রাজধানী রক্ষার চেষ্টা, বাংলাদেশে করোনা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে

5

ডেস্ক রিপোর্ট।। ভাইরোলজিস্ট ও কোভিড-১৯ বিষয়ক জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটির সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম রাজধানী ঢাকার চারদিকের সাতটি জেলায় জারি করা বিশেষ লকডাউন প্রসঙ্গে চমৎকার উদাহরণ টেনে বলেছেন, আগে রাজা-বাদশারা কী করতেন ? যখন আক্রমণ আসতো তখন রাজধানী রক্ষার ব্যবস্থা নিতেন। কোভিডের দ্রুত সংক্রমণের মুখে বাংলাদেশেও তাই করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ায় চলমান বিধি নিষেধের মধ্যেই মঙ্গলবার (২২ জুন) থেকে ঢাকার আশেপাশের সাতটি জেলায় নয়দিনের বিশেষ লকডাউন শুরু হয়েছে। এর মাধ্যমে রাজধানীকে বাংলাদেশের বাকি জেলাগুলো থেকে এক প্রকার বিচ্ছিন্ন করে ফেলা হয়েছে বলা যায়। সর্বশেষ তথ্যে বলা হয়েছে, দেশে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, বাংলাদেশের ৬৪ জেলার মধ্যে ৪০টিই এখন সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকিতে।

গত ছদিনে বাংলাদেশে শনাক্তের পরিসংখ্যান : ১৯ জুন ৩,০৫৭, ২০ জুন ৩,৬৪১, ২১ জুন ৪,৬৩৬, ২২ জুন ৪,৮৪৬, ২৩ জুন ৫,৭২৭ এবং ২৪ জুন ৬, ০৫৮। সব মিলিয়ে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৭২ হাজার ৯৩৫ জন। গত ২৪ ঘন্টায় শনাক্তের হার ১৯ দশমিক ৯৩ শতাংশ। আর গত এক সপ্তাহ ধরে মৃত্যুর সংখ্যা ৮০ এর আশেপাশে। আজ বৃহস্পতিবার মারা গেছেন  ৮১ জন। গতকাল এই সংখ্যা ছিল ৮৫। বাংলাদেশে করোনায় মোট মৃত্যুর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৩ হাজার ৮৬৮ জনে।

এমন সময় সরকার এই ব্যবস্থা নিয়েছে, যখন সীমান্তবর্তী জেলাগুলোসহ দেশের অনেক জেলায় সংক্রমণের হার বেড়ে গেছে, অনেক জেলায় স্থানীয়ভাবেও লকডাউন চলছে। অধ্যাপক নজরুল ইসলাম বলেছেন, সীমান্তবর্তী জেলাগুলো পার হয়ে ভেতরের জেলাগুলোতেও কোভিড সংক্রমণ বাড়তে শুরু করেছে। এটা তো আর থেমে থাকবে না।

এক তথ্যে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে এখন নমুনা পরীক্ষার বিচারে গড়ে প্রতি পাঁচজনের একজন কোভিড রোগী শনাক্ত হচ্ছেন। তবে জনসংখ্যার অনুপাতে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর সংক্রমণ হারের তুলনায় এখনো কম রয়েছে রাজধানীতে। বিশেষজ্ঞদের একাংশ মনে করছেন, বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণের তৃতীয় ঢেউয়ের আলামত পাওয়া যাচ্ছে, যার মূল চালিকা শক্তি ভারতীয় ডেল্টা ধরন। এই ধরন অনেক বেশি সংক্রামক এবং মৃত্যুর হারও বেশি। তথ্য অনুযায়ী এই ধরন প্রথমে সীমান্তবর্তী কয়েকটি জেলায় ধরা পড়লেও এখন সারাদেশে ছড়িয়ে পড়েছে। রাজধানী ঢাকায় করোনা আক্রান্ত রোগীদের ৬৮ শতাংশ ডেল্টা ধরনে সংক্রমিত। আর বিভিন্ন জেলায় এই হার ৮০ শতাংশ।

বাংলাদেশের স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নাগরিকদের এই বলে সতর্ক করা হয়েছে যে দেশটিতে করোনাভাইরাস পরিস্থিতি আগামি দিনগুলোতে ‘শোচনীয়’ হতে পারে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নন-কমিউনিকেবল ডিজিজ সেন্টারের পরিচালক ও অন্যতম মুখপাত্র রোবেদ আমিন বলেন, কোভিড পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নাগরিকরা সরকারের নেয়া কার্যক্রমে সহযোগিতা না করলে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে না চললে বাংলাদেশের করোনাভাইরাস পরিস্থিতি ‘শোচনীয়’ অবস্থায় চলে যেতে পারে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে প্রথম থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ শনাক্তের হার ১৩ শতাংশের মত হলেও গত সাত দিনের পরিসংখ্যান যাচাই করলে দেখা যাবে মৃত্যুর হার এবং সংক্রমণ শনাক্তের হার বেড়েই যাচ্ছে। বিভিন্ন বিভাগের পরিসংখ্যান তুলে  ধরে তিনি বলেন, বরিশাল বিভাগে গত এক সপ্তাহের ব্যবধানে কোভিড পজিটিভ হওয়ার হার (সাপ্তাহিক পরিবর্তন হার) বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ৫০ শতাংশে, খুলনায়ও প্রায় ৫০ ভাগ, চট্টগ্রামে প্রায় ৪২ শতাংশ আর ময়মনসিংহে ৬১ দশমিক ৯ ভাগ।