বাংলাদেশ প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী : প্রধানমন্ত্রী

4

। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।।  প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সশস্ত্র বাহিনী দিবস উপলক্ষে আজ শনিবার (২১ নভেম্বর) সন্ধ্যায় বেতার ও টেলিভিশনে দেওয়া এক ভাষণে বলেন, দেশের অবকাঠামো উন্নয়নে সশস্ত্র বাহিনী গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে। করোনায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশের যে কোনো ক্রান্তিলগ্নে সর্বোচ্চ নিষ্ঠা ও আত্মত্যাগের মাধ্যমে দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা। অতীতে যে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় দক্ষতা দেখিয়েছেন সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, প্রতিবেশী সকল রাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে আমরা বিশ্বাসী। তবে যে কোন আগ্রাসী আক্রমণ থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য আমরা সদা-প্রস্তুত ও দৃঢ় সংকল্পবদ্ধ। সে লক্ষ্যকে সামনে রেখে বঙ্গবন্ধুর প্রতিরক্ষানীতি ১৯৭৪-এর আলোকে আমরা ফোর্সেস গোল-২০৩০ প্রণয়ন করেছি। তারই ধারাবাহিকতায় সশস্ত্র বাহিনীকে সাংগঠনিকভাবে পুনর্গঠন, উন্নত প্রশিক্ষণ প্রদান এবং বিশেষায়িত সামরিক সজ্জায় সজ্জিত করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিগত এক দশকে আমরা সশস্ত্র বাহিনীর প্রতিটি শাখাকে আধুনিক সমরাস্ত্র এবং উপকরণ দ্বারা সমৃদ্ধ করেছি। আমি দৃঢ়তার সঙ্গে বলতে চাই, আমাদের সরকারের আমলে সশস্ত্র বাহিনী যে পরিমাণ আধুনিকায়ন হয়েছে অতীতে কোন সময়েই তা হয়নি।

শেখ হাসিনা বলেন, কোভিড-১৯ মহামারি মোকাবিলায় সম্মুখসারির যোদ্ধা হিসেবে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ‘লকডাউন কার্যক্রম’ বাস্তবায়ন করেছে। সাধারণ জনগণের মধ্যে মহামারি প্রতিরোধে সচেতনতা সৃষ্টি এবং বিদেশ থেকে আগত ব্যক্তিবর্গের জন্য কোয়ারেন্টাইন সেন্টার স্থাপন ও পরিচালনা করে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, ঢাকার সমন্বিত করোনাভাইরাস চিকিৎসা ব্যবস্থাপনা দেশের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্বব্যাপী প্রশংসিত হয়েছে। করোনাকালে দুস্থ ও অসহায় মানুষের সাহায্যার্থে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর নানাবিধ কার্যক্রমও অত্যন্ত প্রশংসা কুড়িয়েছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে চিকিৎসা সামগ্রী নিয়ে মালদ্বীপে নৌবাহিনীর জাহাজ পাঠানোর কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা, বাধ্যতামূলক হোম কোয়ারেন্টাইন নিশ্চিত করা এবং দুস্থ ও অসহায় পরিবারদের মানবিক সহায়তা প্রদানে কাজ করে যাচ্ছে বাংলাদেশ নৌবাহিনী। এ ছাড়া জাতিসংঘে নিয়োজিত বাংলাদেশ নৌবাহিনী জাহাজ ‘বিজয়’ লেবাননের বৈরুতে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর মধ্যে খাদ্য ও ত্রাণ সামগ্রী বিতরণ করে।

দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে করোনা আক্রান্ত জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, শিক্ষক, বিশিষ্টজনসহ অনেক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বিমানবাহিনীর হেলিকপ্টার ঢাকায় স্থানান্তর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আটকে পড়া দেশি-বিদেশি নাগরিকদের স্বদেশে প্রত্যাবর্তনের জন্য বাংলাদেশ বিমানবাহিনী ১৭টি ফ্লাইট পরিচালনা করেছে। এ ছাড়া মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশিদের করোনা চিকিৎসা সেবা প্রদানের জন্য বাংলাদেশ সশস্ত্র বাহিনীর একটি মেডিকেল টিম মালদ্বীপে পাঠানো এবং লেবাননে সংঘটিত ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সেখানে মানবিক কার্যক্রম পরিচালনা করে বিমানবাহিনী।

করোনা আক্রান্ত হয়ে মৃতদের আত্মার মাগফিরাত কামনা ও পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবিলা করতে গিয়ে সশস্ত্র বাহিনীর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন এবং বেশ কয়েকজন মৃত্যুবরণ করেছেন। যাঁরা অসুস্থ, তাঁদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন তিনি।