বাংলাদেশে তিনদিনের সহিংস বিক্ষোভে অন্তত ১৪ জন নিহত

10

নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সফরের বিরোধিতা করে বাংলাদেশে হেফাজতে ইসলামসহ সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর তিনদিনের সহিংস বিক্ষোভে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে পুলিশের গুলিতে অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছে। এর মধ্যে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ জন এবং হাটহাজারিতে ৪ জন মারা গেছেন। তবে হেফাজতের দাবি নিহতের সংখ্যা ১৭। ঢাকাসহ আহতের সংখ্যা একশোরও বেশি। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হেফাজতের হামলা থেকে উপমহাদেশের সুরস¤্রাট ওস্তাদ আলাউদ্দিন খানের বাড়িও রেহাই পায়নি। কয়েক বছর আগে এই হেফাজতে ইসলামের নেতা-কর্মীরা সুরস¤্রাটের বাড়িতে হামলা করে তাঁর তানপুরা তবলাসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক নিদর্শন ভাঙচুর করে অগ্নিসংযোগ করেছিল।

এই তিনদিনের হামলায় জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার , জেলা পরিষদ ভবন, সদর উপজেলা ভূমি কার্যালয়, পৌরসভা, সদর খানা, প্রেসক্লাব, আনন্দময়ী কালী মন্দির ও শহীদ ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত চত্বর এবং জেলা আওয়ামি লিগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাড়ি ও কার্যালয় ভেঙে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে, অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। ভাঙচুর করা হয়েছে জাতির জনকের ম্যুরাল। হামলা শুরু হয় ঢাকায় জাতির জনকের জন্মশতবার্ষিকী ও স্বাধীনতার রজতজয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত দশদিনব্যাপী জাতীয় অনুষ্ঠানমালার সমাপ্তি দিবসে। এই দিন ভারতের প্রধানমন্ত্রী সম্মানিত অতিথি হিসেবে যোগ দিতে দুদিনের সফরে ঢাকা আসেন। তিনি ঢাকার উপকন্ঠে জাতীয় স্মৃতি সৌধ ও ধানমন্ডিতে বঙ্গবন্ধু জাদুঘরে (এটাই বঙ্গবন্ধুর বাসভবন, যেখানে একাত্তরে পাকিস্তানিরা হামলা চালিয়ে বঙ্গবন্ধুকে গ্রেফতার করে এবং ১৯৭৫ সালে তিনি সপরিবারে এই বাড়িতেই নিহত হন) শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং পরদিন গোপালগঞ্জে টুঙ্গিপাড়ায় গিয়ে বঙ্গবন্ধুর সমাধিতে শ্রদ্ধা জানান। তিনি গোপালগঞ্জের কাশীয়ানিতে মতুয়া সম্প্রদায়ের গুরু হরিচাঁদ ঠাকুরের মন্দির ও সাতক্ষীরায় পীঠস্থান যশোরেশ্বরী মন্দিরে পুজো দেন।

হেফাজত শনিবার সারাদেশে বিক্ষোভ ও রোববার হরতালের ডাক দেয়। হেফাজতের হামলাকারীরা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেল স্টেশন পুড়িয়ে দেয়, রেলপথ ও ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে। অন্তত ৩০টি গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়। ভাঙচুর করে ১০০ গাড়ি। এছাড়া চট্টগ্রাম, সিলেট, কিশোরগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জ, হবিগঞ্জ, নোয়াখালী, কক্সবাজারসহ আরও কয়েকটি জেলায় হামলা ও ভাঙচুর করা হয়। গত শুক্রবার ঢাকায় বায়তুল মোকাররম মসজিদে জুমার নামাজের পর সহিংস বিক্ষোভ করে হেফাজত। প্রায় একই সময়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও চট্টগ্রামের হাটহাজারিতে জঙ্গি বিক্ষোভ শুরু হয়।

আজ ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সদর ৩ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা আওয়ামি লিগের সভাপতি র.আ.ম. উবায়দুল মোকতাদির চৌধুরী এক সাংবাদিক সম্মেলনে হেফাজতের তান্ডবের ঘটনার সময় প্রশাাসন ও পুলিশের ভূমিকা নিষ্ক্রিয় ছিল বলে অভিযোগ করেন। মোকতাদির বলেন, যেহেতু বিক্ষোভ ও হরতাল হেফাজত ডেকেছে এসব তান্ডবের দায় দায়িত্ব হেফাজতকে নিতে হবে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান বলেছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর বাংলাদেশ সফরের বিরোধিতা করে বাংলাদেশে তিনদিন ধরে  ‘কতিপয় গোষ্ঠী ধর্মীয় উন্মাদনা ছড়িয়ে সরকারি সম্পত্তি ও মানুষের জানমালের ক্ষতি করেছে’’ এবং তা এখনি বন্ধের তিনি আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যথায়, সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করবে বলে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

এদিকে নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে হেফাজতে ইসলাম। রোববার সন্ধ্যায় পল্টনে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মাওলানা নুরুল ইসলাম জিহাদী আগামি শুক্রবার সারাদেশে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করেন।