বাংলাদেশে করোনা সংক্রমণ কমার কথা বলা হলেও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি বাড়লো

9

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। বাংলাদেশে করোনাভাইরাস সংক্রমণের হার আগের তুলনায় অনেক কমেছে বলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বুধবার জানালেও করোনার কারণে এই মুহূর্তে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খোলার মতো পরিস্থিতি নেই, তা উল্লেখ করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের চলমান ছুটি ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়েছে। এর আগে গতকাল বুধবার শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি জানিয়েছিলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ছুটি বাড়বে।

করোনাভাইরাসের কারণে গত ১৭ মার্চ থেকে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছুটি চলছে। দফায় দফায় ছুটি বাড়িয়ে তা ৩ অক্টোবর পর্যন্ত করা হয়। সর্বশেষ আজ তা বাড়িয়ে ৩১ অক্টোবর পর্যন্ত করা হলো।

করোনার বাস্তবতায় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষপ্রতিষ্ঠানগুলো বন্ধ থাকায় প্রায় চার কোটি শিক্ষার্থীর পড়াশোনা অত্যন্ত ঝুঁকিতে পড়েছে। বাংলাদেশ শিক্ষা তথ্য ও পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য বলছে, দেশের মোট শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ে পড়ে প্রায় পৌনে দুই কোটি ছেলেমেয়ে। আর মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা সোয়া কোটির কিছু বেশি। বাকিরা অন্যান্য স্তরে পড়ছেন। এমন অবস্থায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জিজ্ঞাসা ছিল ছুটি কি আরও বাড়বে, নাকি খুলে দেওয়া হবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে আজ আবার ছুটি বাড়ানোর ঘোষণা এল।

করোনা পরিস্থিতির কারণে প্রাথমিক ও ইবতেদায়ি সমাপনী পরীক্ষা এবং জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) ও জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট (জেডিসি) পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। এখন নিজ নিজ স্কুলে মূল্যায়নের ভিত্তিতে ওপরের শ্রেণিতে উত্তীর্ণ ঘোষণার পরিকল্পনা করছে সরকার। অবশ্য সেটি নির্ভর করছে কবে করোনা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলবে তার ওপর।

উচ্চমাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষাও আটকে আছে। এই পরীক্ষা হওয়ার কথা ছিল গত এপ্রিলের গোড়ার দিকে। গতকাল শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, আগামি সোম বা মঙ্গলবার এ ব্যাপারে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা জানানো হবে।

এদিকে করোনার কারণে বন্ধ থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতেও সেশনজট বাড়ছে। বেসরকারি স্কুল-কলেজগুলো পড়ছে আর্থিক সংকটে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে স্কুলপর্যায়ে টিভি ও রেডিও’র মাধ্যমে ক্লাস প্রচার এবং কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে অনলাইন ক্লাসে গুরুত্ব দেওয়া হলেও  সেই অর্থে তা কার্যকর হয়নি।

মহামারির কারণে পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণির সমাপনী পরীক্ষা নেয়া হবে না বলে ইতোমধ্যেই সরকার ঘোষণা করেছে এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে বার্ষিক পরীক্ষা না হওয়ারও ইঙ্গিত দিয়েছেন কর্মকর্তারা।

তবে চারটি শর্ত দিয়ে অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে ব্রিটিশ কাউন্সিলের পরিচালনায় ইংরেজি মাধ্যমের শিক্ষার্থীদের ‘ও’ এবং ‘এ’ লেভেলের পরীক্ষা নেয়ার অনুমতি দিয়েছে সরকার।

করোনাভাইরাস পরিস্থিতিকে বিবেচনায় নিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান না খোলা হলেও সরকার ইতোমধ্যেই অফিস-আদালত এবং সব অর্থনৈতিক কর্মকান্ড খুলে দিয়েছে। যানবাহন চলছে স্বাভাবিক নিয়মে।

বুধবারই স্বাস্থ্য বিভাগের নিয়মিত বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় প্রতি ১০০ জনের নমুনা পরীক্ষায় ১০ দশমিক ৭১ শতাংশের মধ্যে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়েছে।