বাংলাদেশে করোনায় আক্রান্ত ও মৃত্যুর ঊধ্বগতি রুখতে এবার কঠোর লকডাউনে সরকার

3

ডেস্ক রিপোর্ট।। মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের কঠোর লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) দুপুরে একথা জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, ১৪ এপ্রিল থেকে দেশে জরুরি সেবা ছাড়া সরকারি-বেসরকারি সকল প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকবে। গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ থাকবে। অ্যাম্বুলেন্স ছাড়া সকল গণপরিবহনও বন্ধ থাকবে। তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশেই কঠোর লকডাউন। করোনার ঊর্ধ্বগতি ঠেকানোর জন্য এর কোনো বিকল্প নেই।

তবে অন্তত দুই সপ্তাহ ‘পূর্ণ লকডাউন’ ছাড়া করোনাভাইরাসের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না বলে মনে করছে কোভিড-১৯ জাতীয় কারিগরি পরামর্শক কমিটি। গত বুধবার রাতে কমিটির ৩০তম সভায় তাই সারা দেশে দুই সপ্তাহ ‘পূর্ণ লকডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়। কমিটি বিশেষ করে সিটি করপোরেশন ও পৌরসভাগুলোয় ‘পূর্ণ লকডাউন’ দেওয়ার সুপারিশ করেছে লকডাউনের দুই সপ্তাহ শেষ হওয়ার আগে সংক্রমণের হার বিবেচনা করে আবার নতুন সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা বলেছে।

কমিটি মনে করে, করোনাভাইরাস সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার বৃদ্ধিতে জনস্বাস্থ্য সম্পর্কিত যে ১৮টি নির্দেশনা জারি হয়েছিল, সেগুলো সঠিকভাবে মানা হচ্ছে না। তাই ‘বিধিনিষেধ আরও শক্তভাবে অনুসরণ করা দরকার’।

করোনা ভাইরাসের ঊর্ধ্বগতির কারণে গত ৫ এপ্রিল ভোর ৬টা থেকে ১১ এপ্রিল রাত ১২টা পর্যন্ত সারাদেশে শপিংমল, দোকানপাট, হোটেল-রেস্তোরাঁসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পাশাপাশি গণপরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছিল। তখন এই ব্যবস্থাকেও লকডাউন বলা হয়েছিল।  এরপর বুধবার (৭ এপ্রিল) থেকে সিটি করপোরেশন এলাকায় সকাল-সন্ধ্যা গণপরিবহন সেবা চালু রাখার সিদ্ধান্ত দেয় সরকার। শুক্রবার (৯ এপ্রিল) থেকে সকাল ৯টা হতে বিকেল ৫টা পর্যন্ত শপিংমল ও দোকান খোলা রাখার জন্য বৃহস্পতিবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে এক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে বিধিনিষেধ বা লকডাউন সেভাবে মানা হয়নি।

আওয়ামি লিগ সাধারণ সম্পাদক ও সরকারের জ্যেষ্ঠ মন্ত্রী ওবায়দুল কাদের শুক্রবার সকালে বলেছেন, ১৪ এপ্রিল থেকে এক সপ্তাহের জন্য সর্বাত্মক লকডাউনের বিষয়ে সক্রিয় চিন্তাভাবনা করছে সরকার। কারণ দেশে করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার। সঙ্গে বাড়ছে জনগণের অবহেলা ও উদাসীনতা। এমতাবস্থায় সরকার জনস্বার্থে সর্বাত্মক লকডাউন ছাড়া বিকল্প নেই। চলমান এক সপ্তাহের লকডাউনে জনগণের উদাসীন মানসিকতার কোনো পরিবর্তন হয়েছে বলে মনে হয় না।

করোনায় গত চব্বিশ ঘণ্টায় ৬৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর ৭ হাজার ৪৬২ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছে। শুক্রবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। গত ২৪ ঘণ্টায় (গত বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা থেকে শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) নমুনা পরীক্ষাও হয়েছে ৩১ হাজার ৬৫৪ জনের। নমুনা পরীক্ষা বিবেচনায় রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৫৭ শতাংশ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৬ লাখ ৭৩ হাজার ৫৯৪ জনের করোনার সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এর মধ্যে মারা গেছেন ৯ হাজার ৫৮৪ জন। মোট সুস্থ হয়েছেন ৫ লাখ ৬৮ হাজার ৫৪১ জন। বৃহস্পতিবার করোনায় আক্রান্ত ৭৪ জনের মৃত্যু ও ৬ হাজার ৮৫৪ জন নতুন রোগী শনাক্ত হয়েছিল।