সাংবাদিক রোজিনার ঘটনায় আমাদের আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে : পররাষ্ট্রমন্ত্রী

6

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে সাংবাদিকদের আন্দোলন বৃহস্পতিবার তৃতীয় দিনে গড়াল। কিন্তু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট ও দন্ডবিধিতে করা এই মামলায় জ্যেষ্ঠ অনুসন্ধানী সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন বৃহস্পতিবারও হয়নি। ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত জানিয়েছেন, জামিন নিয়ে আগামি রোববার আদেশ দেওয়া হবে। ভার্চ্যুয়ালি আদালত বসলেও আদালতের সামনে গণমাধ্যমকর্মীরা ভিড় করেন। আদালতের বাইরে অপেক্ষায় ছিলেন রোজিনা ইসলামের স্বামী মনিরুল ইসলাম ও স্বজনেরা।

এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন বলেছেন, প্রথম আলোর সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনা দুঃখজনক ও অনভিপ্রেত। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে আন্তর্জাতিকভাবে প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (২০ মে) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তরে এ মন্তব্য করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। রোজিনা ইসলামের গ্রেপ্তারের ঘটনায় সরকারের ভাবমূর্তি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ক্ষুণœ হয়েছে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে আব্দুল মোমেন বলেন, এটি খুবই দুঃখজনক। কারণ, শেখ হাসিনার সরকার সংবাদবান্ধব সরকার। আমরা কখনোই আপনাদের নিষেধ করি না। আমাদের লুকানোর কিছু নেই। যে ঘটনা ঘটেছে, সেটি খুব দুঃখজনক। সেটা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ম্যানেজ করা উচিত ছিল। গুটিকয় লোকের জন্য এই বদনামটা হচ্ছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আমি জানি, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় হিসেবে আমাদের এটির মুখোমুখি হতে হবে। অনেকে প্রশ্ন করবে। আমরা এ ধরনের ঘটনা চাই না। যেহেতু এটি বিচারাধীন বিষয়, সে জন্য বিস্তারিত কথা বলতে চাই না।

আব্দুল মোমেন গণমাধ্যমের ভূমিকার প্রশংসা করে বলেন, সংবাদমাধ্যম দেশের বিরাট কাজ করছেন। তাদের কারণে আমরা বালিশ-কান্ড শুনেছি। আপনাদের কারণে আমরা লাখ টাকার সুপারিগাছের কথা শুনেছি। আপনাদের কারণে সেই সাহেদ করিমের তথ্য পেয়েছি। সরকার প্রতিটি ক্ষেত্রে ব্যবস্থা নিয়েছে। এভাবে আপনারা সরকারকে খুব সাহায্য করছেন।

বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেস ক্লাব ও রিপোটার্স ইউনিটিতে দিনভর সাংবদিক সমাবেশে বলা হয়েছে, জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে নির্যাতন ও নিপীড়নের মাধ্যমে সাংবাদিকদের এই বার্তা দেওয়া হয়েছে যে, ভবিষ্যতে কেউ যেন স্বাস্থ্য খাতের কালো বিড়াল বের করতে না আসে। রোজিনা ইসলামের ঘটনা প্রমাণ করে, সেটি ছিল পরিকল্পিত। সাংবাদিকেরা যদি তাদের অবস্থান ধরে রাখতে না পারেন, তাহলে স্বাধীন সাংবাদিকতা অস্তমিত হবে।

সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭২ সালে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন, আমলা নয় মানুষ হও। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে মানুষ নয়, আমলারা দানব হিসেবে তৈরি হচ্ছেন। এর জন্য তিনি জনপ্রতিনিধিদের দায়ী করেন। এখন জনপ্রতিনিধিরা আমলাদের রক্ষার কাজ করছেন। আর আমলারাই জনপ্রতিনিধিদের নিয়ন্ত্রণ করছেন।

সাংবাদিকরা বৃহস্পতিবারও বিক্ষোভ  করেছেন দেশের জেলায় জেলায়।  শুক্রবার রিপোটার্স ইউনিটি প্রাঙ্গনে এবং শনিবার জাতীয় প্রেস ক্লাবে সাংবাদিকদের বৃহত্তর সমাবেশের কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার সাংবাদিকদের সমাবেশ থেকে স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে অবাঞ্চিত ঘোষণা করা হয়েছে।