বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে করোনার থাবা বিস্তৃত হচ্ছে, মৃত্যু ১৬ হাজার পেরিয়ে গেল

2

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে কঠোর বিধিনিষেধ (লকডাউন) আরোপ করা সত্বেও করোনা প্রতিদিনই ভয়ংকর থাবা বিস্তার করছে। গত ২৪ ঘণ্টায় করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ২১২ জনের মৃত্যু হয়েছে। এনিয়ে দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়ালো ১৬ হাজার ৪ জনে। গত ১৩ দিন ধরে করোনায় শতাধিক মৃত্যু দেখছে বাংলাদেশ। এর আগে গত ৭ জুলাই দেশে সর্বোচ্চ ২০১ জন মারা গিয়েছিল।

শুক্রবার (০৯ জুলাই) স্বাস্থ্য অধিদফতরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. নাসিমা সুলতানা স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত ২৪ ঘণ্টায় ১১ হাজার ৩২৪ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে দেশে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল ১০ লাখ ৫৪৩ জনে।

গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৯ হাজার ২০৯ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হলেও পরীক্ষা করা হয়েছে ৩৬ হাজার ৫৮৬টি নমুনা। যেখানে শনাক্তের হার ৩০ দশমিক ৯৫ শতাংশ। এ পর্যন্ত শনাক্তের মোট হার ১৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

দেশের আটটির মধ্যে সাতটি বিভাগেই করোনাভাইরাসে সংক্রমিত ব্যক্তির নমুনা থেকে জিনোম সিকোয়েন্সে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট পাওয়া গেছে। জার্মানির গ্লোবাল ইনিশিয়েটিভ অন শেয়ারিং অল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডেটার (জিআইএসএআইডি) তথ্য অনুযায়ী, দেশের সাতটি বিভাগে এখন পর্যন্ত ১৫০টি নমুনায় ভারতীয় ডেল্টা ভ্যারিয়েন্ট বি ১৬১৭ পাওয়া গেছে। ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টের সামাজিক সংক্রমণে জর্জরিত এখন পুরো দেশ। ইতোমধ্যে রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান (আইইডিসিআর) জানিয়েছে, বর্তমান সংক্রমণে ডেল্টা ভ্যারিয়েন্টই বেশি।

স্বাস্থ্য অধিদফতরের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত ১ জুলাই নতুন করে ৮ হাজার ৩০১ জনের শরীরে ভাইরাসটির উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে। এরপর ২ জুলাই ৮ হাজার ৪৮৩ জন, ৩ জুলাই ৬ হাজার ২১৪ জন, ৪ জুলাই ৮ হাজার ৬৬১ জন, ৫ জুলাই ৯ হাজার ৯৬৪ জন, ৬ জুলাই ১১ হাজার ৫২৫ জন, ৭ জুলাই ১১ হাজার ১৬২ জন, ৮ জুলাই ১১ হাজার ৬৫১ জন এবং ৯ জুলাই ১১ হাজার ৩২৪ জন আক্রান্ত শনাক্ত হয়েছেন। অর্থাৎ গত নয় দিনে করোনায় আক্রান্ত রোগী শনাক্ত হয়েছেন ৮৭ হাজার ২৮৫ জন।