ফিরে দেখা পরিষদ বার্তা ডিসেম্বর-২০০২

6

বিজয় দিবস মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা

সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান

পরিষদ বার্তা রিপোর্ট ।। বিজয় দিবস ও মানবাধিকার দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ আয়োজিত আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সকল গণতান্ত্রিক শক্তিকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

গত ৩১ ডিসেম্বর ২০০২ ঢাকা রিপোর্টাস ইউনিট মিলনায়তনে আয়োজিত এ আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন ঐক্য পরিষদের অন্যতম সভাপতি মেজর জেনারেল (অব.) সি আর দত্ত বীরউত্তম। বক্তব্য রাখেন শ্রীমৎ বোধিপাল মহাথেরো, এ্যাডভোকেট সিরিল সিকদার, এ্যাডভোকেট সুধাংশু শেখর হালদার, অধ্যাপক ড. অজয় রায়, অধ্যাপক ড. দুর্গাদাশ ভট্টাচার্য, অধ্যাপক ড. নিমচন্দ্র ভৌমিক, বাসুদেব ধর, পরিমল দে ও অপু উকিল। সভা পরিচালনা করেন নির্মল চ্যাটার্জি।

সভায় বক্তারা বলেন, মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটলেও দীর্ঘ ৩১ বছরেও অসাম্প্রদায়িক চেতনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত হয়নি। মত প্রকাশের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রতিষ্ঠিত হয়নি। নিশ্চিত হয়নি মানুষের মৌলিক অধিকার অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। এ ব্যর্থতা সব রাজনৈতিক দলের।

বক্তারা বলেন, দেশে আজ মানবাধিকার ভুলণ্ঠিত, মানুষ গণতান্ত্রিক অধিকার থেকে বঞ্চিত। সংখ্যালঘুরা এদেশে একটা ভয়ের পরিবেশে বসবাস করছে। সংখ্যালঘু বিশেষ করে হিন্দু হলেই এখন গুপ্তচর বৃত্তির অভিযোগে অভিযুক্ত করা হচ্ছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর এদেশে এখন আর মানবাধিকার বলতে কিছু নেই। ধর্মীয় সংখ্যালঘু ও ভিন্ন মতের মানুষের ওপর নেমে এসেছে চরম নির্যাতন-নিপীড়ন।

সভায় বলা হয়, যে কোন পরিস্থিতি মোকাবিলা করেই ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের এদেশে টিকে থাকতে হবে। নিজেদের অধিকার আদায়ের জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে। হতাশ হলে সামনে এগুনো যাবে না। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, চিন্তার স্বাধীনতা নিশ্চিত করণ এবং গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য লড়াইয়ের কোন বিকল্প নেই, এ সরকারের কার্যক্রমের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ না করলে বিবেকের কাছে জবাবদিহি করতে হবে।

ঐক্য পরিষদ নেতৃবৃন্দ বলেন, বিদেশে ধর্মনিরপেক্ষ সরকার থাকুক, আর এদেশ চলুক ইসলামী মতাদর্শে-এ ধরনের মনোভাব অত্যন্ত নিন্দনীয়। এ ধরনের দ্বৈত ভূমিকা দেশের স্বার্থের পরিপন্থী। দেশের মানুষকে মূলত বিভক্ত রাখাই এর উদ্দেশ্য।

মেজর জেনারেল (অবঃ) সি আর দত্ত বীরউত্তম সমাপনী বক্তব্যে দেশের বর্তমান পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে তিনটি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এগুলো হচ্ছে বদনাম না হওয়ার আগেই যৌথ অভিযান থেকে সেনাবাহিনী প্রত্যাহার করে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়া, ধ্বংসাত্মক মনোভাব পরিহার করে সকল রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনায় বসে মতবিনিময় ও ঐক্যমতের ভিত্তিতে দেশে সৃষ্ট সমস্যার সমাধান এবং পুলিশকে রাজনৈতিক চিন্তাধারার বাইরে থেকে সত্যিকার অর্থে কাজ করতে দিয়ে সমাজে শান্তি প্রতিষ্ঠা করতে হবে। তাহলেই মুক্তিযুদ্ধের মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা হবে।