সহস্রাধিক বছর আগের জৈন মন্দিরের সন্ধান

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। যশোরের মনিরামপুরে সহস্রাধিক বছর আগের মন্দিরের সন্ধান পাওয়া গেছে। উপজেলার খেদাপাড়ায় ধনপোঁতা ঢিবিতে পাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন উপাসনালয় বলে মনে করছেন প্রতœতত্ত্ববিদরা। তাদের মতে, প্রাচীনত্বের দিক দিয়ে যা প্রাক মুসলিম যুগের অর্থাৎ দেড় থেকে ২ হাজার বছরের পুরনো হতে পারে। এটি জৈন মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, কিংবা হিন্দু মন্দিরও হতে পারে।

ধনপোঁতা ঢিবিতে প্রথম পর্যায়ের খননকাজ শেষ করেছে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর। উদ্ধার হওয়া নিদর্শন স্থানীয় জনসাধারণ ও স্কুল শিক্ষার্থীদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হলে শত শত মানুষের ভিড়ে এলাকায় উৎসবের পরিবেশ সৃষ্টি হয়। প্রাচীন এই নিদর্শন দেখতে ছুটে যান স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. ইয়াকুব আলী। এ সময় সেখানে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতরের খুলনা বিভাগীয় আঞ্চলিক অফিসের শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। যশোর শহর থেকে দক্ষিণে রাজগঞ্জ সড়ক ধরে ১৬ কিলোমিটার গেলেই খেদাপাড়া। এখানকার মাঠের মধ্যে ৫৭ শতক জমির একটি উঁচু ঢিবি; যা দীর্ঘকাল বনজঙ্গলে ভরা ছিল। স্থানীয়ভাবে এটি ধনপোঁতা ঢিবি নামে পরিচিত। এলাকার মানুষের ধারণা, বিরাট রাজা বা স্বরূপ রাজার ধন পোঁতা আছে সেখানে। ২০০৬ সালে প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর মনিরামপুরের দমদম ঢিবি খননের উদ্যোগ নেওয়ার সময়ই এই ধনপোঁতা ঢিবির কথা জানতে পারে এবং এটিও খননের উদ্যোগ নেয়। খননকাজের প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে। এ পর্যন্ত কয়েকটি ঘরের কাঠামো, মৃৎপাত্র, পাথরের টুকরো, বাটি, পশুর হাড় ও বড় বড় লোহার পেরেক পাওয়া গেছে। প্রতœতত্ত্ব অধিদফতর খুলনা ও বরিশাল বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক লাভলী ইয়াসমিন বলেন, এখন পর্যন্ত যে অবকাঠামো বের হয়েছে, তাতে আমরা এটুকু নিশ্চিত করে বলতে পারি, এটা প্রাক-মুসলিম যুগ বা কমপক্ষে ১ হাজার ২০০ বছরের পুরনো। আরও খনন ও গবেষণার পর আমরা এর প্রাচীনত্ব সম্পর্কে সঠিক তথ্য দিতে পারব।

তিনি বলেন, এটি জৈন মন্দির, বৌদ্ধ মন্দির, কিংবা হিন্দু মন্দিরও হতে পারে। এখনো এমন কোনো তথ্যউপাত্ত পাইনি যাতে এখনই নিশ্চিত করে বলতে পারি।