বঙ্গবন্ধু হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত : আইনমন্ত্রী

3

ডেস্ক রিপোর্ট।। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে সপরিবারে হত্যার সঙ্গে জিয়াউর রহমান জড়িত। হত্যাকান্ডে জিয়ার সম্পৃক্ততার বিষয়টি এ উদ্দেশ্যে গঠিত কমিশনের মাধ্যমে জনসম্মুখে উপস্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী অ্যাডভোকেট আনিসুল হক।

বৃহস্পতিবার (১২ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানে সরকারি আবাসিক অফিসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী এ তথ্য দেন। জিয়াউর রহমান ওই হত্যাকান্ডের সময় সেনাবাহিনীর উপ-প্রধান ছিলেন। বঙ্গবন্ধু নিহত হওয়ার পর ক্ষমতা দখলকারীরা তাকে সেনাপ্রধান করেন। পরে তিনিই ক্ষমতা দখল করেন এবং ক্ষমতায় থাকা অবস্থাতেই বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) গঠন করেন।

সপরিবারে বঙ্গবন্ধুকে হত্যার প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এটা দিনের আলোর মতো সত্য যে জিয়াউর রহমান এ হত্যাকান্ডের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু এখন আপনারা জিজ্ঞাসা করতে পারেন তাহলে যখন এ মামলার তদন্ত হয়, তখন তাকে আসামি করা হয়নি কেন ? আপনারা জানেন, জিয়াউর রহমান ১৯৮১ সালে সেনা সদস্যদের হাতে হত্যার শিকার হয়েছেন। যেহেতু তিনি মৃত, তাকে আসামি করার সুযোগ নেই। আমাদের আইনে মরণোত্তর সাজা দেওয়ার কোনও বিধান নাই। সে জন্য আইনের বাইরে গিয়ে শুধু তামাশা করার জন্য একজনকে সাজা দেবো না। কিন্তু এই হত্যাকান্ডে জিয়াউর রহমান জড়িত থাকার যে সাক্ষ্য-প্রমাণ, এই কমিশনের মাধ্যমে ইনশাআল্লাহ জনসম্মুখে আমরা উপস্থাপন করবো।

মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত পলাতক মোসলেম উদ্দিন ভারতে পলাতক আছে, এ বিষয়ে জানতে চাইলে আনিসুল হক বলেন, মোসলেম উদ্দিনের বিষয়ে একটা কথা আসছিল, আমরা এটা যাচাই-বাছাই করে দেখেছি, এখন পর্যন্ত এর সত্যতা আমরা পাইনি। এদিকে বঙ্গবন্ধু হত্যা মামলায় আরেক মৃত্যুদন্ডপ্রাপ্ত আত্মস্বীকৃত খুনি নূর চৌধুরী যুক্তরাষ্ট্রে আছেন এবং তাকে ফেরত চাওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন। বৃহস্পতিবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানায়।

বঙ্গবন্ধু হত্যায় জড়িত ও ষড়যন্ত্রকারীদের পরিচয় উন্মোচন করতে কমিশন গঠনের বিষয়টি বারবার আলোচনা হচ্ছে। কিন্তু এর কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কিনা-তার জবাবে মন্ত্রী বলেন, জননেত্রী শেখ হাসিনার জনসেবামূলক সরকারের আমলের কথাই বলছি। প্রথম হচ্ছে, বঙ্গবন্ধুর হত্যা মামলা শেষ করা এবং পলাতক আসামিদের সাজা কার্যকর করতে তাদের ফিরিয়ে আনা। আলাপ-আলোচনার মধ্যে থেকে এটা স্পষ্ট হয়ে আসছে। এখন জনসম্মুখে স্পষ্টতার জন্য, যারা এ হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তারা যে এককভাবে হত্যাকান্ড ঘটিয়েছে তা নয়, এর পিছনে একটা ষড়যন্ত্র আছে, সেই ষড়যন্ত্রকারী কারা তাদের অন্তত চিহ্নিত করে তাদের নাম জানিয়ে দেওয়া। এখন এই চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটা কি হবে, তা নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলাপ-আলোচনার পরে কমিশন গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কমিশন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার পরে আপনারা দেখেছেন, ২০২০ সালের মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত দেশে কিন্তু স্বাভাবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মতো অবস্থা ছিল না। এটা শুধু বাংলাদেশে নয়, সমগ্র বিশ্বে। আমরা যে রূপরেখা তৈরি করেছি সেটা কিন্তু এখনও জনসম্মুখে প্রকাশ করতে পারিনি। যখনই করোনা কিছুটা নিয়ন্ত্রণে আসবে তখনই কমিশনের রূপরেখা কি হবে, কমিশনের কার্যাবলি কি হবে, কাদের দ্বারা গঠিত হবে সেটি দেখতে পাবেন।

বিদেশে পলাতক দন্ডপ্রাপ্ত আসামিদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের কোনও ঘাটতি আছে কিনা-এ প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, জাতির পিতা বঙ্গবন্ধুকে খুনের দায়ে সর্বোচ্চ আদালত থেকে যারা সাজাপ্রাপ্ত হয়েছে, এর মধ্যে যারা পলাতক রয়েছে, তাদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকরের ব্যাপারে সরকার বদ্ধপরিকর।

শুধু সরকার নয়, আওয়ামি লিগ যতক্ষণ থাকবে, আমার মনে হয় বাংলাদেশে বঙ্গবন্ধুর অনুসারী একজন থাকলেও এই হত্যাকারীদের ফিরিয়ে এনে রায় কার্যকর করা হবে। সেই ক্ষেত্রে তাদের ফিরিয়ে আনার জন্য আমাদের যে চলমান প্রক্রিয়া, সেটা অব্যাহত আছে। এই চলমান প্রক্রিয়ার ব্যাপারে যদি বিশদ কিছু বলতে যাই, তাহলে চলমান প্রক্রিয়া ব্যাঘাতপ্রাপ্ত হবে। সে জন্য আমি শুধু এটুকু বলবো, এ ব্যাপারে কোনও শিথিলতা নেই, তাদের ফিরিয়ে আনার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।

এর আগে বঙ্গবন্ধুর রাজনৈতিক দর্শনের আলোকে দেশে ন্যায়বিচারে আইন প্রণয়নের কথা জানিয়েছিলেন মন্ত্রী। বিষয়টির অগ্রগতি সম্পর্কে  মন্ত্রী বলেন, এখন যে আইনগুলো হয়, সেগুলো কিন্তু জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি দেশে ফিরে আসার পর থেকে যে আদলে বাংলাদেশকে গড়ে তুলতে চেয়েছিলেন, যে ভিত্তি তিনি স্থাপন করে গেছেন, আমরা এখন আইনগুলোকে সেই আদর্শ এবং সেই ভিত্তির ওপর নির্ভর করেই তৈরি করি।