বাংলাদেশে ভারতীয় স্ট্রেইন এসেছে কি না তা নিশ্চিত হওয়ার চেষ্টা চলছে

13

ডেস্ক রিপোর্ট।।  বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ কমছে। গত তিনদিন ধরে নমুনা পরীক্ষায় শনাক্তের হার ১০ শতাংশের নিচে থাকলেও আজ কিছুটা বেড়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (সোমবার সকাল থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা) পর্যন্ত আরও ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময়ে নতুন করে করোনা সংক্রমিত হিসেবে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৯১৪ জন। আগের দিন সোমবার দেশে শনাক্ত হয়েছিল ১ হাজার ৩৫৯ জন। আর গত ২৪ ঘণ্টায় শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ৯১৪ জন। এ নিয়ে দেশে করোনায় আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত মারা গেলেন ১১ হাজার ৭০৫ জন। আর আক্রান্ত হয়েছেন ৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৯৬ জন।

গত বছর জুন থেকে আগস্ট এই তিন মাস করোনার সংক্রমণ ছিল তীব্র। মাঝে নভেম্বর-ডিসেম্বরে কিছুটা বাড়লেও বাকি সময় সংক্রমণ নিম্নমুখী ছিল। এ বছরের মার্চে শুরু হয়েছে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ। প্রথম ঢেউয়ের চেয়ে এবার সংক্রমণ বেশি। মাঝে কয়েক মাস ধরে শনাক্তের চেয়ে সুস্থ বেশি হওয়ায় দেশে চিকিৎসাধীন রোগীর সংখ্যা কমে আসছিল। কিন্তু মার্চ থেকে হাসপাতালে রোগী ভর্তির সংখ্যা আবার বাড়তে শুরু করে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দেশে করোনা সংক্রমণের দ্বিতীয় ঢেউয়ের পরিস্থিতি খারাপের দিকে যাচ্ছে।

ভারতেও একই সময়ে সংক্রমণ বাড়তে দেখা যায়। বাংলাদেশের চেয়ে ভারতের অবস্থা ভয়াবহ। বাংলাদেশে ভারতফেরত কয়েকজনের মধ্যে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তবে এদেশে এখনো ভারতীয় স্ট্রেইন (রূপান্তরিত ধরন) এসেছে কি না তা নিশ্চিত হতে পারেনি স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের মুখপাত্র নাজমুল ইসলাম জানিয়েছেন, ভারত থেকে আসা আক্রান্ত ব্যক্তিদের নমুনা সংগ্রহ করে জিনোম সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য পাঠানো হয়েছে। তবে সিকোয়েন্সিংয়ের জন্য কিছু সময় লাগে। ভারতীয় স্ট্রেইন এসেছে কি না তা আরও কিছুদিন পর জানা যাবে।

অবশ্য করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে চট্টগ্রামে ভাইরাসটির যুক্তরাজ্য ও দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন দুটির দাপট বেশি বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়  ১০ জন রোগীর নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে এ তথ্য পাওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে আরও বড় পরিসরে জিনোম সিকোয়েন্স করা দরকার বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

গত মার্চ থেকে বাংলাদেশে কোভিড-১৯ রোগের দ্বিতীয় ঢেউ শুরু হয়েছে। চট্টগ্রাম অঞ্চলে ভাইরাসের কোন ভেরিয়েন্ট এ ঢেউয়ের জন্য দায়ী, তা নির্ণয়ে স্বল্প পরিসরে কাজ শুরু করে চট্টগ্রাম ভেটেরিনারি অ্যান্ড অ্যানিমেল সায়েন্সেস বিশ্ববিদ্যালয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য গৌতম বুদ্ধ দাশের নেতৃত্বে পোলট্রি রিসার্চ ও ট্রেনিং সেন্টারে (পিআরটিসি) একদল গবেষক ১০ জন রোগীর নমুনা নিয়ে জিনোম সিকোয়েন্স করেন। অপর গবেষকেরা হলেন অধ্যাপক পরিতোষ কুমার বিশ্বাস ও অধ্যাপক শারমিন চৌধুরী। জিনোম সিকোয়েন্স করা হয়েছে ঢাকার বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) গবেষণাগারে।

জিনোম সিকোয়েন্সে দেখা যায়, ১০টি নমুনার মধ্যে ছয়টিতেই ইউকে ভেরিয়েন্টের (ই.১.১.৭)  উপস্থিতি রয়েছে। তিনটিতে দক্ষিণ আফ্রিকান ভেরিয়েন্টের (ই.১.৩৫১) উপস্থিতি রয়েছে। তবে কোনো নমুনাতেই বর্তমানে ভারতে চিহ্নিত ভেরিয়েন্টের (ই.১.৬১৭) উপস্থিতি নেই। একটিতে পাওয়া যায় অস্ট্রেলিয়ার ভেরিয়েন্ট। মার্চ ও এপ্রিলে আক্রান্ত বিভিন্ন বয়সের রোগী থেকে নমুনাগুলো নেওয়া হয়েছিল। আক্রান্ত রোগীদের পাঁচজনকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিতে হয়। তার মধ্যে ইউকে ধরনের তিনজন রয়েছেন। বাকি দুজনের মধ্যে একজন দক্ষিণ আফ্রিকার ও অপরজন অস্ট্রেলিয়া ভেরিয়েন্টে আক্রান্ত ছিলেন।