বন্ধুত্বের প্রমাণ রাখলো ভারত, উপহারের ২০ লাখ করোনার টিকা ঢাকায় পৌঁছালো

7

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির উপহার ২০ লাখ করোনার টিকা আনুষ্ঠানিকভাবে বাংলাদেশের হাতে তুলে দেওয়া হলো। বৃহস্পতিবার (২১ জানুয়ারি) বেলা দেড়টার দিকে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের হাতে উপহারের টিকা তুলে দেয় ভারত। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেকের হাতে পৃথকভাবে করোনার টিকার দুটি বাক্স তুলে দেন ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার বিক্রম দোরাইস্বামী।

প্রতিবেশিদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক জোরদার করতেই ভারতের এই উদ্যোগ। মোদির ভাষায় ‘প্রতিবেশিদের মৈত্রী টিকা দিতে পেরে ভারত গর্ব বোধ করছে।’ তিনি বলেন, ‘করোনার বিরুদ্ধে ভারতের লড়াই সর্বাত্মক। এই অতিমারি রুখতে ভারত যে প্রতিষেধক তৈরি করছে, তা সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে ব্যবহৃত হবে।’

উপহারের বাইরে বাংলাদেশ সরকারিভাবেও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তিন কোটি ডোজ টিকা কিনছে, যার প্রথম চালানে ৫০ লাখ ডোজ টিকা ২৫ জানুয়ারি মধ্যে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। দিল্লিতে যোগাযোগ করা হলে সাংবাদিকরা জানান, ক্রয় চুক্তির বাইরে সৌভ্রাতৃত্ব গড়ে তুলতে উপহার হিসেবে প্রতিবেশি সব দেশেই টিকা পাঠানো হবে। বুধবার ভুটান ও মালদ্বীপে উপহার পাঠানো হয়েছে। যাচ্ছে শ্রীলঙ্কা, নেপাল, মিয়ানমার, আফগানিস্তান, সিসেলস দ্বীপপুঞ্জ ও মরিশাসেও। এমনকি যতদূর ধারণা পাওয়া যাচ্ছে, পাকিস্তানও বাদ যাবে না।

ভারতের উপহার হিসেবে পাঠানো অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা উদ্ভাবিত ও ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউটে প্রস্তুত  ২০ লাখ করোনার টিকা নিয়ে মুম্বাই থেকে এয়ার ইন্ডিয়ার একটি উড়োজাহাজ আজ বেলা ১১টার দিকে ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। প্রতিবেশিদের মধ্যে বাংলাদেশই প্রথম উপহার পাওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ফ্লাইট সিডিউলের কারণে একদিন পিছিয়ে যায়।

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী জানান, বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে করোনা মোকাবিলা করবে। আজ ঢাকায় রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন পদ্মায় বেলা ১ টা ৩৭ মিনিটে আনুষ্ঠানিকভাবে ভারতীয় জনগণের পক্ষ থেকে বাংলাদেশের জনগণের জন্য উপহার হিসেবে পাঠানো ২০ লাখ টিকা হস্তান্তরকালে এ কথা বলেন তিনি। এ সময় বিক্রম দোরাইস্বামীর কাছ থেকে ভ্যাকসিন গ্রহণ করেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন ও স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বন্ধুত্বের প্রমাণ রাখলো ভারত। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ শাহরিয়ার আলম।

ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, অনলাইনে নিবন্ধন ছাড়া কাউকে করোনার এই টিকা দেবে না বাংলাদেশ সরকার। রাজধানীর চারটি হাসপাতালে এ মাসের শেষ দিকে টিকাদানের মহড়া বা ড্রাই রান হবে। ফেব্রুয়ারির প্রথম সপ্তাহে দেশব্যাপী টিকা কার্যক্রম শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছে স্বাস্থ্য বিভাগ। শুরুতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠান টিকা দেওয়ার অনুমতি পাচ্ছে না।