বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে দোকানঘর দখলের অভিযোগ

5

পটুয়াখালী থেকে উত্তম কুমার দাস।। ১৬ জানুয়ারি।। পটুয়াখালীর বাউফল উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানের দাবি অনুযায়ী ৬ লাখ টাকা চাঁদা না পেয়ে সোনার দোকানে তালা লাগিয়ে জমিসহ দোকান ঘর দখল করা হয়েছে। এর প্রতিবাদে আজ শনিবার পটুয়াখালী প্রেসক্লাবে বাউফল উপজেলার বগা বন্দরের বাসিন্দা ব্যবসায়ী গোপাল কর্মকার সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে এ অভিযোগ করে পুরো ঘটনা তুলে ধরেন।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, বগা বন্দরের ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন তার রেকর্ডীয় ও দখলীয় ৬ শতাংশ জমির উপর টিনসেড বিল্ডিং ঘর নির্মাণ করে ১৪ বছর যাবত জুয়েলার্স দোকান করে আসছি। ২০১৯ সনের ৩০ অক্টোবর বাউফল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদারের নেতৃত্বে তার ছেলে মাহামুদ হাসান একদল সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে বাসায় ঢুকে হামলা চালায় এবং ৬ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে। চাঁদা টাকা না দিলে ইন্ডিয়ায় চলে যেতে বলে, তা নাহলে জমি দলিল করে দিতে বলে  জীবন নাশের হুমকি দেয়। আমি তাদের ভয়ে আবদুল মালেক খানের নিকট দোকান ঘর ভাড়া দিয়ে এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে যাই। এ ঘটনার পর মোতালেব হাওলাদার ও তার ছেলে মাহামুদ হাসানসহ সন্ত্রাসীরা ২০২০ সালের ১৫ জানুয়ারি অস্ত্র শস্ত্র নিয়ে ভাড়াটিয়াকে ঘর থেকে বেড় করে মালামাল লুট করে নিয়ে দোকানসহ বসতঘরে তালা মেরে দেয়। এ সন্ত্রাসী ঘটনার প্রতিকার চেয়ে  আমি একই বছরের ১৩ ফেব্রুয়ারি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর বরাবরে আবেদনের মাধ্যমে বিচার দাবি করি। এ ছাড়াও আমি ১৮.১১.২০২০ ইং তারিখ পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে মাহামুদ হাসানসহ চার জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করি। বিজ্ঞ আদালত মামলাটি এজাহার হিসাবে গণ্য করার জন্য বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ প্রদান করেন।

এ ব্যাপারে বাউফল উপজেলা চেয়ারম্যান মোতালেব হাওলাদার বলেন, আমি ও আমার ছেলে এ ঘটনার সাথে জড়িত নই। আমি জানি ওর  (গোপাল কর্মকার) কাছে এলাকার লোকজন ও ব্যাংক বহু টাকা পায়, তারাই তালা মারছে। ও এসে লোকজনের টাকা দিয়ে দোকান খুলে ব্যবসা করতে বলেন। আমরা সহযোগিতা করবো। পটুয়াখালী বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ২য় আদালতে মামলার বিষয়টি জানেন না বলে জানান মোতালেব হাওলাদার।

পটুয়াখালী জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি অতুল চন্দ্র দাস ও সাধারণ সম্পাদক উত্তম কুমার দাস এক বিবৃতিতে উক্ত ঘটনার তীব্র নিন্দা ও বিচার দাবি করেছেন।