বিদায়ের আগে চীনের বিরুদ্ধে নতুন পদক্ষেপ নিলেন ট্রাম্প

6

আটটি চীনা অ্যাপের মাধ্যমে লেনদেন নিষিদ্ধ করলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড  ট্রাম্প। গত মঙ্গলবার ওই অ্যাপগুলোর সঙ্গে লেনদেন নিষিদ্ধ করার একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন তিনি। বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, আগামি ৪৫ দিনের মধ্যে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হবে। জাতীয় সুরক্ষার জন্য হুমকি হওয়ায় এগুলো নিষিদ্ধ করা হচ্ছে। অবশ্য তত দিন আর প্রেসিডেন্ট থাকবেন না ডোনাল্ড  ট্রাম্প। নির্বাচনে জয়ী জো বাইডেনকে ক্ষমতা হস্তান্তর করে দিতে হবে।

অ্যাপগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো আলিপে, কিউ কিউ ওয়ালেট, উইচ্যাট পে, টেনসেন্ট কিউ কিউ, ক্যামস্ক্যানার, শেয়ারইট, ভিমেট ও ডব্লিউপিএস অফিস। অভিযোগ উঠেছে, এই অ্যাপগুলো মার্কিন কর্মকর্তাদের ওপর নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে।

নির্বাহী আদেশে বলা হয়, আমাদের জাতীয় সুরক্ষা রক্ষার স্বার্থে চীনা সফটওয়্যার অ্যাপ্লিকেশনগুলোর বিকাশ নিয়ন্ত্রণ করে অবশ্যই আক্রমণাত্মক পদক্ষেপ নেবে যুক্তরাষ্ট্র। স্মার্টফোন, ট্যাবলেট ও কম্পিউটারের মতো ব্যক্তিগত ইলেকট্রনিক ডিভাইসগুলো ব্যবহার করে চীনা অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীর সংবেদনশীল ব্যক্তিগত তথ্য নিয়ে নিতে পারে।

শেষবেলায় এসে চীনের ওপর তীব্রভাবেই চাপ প্রয়োগ করছে  ট্রাম্প প্রশাসন। চীন সরকারের সঙ্গে ডেটা ভাগ করতে পারে এমন যুক্তি দিয়ে বিভিন্ন চীনা সংস্থার বিরুদ্ধে নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন ট্রাম্প। চীনা সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপ টিকটক এবং টেলিকম জায়ান্ট হুয়াওয়ে বারবারই ট্রাম্পের রোষানলে পড়েছে। এমনকি ট্রাম্প প্রশাসন টিকটক ও উইচ্যাট নিষিদ্ধ করার নির্বাহী আদেশ জারি করেছে। তবে এ বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে এবং এগুলো এখন যুক্তরাষ্ট্রে চালু আছে। তাই এই নিষেধাজ্ঞা বন্ধ করা হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন উত্থাপিত হয়। এদিকে চীনা অ্যাপ নিয়ে এই ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হলেও এ ব্যাপারে জো বাইডেনের সঙ্গে আলোচনা করা হয়নি বলে জানিয়েছেন হোয়াইট হাউসের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা। এ বিষয়ে বাইডেন প্রশাসন তৎক্ষণাৎ কোনো মন্তব্যও করেনি বলে নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

অন্যদিকে চীন বারবারই এই অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। সেই সঙ্গে সামরিক প্রযুক্তির রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ করে আইন পাস করে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে।