কাজ হচ্ছে, জনগণের জালমালের নিরাপত্তা দেওয়া সাধারণ মানুষের চলাচলে যেন কোনো বাধা সৃষ্টি করতে না পারে সেদিকে খেয়াল রাখা

সহিংসতাকারীদের ধরা হচ্ছে জানিয়ে হারুন বলেন, বিএনপির সমাবেশে অংশ নিয়ে ধ্বংসাত্মক কার্যক্রমের ভূমিকা পালনকারী বেশ কয়েকজনকে আমরা ধরেছি অংশগ্রহণকারী অনেকের নাম পেয়েছি তাদের মধ্যে যুবদলের কেন্দ্রীয় কমিটির কৃষিবিষয়ক সম্পাদক সাইদ হাসান মিন্টুকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তার বাসা থেকে কেজি গান পাউডার উদ্ধার করা হয় 

তিনি বলেন, মিন্টু স্বীকার করেছেনবাশার এবং মাসুদকে দিয়ে এগুলো তিনি বানান রবিউল ইসলাম নয়ন সুলতান সালাউদ্দিন যে সহায়তা করেছেন তিনি সেটিও স্বীকার করেছেন

ডিবিপ্রধান বলেন, ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের লালবাগ ডিভিশন মতিঝিল ডিভিশন অভিযান চালিয়ে অংশগ্রহণকারী পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করে তারা হলেনছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতা হাসান হাওলাদার তিনি প্রথমে প্রধান বিচারপতির বাসভবনের সামনে গুলতি নিয়ে পুলিশের ওপর মারবেল নিক্ষেপ করে বিআরটিসি বাসে আগুন দেন কবি নজরুল ইসলাম কলেজ ছাত্রদলের সহসভাপতি আবুল হোসেন জুয়েল নাইটিংগেল মোড়ে পুলিশের ওপরে হামলা করে, এর ভিডিও ফুটেজ আমাদের কাছে আছে 

হারুন বলেন, পুলিশ হত্যা মামলায় যে দুজন ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়েছেন, তারা বলেছেন ছাত্রদলের মুগদা থানার সাধারণ সম্পাদক রানা মিয়া পুলিশ হত্যায় অংশগ্রহণ করেছেন তাকেও আমরা গ্রেপ্তার করেছি