বাংলাদেশে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড, কার্যকর হচ্ছে মঙ্গলবারই

24

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। বাংলাদেশে নারী নির্যাতন ও ধর্ষণের বিরুদ্ধে অব্যাহত আন্দোলনের মুখে আজ সোমবার (১২ অক্টোবর) ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ডের বিধান রেখে এ সংক্রান্ত আইনটির একটি সংশোধনী প্রস্তাব অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। আগামিকাল মঙ্গলবার রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ জারির মাধ্যমে এটি কার্যকর করা হবে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেন, আগামিকাল এটি অধ্যাদেশ আকারে জারি করা হবে। অর্থাৎ কাল থেকে এটি আইনে পরিণত হবে। এর আগে এটির আইনি যাচাই (ভেটিং) হবে। যেহেতু সংসদ অধিবেশন আপাতত চলমান নেই, তাই সরকার সংশোধিত আইনটি একটি অধ্যাদেশ হিসেবে জারি করার সিদ্ধান্ত  নিয়েছে।

এই মুহূর্তে জাতীয় সংসদের অধিবেশন না থাকায় রাষ্ট্রপতি এটিকে অধ্যাদেশ আকারে জারি করবেন বলে আইন মন্ত্রণালয় থেকে জানা গেছে।

মন্ত্রী জানান, বিদ্যমান আইনে ধর্ষণের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন আছে। সেটিকে এখন মৃত্যুদন্ড বা যাবজ্জীবন করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে আজ সোমবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। এর ফলে বিদ্যমান নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় সংশোধনী আনা হবে।

সেপ্টেম্বর মাসের দুটি ঘটনা সারাদেশে স্ফুলিঙ্গ ছড়িয়ে দেয়। গত ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে সিলেটের মুরারিচাঁদ কলেজ ছাত্রাবাসে তরুণী ধর্ষণের শিকার হন। এতে ছাত্রাবাস দখল করে থাকা ছাত্রলিগ কর্মী হিসেবে পরিচিতি ছয়জনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। এ পর্যন্ত অভিযুক্তদের সবাই ধরা পড়েছেন। এই ঐতিহ্যবাহী কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে যাওয়া এই তরুণীর ধর্ষণের ঘটনায় দেশব্যাপী তোলপাড় সৃষ্টি হয়। এই ঘটনার পরপরই নোয়াখালীতে এক গৃহবধুকে বিবস্ত্র করে তা ভিডিও করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনা ঘটে। ওই নারী নয়জনকে অভিযুক্ত করে মামলা করেছেন।

নোয়াখালীতে ওই গৃবধধূকে নির্যাতনের ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হওয়ার পর থেকে রাজধানীসহ দেশজুড়ে ধর্ষণবিরোধী আন্দোলনের ঝড় উঠে। মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিলসহ বিভিন্ন কর্মসূচি চলছে গত সাত দিন ধরে। এসব কর্মসূচি থেকে ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি ‘মৃত্যুদন্ডের’ দাবি উঠে। এমন পরিস্থিতিতে সরকার আইন পরিবর্তনের এই পদক্ষেপ নিল।

সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ধর্ষণের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদন্ড করার দাবি এসেছে, তাই সরকার তা বিবেচনায় নিয়েছে।

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর Ñএই নয় মাসে প্রতিদিন গড়ে তিনটির বেশি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। নয় মাসে মোট ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৯৭৫টি। এই মানবাধিকার সংগঠনের হিসাবে চলতি বছর গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ২০৮ জন নারী। এছাড়া ধর্ষণের পর হত্যার শিকার হয়েছেন ৪৩ জন নারী। আর আত্মহত্যা করেছেন ১২ জন নারী। গত নয় মাসে যৌন হয়রানির শিকার হয়েছেন ১৬১ নারী। এর মধ্যে যৌন হয়রানরি কারণে ১২ নারী আত্মহত্যা করেছেন। আর যৌন হয়রানির প্রতিবাদ করতে গিয়ে তিন নারী এবং ছয় পুরুষ নিহত হয়েছেন।

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মনে করেন, যদি আইনের শাসন বড্ড দুর্বল হয়ে যায় তবে এ ধরনের ঘটনা ঘটতেই থাকে। দেশে আইনের শাসন দুর্বল হয়ে গেছে। দুর্বল হয়ে যাওয়ার কারণ হলো প্রভাবের একটি বলয় তৈরি হয়েছে। ক্ষমতার অপব্যবহার আইনের শাসনকে কোনঠাসা করে ফেলেছে।