মধ্যরাতের ভূমিকম্পে কাঁপল নেপাল, নিহত বেড়ে ১৩২

9

রয়টার্স ও এএফপি।। নেপালে শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহত মানুষের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩২। আহত অনেকে। দেশটির কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।

শুক্রবার (০৩ নভেম্বর) মধ্যরাতে নেপালের পশ্চিমাঞ্চলের কর্নালি প্রদেশের জাজারকোট এলাকায় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতেও ভূমিকম্প অনুভূত হয়।

নেপালের ন্যাশনাল সিসমোলজিক্যাল সেন্টার জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শুক্রবার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে জাজারকোট এলাকায় ভূমিকম্পটি হয়। ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৪।

পার্বত্য জাজারকোট এলাকাটি নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৫০০ কিলোমিটার পশ্চিমে অবস্থিত।

যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৬। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থলের গভীরতা ছিল ভূপৃষ্ঠ থেকে ১৮ কিলোমিটার নিচে। অন্যদিকে জার্মান রিসার্চ সেন্টার ফর জিওসায়েন্স বলেছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৭।

নেপালের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, জাজারকোটে ৯২ জন ও রুকুমে ৪০ জন নিহত হয়েছেন।

কর্নালি প্রদেশ পুলিশের কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র ভট্টরাই বার্তা সংস্থা এএফপিকে বলেন, নিহত মানুুষের সংখ্যা শতাধিক। আহতও হয়েছেন অনেকে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, নিহত মানুুষের সংখ্যা বাড়তে পারে।

জাজারকোট জেলার কর্মকর্তা হরিশ চন্দ্র শর্মা ফোনে বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেন, আহত মানুষের সংখ্যা শতাধিক হতে পারে। নিহত মানুষের সংখ্যাও বাড়তে পারে।

উপদ্রুত এলাকাগুলো দুর্গম-প্রত্যন্ত হওয়ায় হতাহতসহ ক্ষয়ক্ষতির সঠিক তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়াটা কঠিন বলে মন্তব্য করেন পুলিশের কর্মকর্তা গোপাল চন্দ্র।

গোপাল চন্দ্র বলেন, ভূমিকম্পের কারণে রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কিছু রাস্তা অবরুদ্ধ হয়ে পড়েছে। এ অবস্থায় তারা বিকল্প পথ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।

স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেন, ভূমিকম্পের কেন্দ্রের কাছাকাছি এলাকার সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করা সম্ভব হয়নি।

অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পোস্ট করা ছবি-ভিডিওতে দেখা যায়, ভূমিকম্পে অনেক ঘরবাড়ি-ভবন ধসে পড়েছে। রাতের অন্ধকারে ধ্বংসস্তুপের নিচে থাকা লোকজনকে বের করার চেষ্টা করছেন স্থানীয় লোকজন।

ভূমিকম্পে জানমালের ক্ষয়ক্ষতিতে গভীর দুঃখ প্রকাশ করেছেন নেপালের প্রধানমন্ত্রী পুষ্পকমল দহল। এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া এক পোস্টে তিনি দেশটির নিরাপত্তা সংস্থাগুলোকে তাৎক্ষণিক উদ্ধার ও ত্রাণ তৎপরতা শুরুর নির্দেশ দিয়েছেন।

২০১৫ সালে নেপালে ৭ দশমিক ৮ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল। এতে প্রায় ৯ হাজার মানুষ নিহত হয়েছিলেন। আহত হয়েছিলেন ২২ হাজারের বেশি মানুষ। ভূমিকম্পে পাঁচ লাখের বেশি ঘরবাড়ি ধ্বংস হয়েছিল।