রোহিঙ্গা নিয়ে জাতিসংঘে বিনা ভোটে প্রস্তাব পাশ, বাংলাদেশ বলছে ‘মাইলফলক’

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদে সোমবার (১২ জুলাই) রাতে এক প্রস্তাব পাস হয়েছে, যাতে মিয়ানমারে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর পক্ষে জবাবদিহিতা, তাদের উপর চালানো নিপীড়নের বিচার এবং তাদের নিজ দেশে প্রত্যাবাসনের উপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

জেনেভায় জাতিসংঘের বাংলাদেশ মিশন থেকে এক বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে জানানো হয়েছে, ২০১৭ সালে রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় গ্রহণের পর এই প্রথম কোনো প্রস্তাব কোন ভোটাভুটি ছাড়াই জাতিসংঘে গৃহীত হল। বাংলাদেশ এই প্রস্তাবটিকে বাংলাদেশের জন্য একটি ‘বড় মাইলফলক’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

এই প্রস্তাব গ্রহণের মধ্য দিয়ে রোহিঙ্গা মুসলমান ও অন্যান্য সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের মূল কারণ নিয়ে মানবাধিকার পরিষদে একটি প্যানেল আলোচনা অনুষ্ঠানের সিদ্ধান্ত হয়ে।

জেনেভায় মানবাধিকার পরিষদের ৪৭তম অধিবেশনে বাংলাদেশের উদ্যোগে ইসলামিক সম্মেলন সংস্থা (ওআইসি)র সব রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ‘রোহিঙ্গা মুসলিম ও মিয়ানমারের অন্যান্য সংখ্যালঘুদের মানবাধিকার পরিস্থিতি’ শীর্ষক প্রস্তাবটি উপস্থাপিত হয়েছিল।

গৃহীত প্রস্তাবে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যৌন অপরাধসহ সকল প্রকার নির্যাতন, মানবতা-বিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে অভিযুক্ত ও দায়ী ব্যক্তিদের জাতীয়, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক বিচার ব্যবস্থার আওতায় আনার গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। একইসঙ্গে তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রক্রিয়া জোরদারেরও আহ্বান জানানো হয়।

আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত এবং আন্তর্জাতিক আদালতে চলমান বিচার প্রক্রিয়াকে সমর্থন জানানো হয় পাস হওয়া ওই প্রস্তাবে।

এতে জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারকে মিয়ানমার বিষয়ক ‘নিরপেক্ষ আন্তর্জাতিক তথ্যানুসন্ধানী মিশনে’র সুপারিশ বাস্তবায়নের অগ্রগতির উপর মানবাধিকার পরিষদ এবং জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে প্রতিবেদন উপস্থাপনের অনুরোধ জানানো হয়।

মিয়ানমারে গণহত্যা ও ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়ে ২০১৭ সালের পর কয়েক লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নেয়। পূর্বের সহ বর্তমানে এই ১১ লাখের ওপরে।