ভারত বাংলাদেশকে ২০ লাখ ডোজ করোনার টিকা উপহার পাঠাচ্ছে

4

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে আরেকটি নতুন অধ্যায় যুক্ত হলো। শুভেচ্ছার নিদর্শন স্বরূপ ২০ লাখ ডোজ করোনাভাইরাসের টিকা পাঠানো হচ্ছে বাংলাদেশকে। উপহারের বাইরে সেরামের কাছ থেকে টিকা কেনার জন্য বাংলাদেশ সরকার, বেক্সিমকো ফার্মা ও সেরামের মধ্যে চুক্তিও আছে। এই চুক্তি অনুযায়ী, ২৫ জানুয়ারির মধ্যে ৫০ লাখ টিকা আসার কথা রয়েছে।

উপহার আসছে বৃহস্পতিবার। পূর্বে বলা হয়েছিল ভারত থেকে বাংলাদেশে বুধবার আসবে উপহারের টিকা। ভারতীয় কূটনৈতিক সূত্র আজ মঙ্গলবার এ কথা জানিয়েছে। এদিকে আজ দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, ফ্লাইট শিডিউল অনুযায়ী ভারত থেকে বাংলাদেশে টিকা আসবে। সেটা আগামিকালও হতে পারে, পরের দিনও হতে পারে। ফ্লাইট শিডিউল এখনো জানা যায়নি।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, শুরুতে ইউনিয়ন পর্যায়ে টিকা দেওয়া হবে না। টিকা দেওয়া হবে উপজেলা ও জেলা পর্যায়ে। প্রথম আসা টিকা দেওয়া শুরু হবে ঢাকায়। মন্ত্রী আরও বলেন, দেশের কোনো গুরুত্বপূর্ণ মানুষকে টিকা দেওয়ার মাধ্যমে টিকা কার্যক্রম শুরু হবে না। প্রথমে স্বাস্থ্যকর্মী ও অন্য কর্মীদের মধ্যে টিকা দেওয়া হবে। আজ দুপুর ১২টার দিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে  সভা শেষে মন্ত্রী সাংবাদিকদের এ কথা জানান।

ঢাকা ও দিল্লির কূটনৈতিক সূত্রে গতকাল সোমবার জানা গিয়েছিল, আগামিকাল ভারত থেকে ২০ লাখ টিকা আসছে, তা ভারত সরকার উপহার হিসেবে বাংলাদেশের মানুষকে দিচ্ছে। তারা দ্রুততম সময়ে টিকা দেওয়ার সব ধরনের চেষ্টা চালাচ্ছে। আজ কূটনৈতিক সূত্রে বৃহস্পতিবার টিকা আসার কথা জানানো হলো।

দেশে গত বছরের ৮ মার্চ প্রথম করোনায় সংক্রমিত ব্যক্তি শনাক্ত হয়। গতকাল পর্যন্ত ৫ লাখ ২৯ হাজার ৩১ জন করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছেন। মোট মৃত্যু হয়েছে ৭ হাজার ৯৪২ জনের। করোনায় সংক্রমিত হয়ে সুস্থ হয়েছেন ৪ লাখ ৭৩ হাজার ৮৫৫ জন।

ভারত থেকে আসা করোনাভাইরাসের টিকা সংরক্ষণের জন্য তিনটি বিকল্প জায়গা ঠিক করে রেখেছে সরকার। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক আবুল বাসার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম এ কথা জানিয়েছেন। আজ মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে সাংবাদিকদের এ কথা জানান তিনি। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক জানান, টিকা রাখার জন্য যে তিন স্থানের কথা সরকার ভাবছে, এর মধ্যে আছে রাজধানীর মহাখালীতে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির প্রধান কার্যালয়, তেজগাঁওয়ে সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির নিজস্ব সংরক্ষণাগার এবং তেজগাঁওয়ে কেন্দ্রীয় ওষুধাগার।

করোনাভাইরাসের টিকা ওয়াক ইন কুলে (ছোট ঘরের মধ্যে নির্দিষ্ট তাপমাত্রায় সংরক্ষণ) রাখা হয়। ২৯টি জেলায় ওয়াক ইন কুল আছে। আরও ১৮টি জেলায় টিকা সংরক্ষণের জন্য ওয়াক ইন কুল তৈরি হচ্ছে। আরও বেশি টিকা আসার আগেই এগুলো তৈরি হয়ে যাবে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর মনে করছে।