বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের কাছে টিকা চেয়েছে, তবে অনুরোধ রাখতে পারছে না বৃটিশ সরকার

8

ডেস্ক রিপোর্ট।। করোনাভাইরাসের টিকার সংকট দেখা দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে টিকা চেয়েছে বাংলাদেশ। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ বেড়ে যাওয়ার অক্সফোর্ড উদ্ভাবিত টিকা রপ্তানি বন্ধ করে দিয়েছে ভারত। এর ফলে বাংলাদেশও আপাতত ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটের টিকা পাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাজ্যের কাছে টিকা চাওয়া হয়েছে বলে জানান পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন। তবে যুক্তরাজ্য তাদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা নেই বলে বাংলাদেশের এই অনুরোধ খারিজ করে দিয়েছে।

যুক্তরাজ্যের টেলিভিশন আইটিভিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে একথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি দেশের টিকা পরিস্থিতিকে ‘সংকটজনক’ বলে উল্লেখ করেন। এ সময় তিনি বলেন, আমরা টিকা পেতে মরিয়া। পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ভারত ভয়ংকর সংকটময় মুহূর্ত পার করছে। দেশটির করোনা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। আমরা এই পরিস্থিতি বুঝতে পারছি। ফলে তারা যে পরিমাণ টিকা সরবরাহের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা পূরণে ব্যর্থ হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রায় ১৬ লাখ মানুষকে অক্সফোর্ডের টিকার প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে, যাদের ১২ সপ্তাহের মধ্যে এই টিকার দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা। কিন্তু সেরামের কাছ থেকে টিকা না আসায় ১৬ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজ দিতে পারছে না কর্তৃপক্ষ।

আব্দুল মোমেন বলেন, যুক্তরাজ্যের কাছ থেকে বাংলাদেশ ১৬ লাখ ডোজ টিকা চেয়েছে। বাংলাদেশ সরকার সরাসরি যুক্তরাজ্য সরকারের কাছ থেকে এই পরিমাণ টিকা চেয়েছে। কিন্তু তাদের টিকা উৎপাদনের সক্ষমতা নেই বলে বাংলাদেশের এই আবেদন খারিজ করেছে ব্রিটিশ সরকার। তা সত্বেও আমরা বিশ্বাস করি, যুক্তরাজ্য সরকার চেষ্টা করলে এই পরিমাণ টিকার ব্যবস্থা করতে পারবে। আমরা মনে করি, তাদের সেই সামর্থ্য আছে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যুক্তরাজ্য সরকারের প্রতি অনুরোধ, তারা যেন আন্তরিকতার সঙ্গে চেষ্টা করে। তাদের উচিত, কমনওয়েলথভুক্ত দেশগুলোকে সাহায্য করা। তিনি বলেন, বাংলাদেশ যুক্তরাজ্যের ভালো বন্ধু। অনেক বাংলাদেশি যুক্তরাজ্যের অর্থনীতিতে অবদান রাখছেন। তাই যুক্তরাজ্যের উচিত এগিয়ে আসা। আমরা অনেক টিকা চাইছি না। আমরা শুধু অ্যাস্ট্রাজেনেকার ১৬ লাখ ডোজ চাইছি। যে টিকা যুক্তরাজ্যের আছে।

এদিকে ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যাচ্ছে, সরকার অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকার প্রথম ডোজের ১৬ সপ্তাহ পর দ্বিতীয় ডোজ দেওয়ার কথা ভাবছে। টিকা প্রয়োগ ব্যবস্থাপনার সুবিধার্থে দুই ডোজের মধ্যকার সময় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। জানা গেছে, এ পর্যন্ত ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউটের টিকার (কোভিশিল্ড) প্রথম ডোজ দেওয়া হয়েছে ৫৮ লাখ ১৯ হাজার ৯১২ জনকে। দ্বিতীয় ডোজ দেওয়া হয়েছে ৩৯ লাখ ৩০ হাজার ৭৫১ জনকে। ১৮ লাখ ৮৯ হাজার ১৬১ জন দ্বিতীয় ডোজের অপেক্ষায় আছেন। এদের মধ্যে ১৬ লাখ মানুষকে দ্বিতীয় ডোজের টিকা দেওয়ার মতো হাতে নেই। ভারত থেকে চুক্তি অনুযায়ী অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রোজেনেকার টিকা এসেছে ৭০ লাখ ডোজ। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উপহার হিসেবে পাঠিয়েছেন দুই দফায় ৩০ লাখ ডোজ। ভারতের সেনাবাহিনীর পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে ১ লাখ।

দেড় সপ্তাহ আগে চীন থেকে উপহার হিসেবে ৫ লাখ ডোজ টিকা এসেছে। গতকাল চীন আরও ৬ লাখ ডোজ টিকা দেওয়ার কথা জানিয়েছে।