বিশ্বসেরা ‘স্বামী’ প্রিন্স ফিলিপ

34

তপন সাহা, ইংল্যান্ড থেকে ১৭ এপ্রিল

বিলেতে অনেক পুরুষকেই বলতে শুনেছি, ‘আমিতো প্রিন্স ফিলিপের মত দুহাত পিছনে রেখে বউয়ের সাথে শপিংয়ে যাই’ কথাটাই এমনিতেই প্রচলিত হয়নি। একটা ব্রান্ডেড ছবি সবাই দেখে অভ্যস্ত যে রানী’র প্রত্যেকটা রাজকার্যে প্রিন্স ফিলিপের দুহাত পিছনে রেখে হাঁটার অভ্যাস, যা কারোর নজর এড়াতো না।

আসলেই সদ্য প্রয়াত রানী এলিজাবেথের ৭৩ বছরে জীবন সঙ্গী প্রিন্স ফিলিপের বৃটিশ রাজে নীরব অবদান ঐ স্বামীদের মতই। একদা শরণার্থী গ্রীক-ডেনিশ নাগরিক প্রিন্স ফিলিপ বৃটিশ রাজে জিরো থেকে হিরো হওয়ার গল্পটা একটু অবাক করার মতই।একটু পিছনে মাত্র ১০০ বছর আগে থেকেই শুরু করা যাক।

সোনার চামচ মুখে নিয়ে গ্রীক রাজ পরিবারে জন্ম গ্রহন করা ফিলিপের রাজকীয় জীবন ছিল মাত্র ১৮ মাসের। ঐসময়কার গ্রীক, জার্মান, ডেনমার্ক, বৃটেন ও রাশিয়া’র রাজরাজারা ছিল একে অপরের আত্মীয়। কিন্তু গ্রীক-ডেনিশ রাজবংশ ছিল ইউরোপের সবচেয়ে পুরনো। সেই রাজবংশে জন্মেছিলেন ফিলিপ। টিপ্পনী করে তাই ফিলিপ বলতেন, তার শরীরে বেশী ব্লু ব্লাড তার স্ত্রী এলিজাবেথের থেকে !!

ফিলিপের বাবা এন্ড্রু ও মা এলিসের বিয়ে ছিল শতাব্দীর সেরা বিয়ে যেখানে রাশিয়ার সম্রাট জার নিকোলাস থেকে শুরু করে ইউরোপের সব রাজবংশ যোগদান করে। ভাগ্যের পরিহাস কিনা কে জানে। গ্রীক-তার্কি যুদ্ধের সেই সময়টাতে ফিলিপের মা’র প্রসববেদনা হঠাৎ হওয়ায়  বাড়ির ডাইনিং টেবিলই ফিলিপের জন্ম হয়। জন্মের আঠারো মাসের মাথায়, সেনাবাহিনীর ক্যু’র কারণে ফিলিপের বাবা এন্ড্রু কে কোর্ট মার্শালে অভিযুক্ত করা হয়। তৎকালীন বৃটিশ রাজা পঞ্চম জর্জের তৎপরতার কারণে কোনরকমে  প্রাণ বাঁচিয়ে শরণার্থী হয়ে ফ্রান্সে আশ্রয় নেয় ফিলিপের পরিবার। কথিত আছে সেই ছোট্ট ফিলিপকে ফলের বাক্সে লুকিয়ে আনা হয় ফ্রান্সে।

সেই হিসাবে ফিলিপ গ্রীসের নাগরিক ছিলেন মাত্র ১৮ মাস। গ্রীক ভাষা জানতেন না। একারণেই কিনা, এলিজাবেথ রানী হওয়ার গত ৭০ বছরে শ্বশুর বাড়ি গ্রীস সফর করেননি !!!

ফ্রান্সে বসবাসকালীন মাত্র ৯ বছর বয়সে মা-বাবার ছাড়াছাড়ি হয়ে যায়, বাবা চলে যান মোনাকোর বিনোদন শহর মন্টিকার্লোতে। শুরু করেন বিলাসী জীবন। আর মা এলিস ! একেবারে উল্টো। ধর্মের দিকে ঝুঁকে পড়েন।  মানসিক সমস্যাও ধরা পরে। বড় চার বোনের বিয়ে হয় জার্মান রাজপরিবারের প্রিন্সদের সাথে। সব ছেলেদের মত ফিলিপের কৈশোর জীবনে মা-বাবার আদর ভালবাসা অধরাই রয়ে যায়। তাকে পাঠিয়ে দেয়া হয় ইংল্যান্ডে মায়ের আত্মীয়ের কাছে। আর সেই আত্মীয় হল আমাদের অতি পরিচিত অখন্ড ভারতের লর্ড মাউন্টব্যাটনের পরিবারের কাছে। ভর্তি করা হয় ইংল্যান্ডে কিন্তু স্কুল ফিসের টাকা বাঁচানোর জন্য ৩ বছর পর পাঠিয়ে দেয়া হয় জার্মানীতে নিজ বোনের জামাই কর্তৃক পরিচালিত স্কুলে। ১৯৩৩ সালে হিটলারের নাৎসি বাহিনী ইহুদীদের উপর দমন পীড়ন শুরু করে। সেই স্কুলের ইহুদী প্রতিষ্ঠাতা মি. কার্ট হান চলে আসেন স্কটল্যান্ডে এবং প্রতিষ্ঠা করেন বিখ্যাত গর্ডনস্টোন স্কুল।

কার্ট হান ফিলিপের জীবনের মোড় ঘুরিয়ে দেন তখন। ফিলিপ চলে আসেন গর্ডনস্টোন স্কুলে। মি. কার্ট বেশী জোড় দেন শরীর চর্চা ও খেলাধুলার উপর। ফিলিপ ব্যক্তিত্বের কারণে হয়ে যান স্কুলের ফার্স্ট বয়। খেলাধুলা ও সম্মোহনী ব্যক্তিত্বের কারণে জনপ্রিয় হয়ে উঠেন স্কুলের মধ্যে।

১৮ বছর বয়সে স্কুল শেষ করে নেভিতে ভর্তি হন। পড়াশুনাকালীন শুরু হয় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ। কাকতালীয় ভাবে বৃটিশদের পক্ষে ফিলিপ ভারত সাগরে আর নিজ দুই বোন জামাই যুদ্ধ করছে জার্মানীর হয়ে। তখনও ফিলিপকে গ্রীক বলেই মনে করত বৃটিশ সামরিক বাহিনী, তাই ভুমধ্যসাগরে পাঠায়নি। ১৯৪০ সালে ইটালীর মুসোলিনি বাহিনী গ্রীস আক্রমণ করে, তখনই ফিলিপকে ইটালী ও জার্মানীর বিপক্ষে দায়িত্ব দিয়ে পাঠানো হয় ভুমধ্যসাগরে। শিক্ষা ও যুদ্ধ নৈপুন্যে ১৯৪২ সালে ২১ বছর বয়সে হয়ে যান সবচেয়ে কম বয়সী লেফটেনেন্ট।

১৯৩৯ সালে রাজা ষষ্ঠ জর্জ তের বছর বয়সী মেয়ে এলিজাবেথ ও মার্গারেটকে নিয়ে ডেবন-এ নেভি কলেজ পরিদর্শনে যান। মাউন্টব্যটন তার ভাগ্নে ১৯ বছর বয়সী ফিলিপকে দায়িত্ব দেন রাজকন্যাদের দেখাশুনা করার জন্য। সেই পরিচয়েই কিশোরী এলিজাবেথ প্রেমে পড়েন ফিলিপের। চলে তাদের মধ্যে চিঠি চালাচালি। তাদের সম্পর্ক গভীর হতে থাকে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী সময়ে। কিন্তু বাধা হয়ে দাঁড়ায় রাজপরিবার।

এলিজাবেথের প্রতি তীব্র ভালোবাসা থেকেই ফিলিপ ১৯৪৬ সালে রাজার কাছে গিয়ে সরাসরি তার কন্যাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন।

মেয়ের ভালোবাসা মেনে বিয়ের অনুমতি দিলেও নানা শর্ত দেন রাজা জর্জ। শর্ত মেনেই গ্রিসের নাগরিকত্ব ছেড়ে ব্রিটেনের নাগরিকত্ব ও ইংলিশ নাম গ্রহণ করেন প্রিন্স ফিলিপ। ১৯৪৭ সালের ২০ নভেম্বর বিয়ের পিড়িতে বসেন তারা। ওই দিনই ফিলিপকে খেতাব দেয়া হয় ডিউক অব এডিনবরা। বিবিসি রেডিওর সরাসরি প্রচারিত অনুষ্ঠান শুনে বিশ্বের ২০ কোটি লোক। পরের দিন টিভিতে প্রচাারিত হয়। যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত অর্থনীতির উপর চাপ কমাতে অনেক কৃপণতা করা রাজকীয় সেই বিয়েতে। ২০০০ অতিথি নিমন্ত্রিত হয়।

বিয়েতে জার্মানীতে থাকা তিন বোন ও জামাইদের আনতে পারেননি। কারন যুদ্ধোত্তর জার্মানদের শত্রু হিসেবে দেখা হত বৃটেনে। তবে মাকে ঠিকই এনেছেন।

বিয়ের কয়টা বছর খুব আনন্দে কাটান এ দম্পতি। ১৯৫২ সালে এলিজাবেথ-ফিলিপের কেনিয়া সফরকালেই আকস্মিক খবর আসে রাজা জর্জ আর নেই। ফিলিপকে দায়িত্ব দেয়া প্রিন্সেস এলিজাবেথকে জানানোর। সেই যে রাজপরিবারের দায়িত্ব নিলেন তা ছাড়লেন মাত্র কয়েক বছর আগে বয়সের কারনে।

১৯৫৩ সালে রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ সিংহাসনে আরোহণের পর ফিলিপ নিজের সব স্বপ্ন বিসর্জন দিয়ে রানীর পাশে দাঁড়ান। সাংবিধানিক কোনো দায়িত্ব না থাকলেও তার কাজ ছিল স্ত্রীকে সব কাজে সহযোগিতা ও রাজকীয় দায়িত্ব পালন করা।এই দম্পতির চার সন্তান রয়েছে। কিন্তু নিজের সন্তানদের পিতৃপরিচয়ে পরিচিত করাতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার মনে। যদিও মজা করে বলতেন।

পিতৃহারা হন যুদ্ধকালীন ১৯৪৪ সালে। দেখা হয়নি বাবার সাথে তখন।

মা ভক্ত ছেলে ফিলিপ কিন্তু নিজের বিয়েতে মাকে ইংল্যান্ডে নিয়ে এসেছিলেন। মাকে শেষের দিকে নিজের সাথে ‘বাকিংহাম প্যালেসে’ রেখেছিলেন। ১৯৬৯ সালে মারা যাওয়ার আগে মা তার উদ্দেশ্যে লিখেছিলেন  ‘ডিয়ারেস্ট ফিলিপ, বি ব্রেভ এন্ড রিমেমবার আই উইল নেভার লিভ ইউ, এন্ড ইউ উইল অলওয়েজ ফাইন্ড মি হোয়েন ইউ নিড মি মোস্ট’।

রানীর দায়িত্ব নেয়ার পর চিন্তা করেন কীভাবে যুদ্ধ পরবর্তী অর্থনীতিতে রাজপরিবার সাহায্য করতে পারে। গুরুত্ব দেন বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবসা কৌশলে। শুরু করেন রাজকীয় লবি যা আজও বৃটিশ অর্থনীতিতে বিশাল ভুমিকা পালন। স্টেট ডিনার, চ্যারিটি, রয়েল ভিজিট, কমনওয়েলথ -এসব ক্ষেত্রে রানীকে পিছন থেকে সাহায্য করেছেন। আজও আমেরিকা, চীন, রাশিয়া, আরব ও ভারতের রাষ্ট্রীয় প্রধানরা রানীর সাথে দেখা করে ধন্য হন।

রানী দ্বিতীয় এলিজাবেথ তাদের ৫০তম বিবাহবার্ষিকী’র বক্তব্যে বলেছেন তাঁর সকল কাজে প্রিন্স ফিলিপ উৎসাহ ও সাহায্য করে যাচ্ছেন। প্রিন্স ফিলিপ প্রায় ২২,০০০ রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠানে অংশগ্রহন করেছেন। মেজো ছেলে প্রিন্স এন্ড্রু বলেছিলেন, মা এলিজাবেথ থেকে আদর-সোহাগ বেশী পেলেও বাবা ফিলিপ ভাইবোনদের নিয়মানুবর্তিতা, শৃংখলা ও শাসনে রাখতেন। রানী’র রাজকার্যে যেন কোন ব্যাঘাত না ঘটে, তাই ফিলিপ তাদের বেশী সময় দিতেন। খেলাধুলা, ঘোড়াদৌড়ানো, বারবিকিউ, ফার্মে বেরোনোর শখ বেশী ছিল।

৮০০ চ্যারিটি সংগঠনের হয়ে কাজ করেছেন জীবদ্দশায়। বয়সের কারণে ৪ বছর আগে সকল রাষ্ট্রীয় কাজ থেকে অবসর নিয়েছিলেন।

শিক্ষা গুরু মি. কার্ট হাম এর অনুপ্রেরণায় পরবর্তীতে প্রিন্স ফিলিপ প্রতিষ্ঠা করেন ডিউক অব এডিনবরা এওয়ার্ড স্কিম ১৯৫৬ সালে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশে যুব সমাজকে অভিযাত্রী, শারিরীক ও খেলাধুলায় উদ্বুদ্ধ করার জন্য। বাংলাদেশেও আছে ডিউক অব এডিনবরা এওয়ার্ড। এপর্যন্ত বিশ্বের ৬ লাখ যুবক-যুবতী যুক্ত হয়েছে এই এওয়ার্ড প্রোগ্রামে। অনুজ প্রতীম বন্ধু সুমন সাহা, এখন ইংল্যান্ডে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক। একসময় বাংলাদেশে এই এওয়ার্ড প্র্রোগ্রামের পপ্রান ছিল। তার থেকেই বেশী শুনেছি প্রিন্স ফিলিপের যুব সমাজকে নিয়ে স্বপ্ন।

জলবায়ু’র ভয়াবহতা নিয়ে গত ১৫-২০ বছর বেশী আলোচনা হচ্ছে কিন্তু প্রিন্স ফিলিপ ৬০ বছর আগেই সতর্ক করেছেন বিশ্ববাসীকে। তখন অস্ট্রেলিয়া সফরকালীন সময়ে একটি দ্বীপ পরিদর্শন করে বুঝে গিয়েছিলেন পরিবেশের বিপর্যয় কিভাবে মানুষের শংকার কারণ হয়ে দাঁড়াবে। একারণেই নিজেকে জড়িয়েয়েছেন পরিবেশ সংরক্ষণে। একবার প্রেসিডন্টে হয়েছিলেন বন ও বন্য প্রানী সংরক্ষণের সংগঠন ‘ওয়ার্ল্ড ওয়াইড ফান্ড ফর নেচার (ডব্লিউডব্লিউএফ)’র।

বৃটিশ রাজপরিবারে অন্দরমহলের ছবি ১৯৬৯ সালের আগে নিষিদ্ধ ছিল পারিবারিক গোপনীয়তার জন্য। কিন্তু অন্য দশটা পরিবারের মত নিজের পরিবারকে সবার কাছে তুলে ধরার জন্য ডেকে আনেন এক রয়াল ফটোগ্রাফারকে। বিশ্বে ছড়িয়ে যায় সেই লিভিং রুমের ছবি যেখানে রানী ছেলেমেয়েদের সাথে নিয়ে সাদাকালো টেলিভিশন দেখছেন। ফিলিপের যুক্তি ছিল ‘ইনস্টিড অব স্পেকুলেশন এবাউট রয়েল বেটার টু ওয়াচ’।

সর্বদা হাস্যরসাত্বক কথার ফলঝুরিতে সবাইকে আনন্দ দিতেন। রানীও বাদ পড়েননি।

বৃটিশ রাজপরিবারে রাজার স্ত্রী ‘রাণী’ উপাধি পান কিন্তু রানী’র স্বামী ‘রাজা’ উপাধি পান না। এ নিয়মের কারণে ফিলিপকে প্রিন্স উপাধি নিয়ে থাকতে হয়েছে। এটা নিয়ে মজা করতেন !!

আরেকবার মজা করে বলেছিলেন ৩ ছেলে ও ১ মেয়ে কিন্তু কেউ পিতৃপরিচয়ে বড় হবে না।

প্রায়ই হাস্যচ্ছলে বলতেন, আমি তো শরণার্থী এই দেশে।

কিন্তু,জীবদ্দশায় সবচেয়ে বড় কষ্টটা পেয়েছেন ছেলে প্রিন্স চার্লস ও প্রিন্সেস ডায়নার বিবাহ বিচ্ছেদ এবং পরবর্তীতে ডায়নার মৃত্যু নিয়ে। যদিও মেয়ে প্রিন্সেস এ্যান ও মেজো ছেলের বিবাহ বিচ্ছেদ হয়, তা আড়ালেই চলে যায়। প্রিয় দুই নাতি মা হারা উইলিয়াম ও হ্যারিকে আগলে রেখেছেন।

আজ শনিবার (১৭ এপ্রিল) বিকাল ৩টায় অনুষ্ঠিত শেষকৃত্যে মাত্র ৩০ অতি ঘনিষ্টজন উপস্থিত ছিলেন। পরিবারের সদস্যদের জায়গা দিতে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন শেষকৃত্যে যাননি। ভক্তদের উইন্ডসরে ভীড় না করে টেলিভিশনে সরাসরি দেখার অনুরোধ করা হয়। যদিও গত ৭ দিনে হাজারো ফুলেল শুভেচ্ছায় উইন্ডসর প্রাসাদের গেট ভরে আছে।

সব বিশ্বনেতাদের শোক প্রকাশ দেখেই বুঝা যায় কত বড় স্থানে ছিলেন প্রয়াত প্রিন্স ফিলিপ।

প্রিন্স ফিলিপের নিজের ডিজাইন করা ল্যান্ড রোভার গাড়িতে ছিল কফিন । কোভিড না থাকলে হয়ত বিশ্বনেতারা হাঁটতেন সেই কফিনের পিছনে শ্রদ্ধা ও ভালবাসায় বিদায় জানানোর জন্য।

এমন অদম্য সাহসী নাবিক, মানবিক ও সুশৃংখল স্বামী, বাবা, বন্ধু ও কিছু দেশে দেবতুল্য এই মানুষটি কতই না জনপ্রিয়তা ও ভালবাসা নিয়ে প্রায় ১০০ বছর ইহলোকে কাটিয়ে পরপারে চলে গেলেন। বুঝিয়ে দিয়ে গেলেন শরণার্থী হয়েও কিভাবে বিশ্বসেরা স্বামী হওয়া যায়।