বাংলাদেশে করোনার চার ধরন, দক্ষিণ আফ্রিকার ধরনই বেশি

4

ডেস্ক রিপোর্ট।। বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের অতি সংক্রামক চারটি ধরন পাওয়া গেছে। তবে এর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকায় পাওয়া ধরনটি বেশি মানুষের দেহে সংক্রমিত হয়েছে। জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগনিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের (আইইডিসিআর) পরিচালক অধ্যাপক ডা. তাহমিনা শিরিন গণমাধ্যমকে সোমবার (৩১ মে) এমনটিই জানিয়েছেন। আইইডিসিআর গত শনিবার জানিয়েছিল, দেশে এমন কিছু মানুষ নতুন স্ট্রেইনে (ভারতীয় ধরন) আক্রান্ত হয়েছেন, যাদের ভারত ভ্রমণের ইতিহাস নেই। এটা নতুন স্ট্রেইনের সামাজিক সংক্রমণের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

বাংলাদেশে গত ২৪ ঘণ্টায় করোনাভাইরাসে মৃত্যু ও শনাক্ত দুইই বেড়েছে। গত ২৪ ঘন্টায় আরও ৩৬ জনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে নতুন করে শনাক্ত হয়েছেন ১ হাজার ৭১০ জন। করোনায় মোট মৃতের সংখ্যা দাঁড়ালো ১২ হাজার ৬১৯ জন। আর করোনায় আক্রান্তের সংখ্যা ৮ লাখ ৫৪০ জন। এর আগে রোববার দেশে করোনায় মারা গিয়েছিলেন ৩৪ জন। শনাক্ত ছিলেন ১ হাজার ৪৪৪ জন।

ডা. তাহমিনা বলেন, রোববার পর্যন্ত ২৬৩টি নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স করে ১৪০টিতে চারটি ধরন পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ২৭টিতে যুক্তরাজ্যের ধরন, ৮৫টিতে দক্ষিণ আফ্রিকার, ৫টিতে নাইজেরিয়ার এবং ২৩টিতে ভারতীয় ধরন। শনাক্ত হওয়া করোনা ভাইরাসের ধরনগুলো হলো-ভারতীয় ধরন (বি.১.৬১৭.২), যুক্তরাজ্যের ধরন (বি.১.১.৭), দক্ষিণ আফ্রিকার ধরন (বি.১.৩৫১) ও নাইজেরিয়ার ধরন (বি.১.৫২৫)। এদিকে ভারতে উদ্ভূত ধরনটির সংক্রমণ রোধে সীমান্ত বন্ধ করেছে সরকার।

এ বিষয়ে ডা. তাহমিনা বলেন, ভারত থেকে আগত ব্যক্তি এবং তাদের সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের নমুনা পরীক্ষা করে ২৩ জনের দেহে এই ভারতীয় ধরন পাওয়া গেছে। যখন রোগ শনাক্ত হবে, রোগ একজন মানুষ থেকে আরেকজন মানুষের শরীরে সংক্রমণ হবে, তখন নতুন নতুন ধরনের আবির্ভাব হবে।

গত বছরে চীনের উহান থেকে করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ে। তখন থেকে সংক্রমিত হওয়া নতুন করোনাভাইরাস রূপ বদল করে চলছে।

ওদিকে করোনা রোগী বাড়তে শুরু করায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের পর সীমান্তবর্তী আরও সাতটি জেলা ‘লকডাউন’ করার সুপারিশ করেছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ কমিটি। এসব জেলায় করোনা রোগীদের জন্য নির্ধারিত হাসপাতালের খালি শয্যা প্রায় শেষের পথে। পরিস্থিতি সামলাতে ইতিমধ্যে দুটি জেলায় শয্যাসংখ্যা বাড়ানো হয়েছে। পাঁচটি জেলায় শয্যা বাড়ানোর প্রস্তুতি চলছে। যে জেলাগুলোতে নতুন করে লকডাউনের সুপারিশ করা হয়েছে সেগুলো হলো নওগাঁ, নাটোর, সাতক্ষীরা, যশোর, রাজশাহী, কুষ্টিয়া ও খুলনা। এসব জেলায় করোনার সংক্রমণ ঊর্ধ্বমুখী।

স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, নওগাঁ, নাটোর, কুষ্টিয়া ও চাঁপাইনবাবগঞ্জে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) নেই। ফলে জটিল করোনা রোগীদের আইসিইউ সুবিধা থাকা পার্শ্ববর্তী কোনো জেলায় স্থানান্তর করতে হচ্ছে। অন্যদিকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ ও যশোর জেলায় এখনো কেন্দ্রীয়ভাবে  অক্সিজেন ব্যবস্থা চালু হয়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অন্যতম মুখপাত্র রোবেদ আমিন বলেন, করোনার সংক্রমণ কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও এলাকাভিত্তিক তারতম্য দেখা দিচ্ছে। বর্তমানে দেশে বিভিন্ন সীমান্তবর্তী জেলায় সংক্রমণ বাড়ছে। করোনার বিভিন্ন দেশের ধরনের উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে। এর মধ্যে ভারতীয় ধরনও বিদ্যমান। সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে কিছু জায়গায় স্থানীয়ভাবে সংক্রমণ বেড়েছে।

ঈদুল ফিতরের পর থেকে দেশে পরীক্ষার বিপরীতে করোনা শনাক্তের হার বাড়ছে। দেশে সংক্রমণের ৬৩তম সপ্তাহে (১৬-২২ মে) মোট পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ৭ দশমিক ৬৮ শতাংশ। গত শনিবার শেষ হওয়া ৬৪তম সপ্তাহে (২৩-২৯ মে) রোগী শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮ দশমিক ৮১ শতাংশ। রোববার দেশে সংক্রমণের ৬৫তম সপ্তাহ শুরু হয়েছে। এদিন পরীক্ষার বিপরীতে রোগী শনাক্তের হার ছিল ১০ দশমিক ১১ শতাংশ।

ভারতের সঙ্গে সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে সংক্রমণ তুলনামূলক বেশি হারে বাড়ছে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) এক প্রতিবেদনে দেখা যায়, ১৭ থেকে ২৩ মে এই এক সপ্তাহে আগের সপ্তাহের তুলনায় ২২টি জেলায় নতুন রোগী বাড়ার হার শতভাগ বা তার বেশি ছিল। এর মধ্যে ১৫টি জেলাই সীমান্তবর্তী।