বাংলাদেশ চুক্তি অনুযায়ী টিকা পাঠাতে ভারতকে অনুরোধ জানিয়েছে

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে শিগগিরই চুক্তি অনুযায়ী অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা পাঠানোর জন্য ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করকে অনুরোধ করেছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। ভারত আগামি অক্টোবরের আগে করোনাভাইরাসের টিকার বড় চালান পাঠাতে পারবে না বিভিন্ন এমন খবরের মধ্যে ড. মোমেন মঙ্গলবার (১৮ মে) টেলিফোনে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে এ অনুরোধ করেন। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে  বলা হয়, ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশে অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার দ্বিতীয় ডোজের চাহিদাসহ বাংলাদেশের অবস্থান সম্পর্কে অবগত আছেন বলে জানান। ড. মোমেন বলেন, ভারত যেহেতু সময় মতো  টিকা দিতে পারেনি, সেজন্য বাংলাদেশকে দ্রুত টিকা পাঠানোর জন্য তিনি ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করেছেন। বাংলাদেশকে টিকা প্রদানের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ করতে পারেন বলে ড. মোমেন উল্লেখ করেন। এস জয়শঙ্করও এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরাধ করবেন বলে জানান।

ভারতের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান সেরাম ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার কাছ থেকে তিন কোটি ডোজ টিকা কেনার চুক্তি করেছিল বাংলাদেশ। এর মধ্যে এ পর্যন্ত দুই চালানে ৭০ লাখ পাওয়া গেছে।

রয়টার্সের এক খবরে বলা হয়, অন্তত অক্টোবরের আগ পর্যন্ত  ভারত অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা রপ্তানি করতে পারবে না। কারণ, তারা এখন নিজের দেশের মানুষকে আগে টিকা দেবে। সরকারি তিনটি সূত্রের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থাটি এ তথ্য জানায়। এত দীর্ঘ সময় ধরে টিকার চালান বন্ধ থাকলে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকার আমদানিকারক দেশগুলোর পাশাপাশি বৈশ্বিক কোভ্যাক্স উদ্যোগ প্রভাবিত হতে পারে। টিকার ন্যায্য বণ্টনে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নেতৃত্বাধীন এ উদ্যোগে ১৯০টির মতো দেশ রয়েছে।

অক্সফোর্ড ইউনিভার্সিটির সঙ্গে যৌথভাবে টিকাটি উদ্ভাবন করেছে যুক্তরাজ্য-সুইডেনভিত্তিক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান অ্যাস্ট্রাজেনেকা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা ভারতে ‘কোভিশিল্ড’ নামে উৎপাদন করছে দেশটির সেরাম ইনস্টিটিউট। সেরাম ইনস্টিটিউট বিশ্বের সর্ববৃহৎ টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান।

ওদিকে বাংলাদেশকে টিকা প্রদানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অনুরোধ জানিয়ে প্রবাসী বাংলাদেশি চিকিৎসক, প্রকৌশলী, অধ্যাপকসহ সেদেশে প্রতিষ্ঠিত বিভিন্ন স্তরের ১০১৪ জন প্রবাসী বাংলাদেশি-আমেরিকানদের সই করা একটি আবেদন হোয়াইট হাউজে পাঠানো হয়েছে। প্রবাসী বাংলাদেশিরা জানান, তারা অসমর্থিত সূত্রে জানতে পেরেছেন যে, বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্তের হার ও মৃতের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম থাকায় বাংলাদেশ অগ্রাধিকার তালিকায় নেই। যেসব দেশে আক্রান্ত ও মৃতের সংখ্যা বেশি সেসব দেশ যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার তালিকায় রয়েছে।