সুনামগঞ্জে হামলা, এ পর্যন্ত ২৪ জন আটক

14

বিবিসি জানায়, ১৭ মার্চ সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার হিন্দু অধ্যুষিত নোয়াগাঁও গ্রামে হেফাজতে ইসলামের সমর্থকদের হামলা, ভাঙচুর লুটপাটের ঘটনায় এখনো পর্যন্ত সন্দেহভাজন অন্তত ২৪ জনকে আটক করেছে পুলিশ। সুনামগঞ্জের শাল্লা থানা পুলিশ আটকের এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।

হামলার ঘটনার ৩৬ ঘন্টা পর গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় দু’টি মামলা দায়ের করা হয়। মামলায় ৮০ জনের নাম দিয়ে এবং কয়েকশ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। এই মামলা হওয়ার পর পুলিশ সন্দেহভাজনদের আটকের জন্য অভিযান চালায়। প্রথম আলোর খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার বিকেলে নোয়াগাঁও গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যক্তি ৭০০ জনের বিরুদ্ধে এই মামলা করেন।

শাল্লা থানার পুলিশের কর্মকর্তা উদয় চক্রবর্তী জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার সারারাত পুলিশ অভিযান চালিয়েছে সুনামগঞ্জের বিভিন্ন স্থানে। আটকদের সুনামগঞ্জ সদর থানা, দিরাই এবং শাল্লা থানায় পুলিশী হেফাজতে রাখা হয়েছে। শুক্রবার (১৯ মার্চ) সকালে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন। গ্রামটিতে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ এবং র‌্যাবের দু’টি অস্থায়ী ক্যাম্প বসানো হয়েছে গত বৃহস্পতিবার।

তবে সেখানকার জনপ্রতিনিধিরা বলেছেন, গ্রামের বাসিন্দাদের আতংক এখনও কাটেনি। সেখানে থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। গত ১৫ মার্চ সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলায় এক ধর্মীয় সমাবেশে হেফাজত ইসলামের আমীর জুনায়েদ বাবুনগরী এবং মামুনুল হক বক্তব্য দেন। এর পরদিন মামুনুল হককে নিয়ে গ্রামের একজন হিন্দু যুবক ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়-এই অভিযোগ তুলে হেফাজত সেখানে বিক্ষোভ করেছিল।

স্থানীয় প্রশাসনের দেয়া তথ্য অনুযায়ী বুধবারের এই হামলায় গ্রামটিতে হিন্দুদের ৮৮টি বাড়ি-ঘর এবং সাত আটটি পারিবারিক মন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন অভিযোগ করেছেন, তাদের বাড়িঘর থেকে গচ্ছিত থাকা টাকা এবং সোনা লুট করেছে হামলাকারীরা।

সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার ও পুলিশের ডিআইজিসহ ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা শুক্রবার দুপুরে নোয়াগাঁওয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর বাড়িতে যান।