যুক্তরাষ্ট্র টিকা আবিষ্কারে সফল হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে

1

। বিশেষ প্রতিনিধি।। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী (ডেপুটি সেক্রেটারি অব স্টেট) স্টিফেন ই. বিগান রাষ্ট্রীয় সফরে বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকায় এসেছেন। রাতে তিনি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে এক বৈঠকে মিলিত হয়ে করোনা মোকাবেলা ও অর্থনীতি ব্যবস্থাপনায় সরকারের ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। যুক্তরাষ্ট্র টিকা আবিষ্কারে সফল হলে বাংলাদেশ অগ্রাধিকার পাবে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এছাড়া সমুদ্রে গ্যাসক্ষেত্র অনুসন্ধানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোকে আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। বৈঠকের পর শাহরিয়ার আলম সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ভারতের নয়াদিল্লিতে তিনদিনের সফর শেষে বুধবার বিকেলে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছালে মার্কিন উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে স্বাগত জানান পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন। এ সময় বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত আর্ল মিলারও উপস্থিত ছিলেন। এরপর সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি হোটেলে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী এম শাহরিয়ার আলমের সঙ্গে বৈঠক করেন স্টিফেন বিগান।

ভারতের হিন্দুস্তান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী স্টিফেন বিগান ভারত সরকারকে সফরকালে বলেছেন, ভারতের প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে আরো বেশি পরামর্শ, আলোচনা করবে যুক্তরাষ্ট্র। বাংলাদেশের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক পুনঃস্থাপনের গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ নিচ্ছেন তিনি।

ওই খবরে বলা হয়েছে, ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলার সঙ্গে বৈঠক করেন বিগান। বৈঠক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানিয়েছেন, মার্কিন মন্ত্রীকে বাংলাদেশ নিয়ে ব্রিফ করেছেন শ্রিংলা। মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ বাংলাদেশের সঙ্গে ওয়াশিংটনের আরো বেশি সম্পৃক্ত হওয়ার প্রয়োজনীয়তা তিনি তুলে ধরেন। কারণ বর্তমান সরকারের নেতৃত্বে অর্থনৈতিকভাবে বাংলাদেশের উত্থান হচ্ছে। কট্টরপন্থার পথ থেকে সরে এসেছে।

প্রতিমন্ত্রী সাংবাদিকদের জানান, মার্কিন উপ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বিগান করোনার সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে পিপিই রপ্তানি করায় বাংলাদেশকে সাধুবাদ জানান ও সন্তোষ প্রকাশ করেন। বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরো বাড়াতে দুই পক্ষ একমত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র প্রণীত ইন্দো-প্যাসিফিক ইস্যুতে আলোচনা হয়েছে। পারস্পারিক সমৃদ্ধি ও উন্নয়নে বাংলাদেশ একটি উন্মুক্ত, সমন্বিত ও অংশগ্রহণমূলক ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের পক্ষে রয়েছে। সমান্তরাল আরো কিছু উদ্যোগ আছে যেগুলো সাংঘর্ষিক হবে না বলে বাংলাদেশ মনে করে। বাংলাদেশ রোহিঙ্গা ইস্যুতে দ্রুত প্রত্যাবাসনেই এ মুহূর্তে জোর দিচ্ছে। রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবাসনের জন্য আরো শক্তিশালী বৈশ্বিক সমর্থন চায় বাংলাদেশ।