বাগেরহাটে হেফাজতের হামলায় তিন পুলিশ আহত

3

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাগেরহাটের মোল্লাহাটে হেফাজতে ইসলামের কর্মীদের হামলায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাসহ (ওসি) তিন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। সোমবার (১৯ এপ্রিল) বেলা ১১টার দিকে মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স মোড়ে এই ঘটনা ঘটে। হেফাজত নেতা মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে কর্মী-সমর্থকেরা মিছিল করার চেষ্টা করলে পুলিশ ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর হেফাজতের কর্মী-সমর্থকেরা পুলিশের ওপর হামলা চালান।

আহত তিনজন হলেন মোল্লাহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কাজী গোলাম কবির, উপপরিদর্শক (এসআই) ঠাকুর দাস ও সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) বাহারুল। তাদের মোল্লাহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থক উপজেলার বিভিন্ন মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষকেরা সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতাল মোড়ে জড়ো হন। হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে তারা মিছিলের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। খবর পেয়ে ওসিসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের কাছে জড়ো হওয়ার কারণ জানতে চায়। পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। তখন তারা পুলিশের ওপর ইট-পাটকেল নিক্ষেপ শুরু করেন।

খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গেছেন বাগেরহাটের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ ও প্রশাসন) মীর মোহাম্মদ শাফিন মাহমুদ। তিনি বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মামুনুল হককে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে হেফাজতে ইসলামের কর্মী-সমর্থকেরা এখানে একটি মিছিল করার চেষ্টা করছিল। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত সেখানে যায় এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের ছত্রভঙ্গ করে। সে সময় তারা পুলিশকে লক্ষ্য করে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করলে ওসিসহ তিন পুলিশ সদস্য আহত হন। ঘটনার পর ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক আছে। জানা গেছে, হেফাজত নেতা মামুনুল হকের নানা বাড়ি বাগেরহাটের মোল্লাহাট উপজেলার উদয়পুর এলাকায়।

চাঁদপুরে ইউপি কার্যালয়ে হামলা

হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হককে গ্রেফতারে ক্ষুব্ধ হয়ে তার সমর্থকরা চাঁদপুরের কচুয়ার ৬নং উত্তর ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয়ে হামলা করেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। রোববার  রাতে প্রায় দেড় শতাধিক হেফাজত সমর্থক নেতাকর্মী তেতৈয়া গ্রামে অবস্থিত ইউপি ভবনে এ হামলা ও ভাঙচুর করে বলে জানা গেছে। এ ঘটনায় তিন জনকে গ্রেফতার করে সোমবার কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। কচুয়া থানার ওসি মোহাম্মদ মহিউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

প্রত্যক্ষদর্শী গ্রাম পুলিশ নারায়ণ চন্দ্র বলেন, আমি ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের ভেতরে অবস্থান করছিলাম। হঠাৎ হেফাজত সমর্থিত নেতাকর্মীরা ইউপি ভবনের সামনে ও চারপাশে ভাঙচুর চালায়। ইউপি সচিব মোহাম্মদ মফিজুর রহমান বলেন, রোববার রাতে প্রায় দেড় থেকে দুই শ’ হেফাজত সমর্থিত নেতাকর্মী উজানী, দারচর ও খিড্ডা এলাকা থেকে জড়ো হয়ে সরকারি ইউপি ভবনে রাষ্ট্রীয় মালামাল, দরজা-জানালা ও ভবন ভাঙচুর করে। এ ঘটনায় সোমবার ১২ জনের নাম উল্লেখ ও ৪০-৫০ জনকে অজ্ঞাত আসামী করে কচুয়া থানায়  মামলা (১৬) দায়ের করা হয়েছে।