বরের বয়স ১০৭ ও কনের ১০২ বছর দিনাজপুর বিরলে বিরল বিয়ে

34

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে।। ২৪ ফেব্রুয়ারি।। দিনাজপুরের বিরল উপজেলার দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামের স্বর্গীয় ভেলশু নাথ দেবশর্ম্মার ১০৭ বছর বয়সী পুত্র বৈদ্যনাথ দেবশর্ম্মার সাথে একই গ্রামের স্বর্গীয় ভেলশু নাথ দেবশর্ম্মার ১০২ বছর বয়সী কন্যা পঞ্চবালা দেবশর্ম্মার পুনরায় বিয়ের আয়োজন করা হয়। এই বিয়ের আয়োজন ও বর-কনেকে এক নজর দেখতে প্রতিনিয়ত ভীড় পরিলক্ষিত হচ্ছে স্থানীয় মানুষের।

পুনর্বার বিয়ে করে বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করে আলোচিত হয়েছেন এই প্রবীণ দম্পত্তি। সম্পর্কের স্তর শেষ হবার কারণে অর্থাৎ পাঁচপিড়ি পার করার কারণে এ বিয়ের আয়োজন করা হয় বলে পরিবারসুত্রে জানা যায়।

গত ২১ ফেব্রুয়ারি রোববার ঘটা করে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের রীতি অনুযায়ী সম্পন্ন হলো এ বিয়ের আয়োজন। বিয়েতে গীত, গায়ে হলুদ, পুরোহিত, মন্ডপতলা, বৌ-ভাত, বাসর ঘর, বাদ্য-বাজনা, সাজসজ্জা, বন্ধু বান্ধব, আত্মীয় স্বজন ও ভুঁড়ি ভোজ কোনটারই কমতি ছিলো না।

বিশেষ করে প্রবীণ এ বর কনেকে এক নজর দেখার জন্য এলাকার উৎসুক জনতার ভীড় ছিলো চোখে পড়ার মত। প্রবীণ দম্পতির পুনরায় বিয়ের আয়োজন করা হয় বিরল উপজেলার ৮নং ধর্মপুর ইউপি’র দক্ষিণ মেড়াগাঁও গ্রামে।

প্রবীন বর বৈদ্যনাথ দেবশর্ম্মা জানান, ওই গ্রামের স্বর্গীয় পিতা ভেলশু নাথ দেবশর্ম্মা ও স্বর্গীয় মাতা ভুলে বালা দেবশর্ম্মার পুত্র তিনি এবং কনে পঞ্চ বালা দেবশর্ম্মাও একই এলাকার স্বর্গীয় বিদ্যা মন্ডল দেবশর্ম্মা ও স্বর্গীয় শুভ বালা দেবশর্ম্মার কন্যা।

উল্লেখ্য,  প্রায় ৯০ বছর আগে তাদের সামাজিক ভাবে হিন্দু ধর্মের রীতি অনুযায়ী বিয়ে হয়। এরপর সংসার জীবনে বিয়ের প্রায় তিন বছরের মাথায় কোল আলো করে এক কন্যা সন্তান আসে। কন্যার নাম রাখা হয় ঝিলকো বালা দেব শর্ম্মা। কন্যা ঝিলকো বড় হলে তাকে পাত্রস্থ করা হয়। বিয়ে দেয়ার কয়েক বছর পর কন্যার একটি আদরী বালা নামের কন্যা সন্তান অর্থাৎ আমাদের নাতনীর জন্ম হয়। নাতনী আদরী বালাও বড় হলে তাকেও বিয়ে দেয়া হয়। নাতনীর বিয়ের পর তার কোল জুড়ে রেখা বালার জন্ম হয়।

ফলে আমরা সর্ম্পকে বড় বাবা ও বড় মা হই। এর পর রেখা বালা বড় হলে তাকেও বিয়ে দেয়া হয়। কয়েক বছর পর তারও রুমি বালা নামের একটি কন্যা সন্তানের জন্ম হয়। সে আমাদের নাতনীর নাতনী। রুমি আমাদেরকে সর্ম্পকে কি বলে ডাকবে? তার সাথে আমাদের সর্ম্পকের স্তর শেষ হয়ে গেছে।

তারপরেও সৃষ্টি কর্তার অশেষ কৃপায় বেঁচে আছি বলে আমরা সর্ম্পকের পঞ্চমস্তর বা পাঁচপিড়িতে অবস্থান করছি। আমরা দু’টি মানুষ থেকে বর্তমানে আমাদের পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৫২ জনে দাড়িয়েছে। এলাকাবাসী অনেকে জানান, দম্পত্তি যদি জীবিত থাকে এবং সম্পর্কের পাঁচপিড়িতে অবস্থান করে তাহলে সনাতন (হিন্দু) ধর্মের রীতি অনুযায়ী পুনর্বার বিয়ে দেয়ার বিধান রয়েছে। তাই ওই প্রবীণ দম্পত্তির পুনর্বার বিয়ে দেয়া হয়েছে।

ধর্ম্মপুর ইউপি শাখা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক রতন চন্দ্র সরকার জানান, আমিসহ অনেক রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি ও এলাকার গন্য-মান্য ব্যক্তিবর্গ এ আলোচিত বিয়ের আমন্ত্রিত অতিথি ছিলাম। বিয়ের অনুষ্ঠানে গিয়ে আমি সকলের প্রাণচাঞ্চল্য লক্ষ্য করেছি।

নতুন প্রজন্মের কাছে এই প্রবীণ দম্পত্তির পুনর্বার বিয়ে একটি ইতিহাস হয়ে থাকবে। ধর্ম্মপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাবুল চন্দ্র সরকার জানান, বর বৈদ্যনাথ কন্যা সন্তান ছাড়া পুত্র সন্তান নাই। কন্যার কন্যা এ ভাবে তিনি পাঁচপিড়িতে অবস্থান করছেন। আসলেই এই বিয়েটা একটি ইতিহাস হয়ে থাকলো।