বাংলাদেশে এ পর্যন্ত আড়াই হাজার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে

1

ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীর গুলশানে হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার পর এ পর্যন্ত প্রায় দেড় হাজার জঙ্গিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলার পাঁচ বছর পূর্তি সামনে রেখে মঙ্গলবার (২৯ জুন) দুপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য জানান র‌্যাবের মহাপরিচালক চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন। র‌্যাব সদর দপ্তরে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

২০১৬ সালের ১ জুলাই হোলি আর্টিজানে নৃশংস জঙ্গি হামলা হয়। সেই হামলার ভয়াবহতায় স্তম্ভিত হয়ে যায় পুরো দেশ। জঙ্গিরা হত্যা করেছিল ২০ জন দেশি-বিদেশি নাগরিককে। যাদের মধ্যে নয়জন ইতালীয়, সাতজন জাপানি, একজন ভারতীয় ও তিনজন বাংলাদেশি। ওই হামলার পর দেশে জঙ্গিবিরোধী অভিযান জোরদার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, হোলি আর্টিজানে হামলার মূল পরিকল্পনাকারী সারোয়ার জাহানসহ অর্থদাতা অনেককেই গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাব। হোলি আর্টিজানে হামলার আগে থেকে এখন পর্যন্ত আড়াই হাজার জঙ্গিকে র‌্যাব গ্রেপ্তার করেছে। তিনি বলেন, দেশে সক্রিয় জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হলি আর্টিজানের মতো বড় ধরনের আক্রমণাত্মক কোনো হামলার ঘটনা ঘটানোর সামর্থ্য নেই। আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আমরা যেভাবে কার্যক্রম চালাচ্ছি এতে জঙ্গিবাদের স্থান বাংলাদেশে হবে না। তাদের থেকে আমরা এক ধাপ এগিয়ে আছি। এই মুহূর্তে আমাদের গোয়েন্দা তথ্যে জানা যায়, জঙ্গিদের আক্রমণাত্মক হওয়ার সামর্থ্য নেই।

র‌্যাব মহাপরিচালক বলেন, তারা শুধু জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে অভিযান চালিয়েই ক্ষান্ত হচ্ছেন না। জঙ্গিবাদ-বিরোধী প্রচারও চালাচ্ছেন। জঙ্গিবাদে জড়িত ১৬ জন তরুণ-তরুণী এখন পর্যন্ত আত্মসমর্পণ করেছেন। তাদের পুনর্বাসনে কাজ করছে এই এলিট বাহিনী।

চৌধুরী আবদুল্লাহ আল-মামুন বলেন, বাংলাদেশ জঙ্গিবাদ দমনে বিশ্বে ‘রোল মডেল’ হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। র‌্যাবের জঙ্গিবিরোধী অভিযান চলমান রয়েছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।

কিশোর গ্যাং নিয়েও কথা বলেন র‌্যাব মহাপরিচালক। তিনি বলেন, কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা যাতে জঙ্গিবাদে জড়াতে না পারে, সে জন্য র‌্যাব কাজ করছে। সন্তান কী করছে, সে বিষয়ে বাবা-মাকে খোঁজ-খবর রাখার অনুরোধ করেন তিনি।