বাংলাদেশ অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে : শেখ হাসিনা

7

সংবাদদাতা।। প্রধানমন্ত্রী আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে বাংলাদেশের জন্য গণতন্ত্রের জন্য যুগান্তকারী ঘটনা বলে উল্লেখ করেছেন তিনি আরও বলেছেন, কোনো নির্বাচন যে অবাধ, সুষ্ঠু হতে পারে সেই দৃষ্টান্ত আমরা সৃষ্টি করতে পেরেছি

বিরোধী প্রধান শক্তি বিএনপি তাদের প্রধান সহযোগী একাত্তর সালের যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামিসহ কয়েকটি দলের বর্জন সহিংসতা চালিয়ে প্রতিরোধ করার চেষ্টার মধ্যে জানুয়ারি রোববার অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নিরঙ্কুশ বিজয়ের পর সোমবার ( জানুয়ারি) দেশিবিদেশি সাংবাদিক পর্যবেক্ষকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধানমন্ত্রী কথা বলেন বিকেলে গণভবনে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয় নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলাফলে দেখা যাচ্ছে ২৯৯ আসনের মধ্যে আওয়ামি লিগ ২২৩, জাতীয় পার্টি ১১ স্বতন্ত্ররা ৬২ আসন পেয়েছেন বাদবাকি অন্যান্য একটি আসনে নির্বাচন হয়নি এক স্বতন্ত্র সদস্যের মৃত্যুর কারণে একটি খবরে বলা হয়েছে, ১৫ জানুয়ারির মধ্যে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে এর আগে ১০ জানুয়ারি জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের দিন শপথ নেয়ার কথা বলা হয়েছিল এদিকে বিএনপি তাদের সহযোগীরা দুদিনের নতুন প্রতিবাদের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে   

মতবিনিময়ে শেখ হাসিনা প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে বলে উল্লেখ করে বলেন, কোনো দল যদি নির্বাচনে অংশ না নেয়, তার মানে এই নয় যে গণতন্ত্র নেই

বাংলাদেশের নির্বাচন গণতন্ত্র নিয়ে বিবিসির সাংবাদিক সামিরা হুসেইন প্রধানমন্ত্রীকে প্রশ্ন করেন, আপনি প্রধান বিরোধী দলকে ২০১৮ সালের পর থেকে আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করেননি তাদের অনুপস্থিতিতে গতকালের নির্বাচনে বিজয়ী হয়েছেন যেখানে ৬০ শতাংশ মানুষ ভোট দেননি গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া সীমিত করা হয়েছে বলে মানবাধিকারকর্মীরা আপনার সরকারের সমালোচনা করছেন আপনি কি বিশ্বাস করেন যে বাংলাদেশে একটি গতিশীল গণতন্ত্র থাকবে, যেখানে কোনো বিরোধী দল নেই ?

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি দলের নিজেদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার আছে সেখানে যদি কোনো দল নির্বাচনে অংশ না নেয়, তার মানে এই না যে গণতন্ত্র নেই আপনাকে বিবেচনা করতে হবে মানুষ অংশ নিয়েছেন কি না আপনি যে দলের (বিএনপি) কথা বলেছেন, তারা আগুন দেয়, মানুষ হত্যা করে কিছুদিন আগে ট্রেনে আগুন দিয়ে মানুষ মেরেছে এটা কি গণতন্ত্র ? এটা সন্ত্রাসী কর্মকান্ড মানুষ এটা গ্রহণ করে না ধরনের ঘটনা দেশে একাধিকবার ঘটেছে আমরা ধৈর্য দেখিয়েছি মানুষের অধিকারকে রক্ষা করতে হবে

বিরোধী দলবিহীন নির্বাচন এবং অর্ধেকের কম ভোট পড়া নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যদি এখানে গণতন্ত্রের আর কোনো সংজ্ঞা থাকে, সেটা ভিন্ন মানুষের অংশগ্রহণই বড় কথা প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিএনপি মানুষকে নির্বাচনে ভোট না দিতে উৎসাহিত করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু মানুষ তাদের কথা শোনেননি

প্রধানমন্ত্রী বিবিসির সাংবাদিককে পাল্টা বলেন, বিএনপি কত মানুষ মেরেছে, সে প্রশ্ন তিনি করেননি তারা ২০১৪১৫ সালে যা করেছে, তাতে তাদের কীভাবে গণতান্ত্রিক দল বলা যায় ? তারা সন্ত্রাসী দল এবং মানুষ তাদের সমর্থন করে না

ভারতের টেলিগ্রাফের সাংবাদিক দেবদ্বীপ পুরোহিতের  প্রশ্ন ছিল, নির্বাচন শেষ হয়েছে আপনি যখন গণতন্ত্রের কথা বলছেন, তখন আপনার বিরোধী দলের প্রয়োজন হবে ব্যাপারে আপনি কী ভাবছেন ?

জবাবে শেখ হাসিনা বলেনআপনি কি চান আমি একটি বিরোধী দল গঠন করি ? আমি তা করতে পারি ? আমি নিজেও বিরোধী দলে ছিলাম দীর্ঘ সময় আমরা আমাদের দল গঠন করেছি বিরোধীদেরও তা করতে হবে আপনি যদি তা করতে ব্যর্থ হন, তাহলে তার জন্য কে দায়ী ?

শ্রম আইন লঙ্ঘনের অভিযোগে কারাদন্ডপ্রাপ্ত . মুহম্মদ ইউনূস সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ব্যাপারে আমার করার কিছু নেই মুহম্মদ ইউনূস নিজের কর্মীদের বঞ্চিত করেছেন, তাদের কাছেই তাঁর ক্ষমা চাওয়া উচিত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি অনেকবারই নির্বাচন করেছি সেই ১৯৮৬ সাল থেকে আটবারই আমার নির্বাচন করা হয়ে গেছে তবে এত মানুষের আগ্রহ আগে দেখেনি আমি মনে করি বাংলাদেশের জনগণ অনেক আনন্দিত এবং নির্বাচন যারা পর্যবেক্ষণ করেছেন, মতামত দিয়েছেন, সেটা উপযোগী সেজন্য সবাইকে ধন্যবাদ  

তিনি বলেন, আপনারা দেখেছেন একটি দল হয়তো অংশগ্রহণ করেনি কারণ, তারা কখনোই করতে চায় না সে দলগুলো মিলিটারি ডিকটেটরের হাতে তৈরি হয় ফলে তারা নিজেরা চলতে পারে না, নিজেদের জনসমর্থন থাকে না সেই জন্য নির্বাচনকে ভয় পায় আমাদের দল হলো জনগণের দল এবারে নির্বাচনে জনগণ যে ভোট দিয়েছে, যাকে নির্বাচিত করেছে এবং আমাদের অনেক স্বতন্ত্রও নির্বাচিত হয়েছে অন্য দলগুলোরও বেশ কিছু নির্বাচিত হয়েছে এই দেশের মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ভোট দিয়ে নির্বাচিত করেছেন এবং নির্বাচনকে সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা করার জন্য সব ব্যবস্থা নিয়েছি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জয়লাভ করায় ভারত, রাশিয়া, চীন, ভুটান, ফিলিপাইন, সিঙ্গাপুর শ্রীলঙ্কার রাষ্ট্রদূতগণ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে সোমবার ( জানুয়ারি) গণভবনে গিয়ে ফুল দিয়ে অভিনন্দন জানান