মুজিববর্ষ উপলক্ষে সংসদের প্রথম বিশেষ অধিবেশন শুরু

5

।। সংসদ প্রতিবেদক।। শুরু হল বাংলাদেশের ইতিহাসে সংসদের প্রথম বিশেষ অধিবেশন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এই বিশেষ অধিবেশন রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হয়। স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সভাপতিত্বে শুরু হল একাদশ সংসদের এই দশম অধিবেশন। সংসদ কক্ষে জাতির জনকের ছবিসহ এটাই সংসদের প্রথম বৈঠক।
কথা ছিল, গত ২২-২৩ মার্চ এই বিশেষ অধিবেশন হবে। অধিবেশনের শুরুতেই রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদ ভাষণ দেবেন। এরপর বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন নিয়ে একটি প্রস্তাব পাস হবে। কিন্তু বিশ্বের অন্য সব দেশের মত বাংলাদেশেও করোনাভাইরাসের প্রকোপ বাড়তে থাকলে মুজিববর্ষের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান কাটছাঁট করা হয়, সংসদের বিশেষ অধিবেশনও স্থগিত হয়ে যায়।
এটি বিশেষ অধিবেশন হলেও এর প্রথম কার্যদিবস চলবে সাধারণ অধিবেশনের মতো। অধ্যাদেশ উপস্থাপন, কয়েকটি খসড়া আইন ও বিলের প্রতিবেদন উপস্থাপনের জন্য এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
অধিবেশন শুরুর পর স্পিকার সভাপতিম-লীর সদস্য মনোনয়ন দেন। এ অধিবেশনে সভাপতিম-লীর সদস্যরা হলেন- আবুল কালাম আজাদ, বীরেন শিকদার, শামসুল হক টুকু, আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, উম্মে কুলসুম স্মৃতি।
সোমবার রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ আবদুল হামিদের স্মারক বক্তৃতার মাধ্যমে শুরু হবে বিশেষ অধিবেশনের কার্যক্রম। রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার আগে ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের ভাষণ সংসদ কক্ষে দেখানো হবে। বঙ্গবন্ধুর বর্ণাঢ্য ও কর্মময় রাজনৈতিক জীবন নিয়ে রাষ্ট্রপতির স্মারক বক্তৃতার পর তা নিয়ে আলোচনার জন্য একটি সাধারণ প্রস্তাব আনা হবে। ওই প্রস্তাবের উপর সরকার ও বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যদের আলোচনা শেষে তা পাস হবে।
অধিবেশনের শুরুতে স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী জানান, রাষ্ট্রপতির বক্তৃতার পরে ১২ নভেম্বর পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুর জীবন নিয়ে আলোচনা হবে।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, এরপর আগামি সপ্তাহে দুই বা তিন দিন সাধারণ বৈঠক চলার মাধ্যমে অধিবেশনটি শেষ হতে পারে।
বাংলাদেশের স্বাধীনতার স্থপতি বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী সাড়ম্বরে উদযাপনে এ বছরকে ‘মুজিববর্ষ’ ঘোষণা করে নানা কর্মসূচি নিয়েছিল সরকার। তার অংশ হিসেবে গত ৯ জানুয়ারি সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এই বিশেষ অধিবেশন করার সিদ্ধান্ত হয়।
এবারও অধিবেশনে যোগ দিতে করোনাভাইরাস পরীক্ষা করানো হচ্ছে সংসদ সদস্যদের। মার্চ মাসে দেশে করোনাভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর এটি চতুর্থ অধিবেশন।