বাসের টিকেটে আঁকা ছবি আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায়

19

সংবাদদাতা।। ছবিগুলো খুব চেনা। কেউ বাসের হাতল ধরে দাঁড়িয়ে আছেন, কেউ সিটে বসে ঝিমোচ্ছেন। ছবির ওপরে যে বাক্যগুলো লেখা, সেগুলোও চমকপ্রদ। যেমন-‘বয়স যদি ৩, পুরো ভাড়া দিন’। কিংবা ‘টিকিটটা দেখান’, ‘পকেটমার হইতে সাবধান’, ইত্যাদি। এই সব লিখে-এঁকে দারুণ এক চিত্রকর্ম তৈরি করেছেন ইমতিয়াজ ইসলাম। আন্তর্জাতিক একটি প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত পর্বে আছে তাঁর এই শিল্প।

কলকাতাকে বলা হয় ‘সিটি অব জয়’। বাংলায় যার অর্থ দাঁড়ায়-আনন্দের শহর। সেই শহরের প্রতিদিনের বাসযাত্রায় একটা অন্য রকম গল্প খুঁজে পেয়েছিলেন বাংলাদেশের চিত্রশিল্পী ইমতিয়াজ ইসলাম। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে স্নাতক শেষ করে ২০১৮ সালে কলকাতার রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তর করতে যান তিনি। কলকাতায় বিভিন্ন স্থানে বাসে করে যাওয়া-আসার সময় বাসের কন্ডাক্টরের হাঁক-ডাক, সহযাত্রীদের বেশভূষা আর আচরণে শহরের পথে-পথে শিল্পের উপাদান খুঁজে পেয়েছিলেন ইমতিয়াজ। যাত্রাপথের সেই গল্পগুলো বাসের টিকেটের গায়ে আঁকা শুরু করেন তিনি। ইমতিয়াজ বলেন, শখের বশে আমার টিকেট জমানোর অভ্যাস আছে। কলকাতার লোকাল বাসে দেওয়া টিকেটগুলোও আমি সংগ্রহ করতাম। এরপর মনে হলো, বাসে যাওয়া-আসার পথের গল্পগুলো টিকেটের ওপর আঁকা যায়।

এভাবে বেশ কিছু টিকেটের গায়ে ছবি এঁকে ফেলেন ইমতিয়াজ। মাথায় আসে নতুন ভাবনা। সবগুলো টিকেট একসঙ্গে জুড়ে দিয়ে বানিয়ে ফেলেন একটি বাসের অবয়ব, পেছনে কলকাতার মানচিত্র। সব মিলিয়ে ইমতিয়াজ ইসলাম এই চিত্রকর্মের নাম দিয়েছেন ‘জার্নি বাই বাস’। ইমতিয়াজ জানালেন, পুরো চিত্রকর্মটি বানাতে তাঁর সময় লেগেছে প্রায় এক বছর।

তরুণ এই শিল্পীর চিত্রকর্মটি সোভেরিয়ান এশিয়ান আর্ট প্রাইজ ২০২১ এর চূড়ান্ত পর্বে মনোনয়ন পেয়েছে। হংকংভিত্তিক দাতব্য সংস্থা সোভেরিয়ান আর্ট ফাউন্ডেশন ২০০৩ সাল থেকে এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের তরুণ শিল্পীদের জন্য এই প্রতিযোগিতার আয়োজন করে। এবারের প্রতিযোগিতায় চূড়ান্ত  ৩০টি চিত্রকর্মের মধ্যে বাংলাদেশের একমাত্র প্রতিযোগী হিসেবে ইমতিয়াজের কাজটি স্থান পেয়েছে। বাংলাদেশের অগ্রজ শিল্পী তৈয়বা বেগমের প্রাথমিক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে তিনি বাংলাদেশ থেকে মনোনীত হয়েছিলেন।

আয়োজক সংস্থাটির ওয়েবসাইট থেকে জানা যায়, চূড়ান্ত পর্বের ৩০টি চিত্রকর্ম থেকে তিনটি সেরা চিত্রকর্মকে পুরস্কৃত করা হবে। এ ছাড়া প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ীসহ ৩০ জন নির্বাচিত শিল্পীর শিল্পকর্ম নিলামে তোলা হবে। নিলাম থেকে প্রাপ্ত অর্থের একটি অংশ পাবে সুবিধাবঞ্চিত শিশুরা। সেরা তিন বিজয়ীর মধ্য থেকে একজন নির্বাচিত হবেন সাধারণ মানুষের অনলাইন ভোটের ভিত্তিতে।