রোজিনা জামিনে মুক্তি পেয়ে বললেন, সাংবাদিকতা চালিয়ে যাব

10

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। রোববার (২৩ মে) বিকেলে কারাগার থেকে মুক্তি পান তিনি। রোজিনা গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কারাগারে বন্দী ছিলেন। মুক্তি পাওয়ার পর রোজিনা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাংবাদিকতা চালিয়ে যাব। সাংবাদিকসহ যারা পাশে ছিলেন, সবাইকে ধন্যবাদ।

দৈনিক প্রথম আলোর অনুসন্ধানী প্রতিবেদক হিসেবে রোজিনা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের দুর্নীতি সম্পর্কে বেশ কিছু ধারাবাহিক প্রতিবেদন প্রকাশ করেন। এ নিয়ে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে বেশ অস্বস্তি ছিল। পেশাগত কাজে তিনি গত ১৭ মে সকালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে গেলে তাকে প্রায় ছ’ঘন্টা আটকে রেখে হেনস্থা ও নিগ্রহ করা হয়। অভিযোগ আনা হয় ‘তথ্য ও নথি সরানোর’। পরে তাকে শাহবাগ থানায় পাঠানো হয়। সেই স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের করা দন্ডবিধি ও একশো বছরের পুরনো বৃটিশ আমলের অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে কারাগারে ছিলেন রোজিনা। তাকে জামিন আবেদন বিষয়ে রোববার সকালে আদেশ দেন আদালত। পাঁচ হাজার টাকা মুচলেকা ও পাসপোর্ট জমা দেওয়ার শর্তে তিনি জামিন পান। জামিনের কাগজপত্র বিকেলে কারাগারে পৌঁছানোর পর মুক্তি পেলেন তিনি।

আদালতের জামিন আদেশের পর থেকে কারাগারের সামনে রোজিনার মুক্তির জন্য অপেক্ষা করছিলেন তার স্বজন, সহকর্মী ও শুভানুধ্যায়ীরা। বিকেলে সেই অপেক্ষার অবসান হয়। বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে কারাগার থেকে বেরিয়ে আসেন তিনি। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে গাড়িতে করে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।

গত বৃহস্পতিবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদনের ওপর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি শেষ হয়। তবে আদালত সেদিন তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সিদ্ধান্ত দেননি। রাষ্ট্রপক্ষের তথ্য উপস্থাপন ও জামিন বিষয়ে আজ রোববার আদেশের জন্য দিন ধার্য করেছিলেন আদালত।

সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের মুক্তি দাবিতে কয়েক দিন ধরেই সারাদেশে প্রতিবাদ ও আন্দোলন চলেছে। প্রত্যেকটি সাংবাদিক সংগঠন আন্দোলনে অংশগ্রহণ করেন। এই অনুসন্ধানী সাংবাদিকের গ্রেফতারের খবর ইউরোপ ও আমেরিকার সংবাদ মাধ্যমে গুরুত্বের সঙ্গে  প্রকাশ হয়েছে। রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা এবং এর আগে-পরে যা কিছু হয়েছে, দেশে-বিদেশে তার প্রতিক্রিয়া হয়েছে মারাত্মক। সচিবালয়ে একজন সাংবাদিককে আটকে রাখা হয়েছে, সেদিন এই খবর শোনার সঙ্গে সঙ্গে সচিবালয়ে কর্মরত সাংবাদিকেরা ছুটে গেছেন। তাঁরা প্রতিবাদ করেছেন। সাংবাদিক নেতারা তৎপর হয়েছেন। রোজিনা ইসলামকে শাহবাগ থানায় নেওয়া হলে সাংবাদিকেরা থানার সামনে অবস্থান নিয়েছেন। সারা রাত প্রতিবাদ করেছেন, বিক্ষোভ করেছেন। পরদিন থেকে এই বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে।