রংপুরে খাদেম হত্যায় মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চান্দু ঢাকায় গ্রেফতার

9

রংপুর থেকে প্রহ্লাদ রায়।। ২৬ মে।। প্রায় ছয় বছর পর আলোচিত রংপুরে মাজারের খাদেম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি চান্দু ওরফে আবদুর রহমানকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অ্যান্টি টেররিজম ইউনিট (এটিইউ)। গত সোমবার ২৪ মে রাতে সাভারের গেন্ডা এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

মঙ্গলবার ২৫ মে সকালে রাজধানীর বারিধারায় নিজ কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান এটিইউ’র পুলিশ সুপার এসপি মোহাম্মদ আসলাম খান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার চান্দু জেএমবির কিলিং মিশনের ইসবা গ্রুপের সদস্য। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি তার সহযোগিদের নিয়ে খাদেম রহমত আলীকে কুপিয়ে হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

এসপি আসলাম  আরও জানান, নিজেকে বাঁচানোর জন্য রিকশা চালানোসহ বিভিন্ন পেশায়  নিজেকে সম্পৃক্ত রেখে এত বছর গা ঢাকা দিয়েছিলেন এই ভয়ংকর অপরাধী। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি সংগঠনিকভাবে নব্য জেএমবির অন্যান্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন বলে স্বীকার করেছেন।

নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত সাতজন আসামির মধ্যে পাঁচজনই ২০১৫ সালের অক্টোবরে জাপানি নাগরিক হোশি কুনিও হত্যার সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিল, যাদের প্রত্যেকেই ওই মামলাতেও মৃত্যুদন্ডাদেশ দেওয়া হয়। এদিকে জাপানি নাগরিক  হত্যাকান্ডের সঙ্গে  আবদুর রহমানের সম্পৃক্তরা রয়েছে কিনা তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে এটিইউ।

রংপুরের কাউনিয়া এলাকায় ২০১৫ সালের ১০ নভেম্বর রাতে মাজারের খাদেম রহমত আলীকে মাজার অনুসারী হওয়ায় সাতজন জেএমবি সদস্য ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করে। পরে খাদেম রহমতের ছেলে বাদী হয়ে হত্যা মামলা দায়ের করলে ২০১৮ সালের ১৮ মার্চ হত্যার সঙ্গে জড়িত থাকায় ৭ জেএমবি সদস্যকে মৃত্যুদন্ড দেন আদালত।

এদের মধ্যে সবাইকে বিভিন্ন সময় গ্রেপ্তার করা হলেও পলাতক ছিল আবদুর রহমান ওরফে চান্দু। ছয় বছর পর নব্য জেএমবির ভয়ংকর কিলিং মিশনের ইসাবা গ্রুপের সদস্য আবদুর রহমানকে সাভারের গেন্ডা কবরস্থান এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করে এটিইউ।