ফিরে দেখা মে ২০০২ এ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের রিপোর্ট বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর ব্যাপক নির্যাতন হয়েছে

4

॥ পরিষদ বার্তা রিপোর্ট ॥ এ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনাল চলতি বছরের বার্ষিক রিপোর্টে বাংলাদেশে এবারে নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর ব্যাপক নির্যাতন এবং মানবাধিকার লংঘনের ঘটনা ঘটেছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। রিপোর্টের বাংলাদেশ অংশে আরও বলা হয়েছে, পুলিশ দেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা দিতে পারেনি, তাদের ওপর হামলার দায়ে কয়েকজনকে আটক করা হলেও তাদের বিচারের সম্মুখীন করা হয়নি। হামলার অভিযোগ তদন্ত করার জন্য সরকার কমিটি গঠন করার প্রতিশ্রুতি দিলেও এ ব্যাপারে কোন তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়েছে, ঘরে এবং সমাজে নারী এখনও সন্ত্রাসী আক্রমণের লক্ষবস্তু হয়ে রয়েছে।

বিশ^ব্যাপী একযোগে এ রিপোর্ট প্রকাশের অংশ হিসেবে গত ২৮ মে ঢাকায় আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিপোর্টটি প্রকাশ করা হয়। বাংলাদেশ অধ্যায়ের সহ-সভাপতি নাসরিন সুলতানা এতে সভাপতিত্ব করেন। পরিচালক গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দেন। অনুষ্ঠানে এই রিপোর্টে উল্লিখিত বিভিন্ন রাষ্ট্রের মানবাধিকার লংঘনের চিত্র, ক্ষতিগ্রস্তদের সাক্ষাৎকার এবং এ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব আইরিন জোবায়দা খানের বক্তব্য সংবলিত একটি ভিডিও চিত্র প্রদর্শন করা হয়।

এ্যামেনেষ্টি ইন্টারন্যাশনালের বার্ষিক রিপোর্ট-২০০২ এর বাংলাদেশ অংশে বলা হয়েছে, গত নির্বাচনের পূর্ব থেকেই নির্বাচনী সহিংসতা শুরু হয় এবং শেষ পর্যন্ত সব মিলিয়ে ১৫০ জনের প্রাণহানি ঘটে। নির্বাচনের পর সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের শত শত পরিবারের উপর সশস্ত্র হামলা, ধর্ষণ, মারপিট এবং ঘরবাড়ি জ¦ালিয়ে দেয়ার অভিযোগ পাওয়া যায়। তারা আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়েছে এই ধারণা থেকে বিএনপি-র সমর্থকরা সংখ্যালঘুদের উপর হামলা চালায় বলেও অভিযোগ রয়েছে। আইনি সহায়তা সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্র-এর এক আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাইকোর্ট সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা সম্পর্কে সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইলেও কোন ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। রিপোর্টে বলা হয়, ২২ নভেম্বর পুলিশ ভারত থেকে ফেরার পর বিখ্যাত লেখক শাহরিয়ার কবিরকে আটক করে। ডিসেম্বর মাসে তার বিরুদ্ধে রাষ্ট্রদ্রোহিতার মামলা করা হয় কিন্তু কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ প্রমাণ করতে পারেনি। ভারতে পালিয়ে যাওয়া হিন্দুদের ব্যাপারে অনুসন্ধানের কারণেই কেবল তাকে আটক করা হয় বলে রিপোর্টে মন্তব্য করা হয়।

রিপোর্টে আরো বলা হয়, অন্যান্য সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ও হামলার শিকার হয়েছে। ২০০১ সালের জুন মাসে গোপালগঞ্জের বানিয়াচরের একটি গির্জায় বোমা হামলায় ১০ জন নিহত এবং ২০ জন জখম হয়। পাবর্ত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল উপজাতিদের সঙ্গে বাঙালি বসতি স্থাপনকারীদের মধ্যে সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে, মে মাসে জুম্ম জনগোষ্ঠীর ৩ মেয়ে ধর্ষণের শিকার হয়। কিন্তু ধর্ষকদের বিচার হয়নি।