হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে কঠোর অবস্থানে সরকার

10

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরুদ্ধে বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে প্রাণহানিসহ ব্যাপক সহিংসতার পর হেফাজতে ইসলামের ব্যাপারে সরকার কঠোর অবস্থান নিয়েছে। ধর্মান্ধ হেফাজতে ইসলাম বর্তমান সরকারের হাত ধরেই একটি শক্তিশালী অবস্থানে উঠে আসে। কিন্তু স্বাধীনতার সুবর্ণজয়ন্তী ও জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারতের প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতির বিরোধিতা করে তান্ডব চালানোর কারণে এই গৌরবজনক আয়োজনে এক কালো অধ্যায় যুক্ত হওয়ায় সরকারের শীর্ষ নেতৃত্ব প্রচন্ড ক্ষুব্ধ হয়। সাম্প্রতিক সময়ে বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য স্থাপনের বিরোধিতা ও ভাঙচুরের পর নরেন্দ্র মোদির সফরের সহিংস প্রতিবাদে নেমে তান্ডবের ঘটনায় সরকারের শীর্ষ পর্যায় উদ্বিগ্ন। কারণ এই সহিংসতায় বাংলাদেশের ভাবমূর্তি প্রচন্ডভাবে ক্ষুণœ হয়।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এরই মধ্যে সহিংসতার ঘটনায় করা মামলায় সারা দেশে তিন শতাধিক হেফাজত নেতা-কর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে। কেন্দ্রীয় ও মাঝারি সারির কিছু নেতাকেও আইনের আওতায় এনে শীর্ষ নেতাদের প্রতি একটা বার্তা দেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক ইসলামাবাদীকে গত সোমবার গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ পর্যন্ত মোট চারজন কেন্দ্রীয় নেতাকে গ্রেপ্তার করা হলো। যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হক মামলার অন্যতম প্রধান আসামি, তিনি এখন নিখোঁজ বলে জানা যাচ্ছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলের একজন যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকসহ আরও কয়েকজন পরবর্তী লক্ষ্যবস্তু বলে জানা গেছে।

সরকারের উচ্চপর্যায়ের সূত্র থেকে জানা গেছে, হেফাজতের গুরুত্বপূর্ণ নেতাদের প্রায় সবার ওপর নজর রাখা হচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে থাকা পুরোনো মামলাগুলো সচল করা হচ্ছে। সংবাদ মাধ্যম বলছে, সব দিক থেকে চাপে ফেলে সংগঠনটির নেতৃত্বে আগের মতো একটা নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্য নিয়েও এগোচ্ছে সরকার। এ জন্য রমজান মাস ও করোনার কারণে চলমান লকডাউন পরিস্থিতিকে কাজে লাগানো হবে। হেফাজত যেকোনো পরিস্থিতিতে মূলত মাদ্রাসার ছাত্রদের ব্যবহার করে থাকে। এবারও তিনদিনের সহিংসতায় ঢাকা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে কওমী মাদ্রাসার ছাত্ররাই রাস্তায় নেমে তান্ডব চালায়, পুলিশের গুলিতে প্রাণ হারায় ১৭ জন। যদিও এই সংখ্যা আরও বেশি বলে দাবি করেছে হেফাজত। কওমি মাদ্রাসাগুলো এখন রমজানের ছুটিতে রয়েছে। তাই এ সময়টাকে হেফাজতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মোক্ষম সময় হিসেবে দেখা হচ্ছে। সংগঠনের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের বিয়েবহির্ভূত সম্পর্কের কিছু ঘটনা এবং আরেক নেতার মোবাইল ফোনে পর্ণো চিত্রের বিষয়টি প্রকাশ হয়ে পড়ায় হেফাজতের নেতৃত্বের বিরুদ্ধে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে, যা আইনি ব্যবস্থা নিতে সরকারের জন্য সহায়ক হয়েছে। এসব বিষয় সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে, যা হেফাজত নেতাদের নৈতিকতাকে প্রশ্নের মুখে ফেলেছে। পাশাপাশি আর্থিক কেলেঙ্কারি, মাদ্রাসা পরিচালনা ও তহবিল ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের বিষয়গুলোও আলোচনায় আছে।

আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুব উল আলম হানিফ বলেছেন, হেফাজতে ইসলাম ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে রাষ্ট্র, সংবিধান ও মুক্তিযুদ্ধকে চ্যালেঞ্জ করেছে। সরকার ও আওয়ামী লীগ তাদের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে আছে। তাদের ধ্বংসযজ্ঞের মাশুল দিতে হবে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, ২৬ মার্চের সহিংসতা পূর্বপরিকল্পিত, এর পেছনে ছিল বিএনপির উস্কানি।