ফিরে দেখা পরিষদ বার্তা, ডিসেম্বর-২০০২

8

সাম্প্রদায়িক নির্যাতন-নিপীড়ন

সংক্রান্ত রিপোর্ট প্রকাশিত

। পরিষদ বার্তা রিপোর্ট ।। বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ সাম্প্রদায়িক নির্যাতন ও নিপীড়ন সংক্রান্ত ডিসেম্বর, ২০০২ এ প্রকাশিত রিপোর্ট সম্প্রতি প্রকাশিত করেছে। এই রিপোর্টে বিভিন্ন স্থানে ২৮টি ঘটনার উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রকাশিত তথ্যে দেখা যায়, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর হামলা, নির্যাতন-নিপীড়ন, লুট, দেব-দেবীর মূর্তি ভাংচুর, অপহরণ ও হত্যা অব্যাহত রয়েছে।

গত ডিসেম্বর মাসে চারটি হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। ফরিদপুর শৈলেন দত্ত, পটুয়াখালীতে বিধান সিকদার, সাতক্ষীরায় চিত্রা রাণী রায় এবং গোপালগঞ্জে শিল্পী প্রাণ হারিয়েছেন। শিল্পীকে হত্যা করা হয়েছে গণধর্ষণের পর।

চট্টগ্রাম মিরসরাই উপজেলার জলদাসপাড়ায় প্রতিমা ভাংচুর ও মহিলাদের শ্লীলতাহানি করা হয়েছে। হামলায় আহত ৮ জন। বরিশালে দিপ্তি গাইন এবং কুমিল্লায় সরস্বতী ঘোষ না¤œী এক স্কুল ছাত্রী অপহৃত হয়েছে।

ঢাকার কেরানীগঞ্জে গৌরাঙ্গ মন্দিরের পূজারী লাঞ্ছিত হয়েছেন। নবাবগঞ্জে, সিলেট জেলার বালাগঞ্জ এবং রংপুর জেলার বদরগঞ্জে মূর্তি ভাংচুর করা হয়েছে এবং কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জ উপজেলার জ্ঞানদা সুন্দরী মঠ আক্রান্ত হয়েছে। ঢাকার শুভাঢ্যায় কালী মন্দিরের গয়না লুন্ঠিত হয়েছে।

বিভিন্ন স্থানে জমি দখলের চেষ্টা চলছে। দোকানপাট ও বাড়ি-ঘরে হামলা চালানো হয়েছে। চাপাইনবাবগঞ্জে দুইশত আদিবাসী পরিবারের ওপর নির্যাতন চালানো হয়েছে। ভোলা ও পটুয়াখালীতে জমির ধান লুট করা হয়েছে।

ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের পাশাপাশি মুসলিম মহিলারাও নির্যাতিত হচ্ছেন। ঐক্য পরিষদের এতদসংক্রান্ত অপর একটি রিপোর্টে ৬১টি ঘটনার উল্লেখ রয়েছে। এর মধ্যে ১০ টি হত্যার ঘটনা ঘটেছে, ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ২১ টি। ধর্ষিতাদের মধ্যে পাঁচ বছরের শিশুও রয়েছে। এছাড়া বহু মহিলা আত্মহত্যা করেছেন নানা কারণে।

নাটোরের লালপুর, গাইবান্ধার রসুলপুর, নারায়ণগঞ্জ মাসদাহী, গাজীপুরের সাতামীপাড়া ও ঢাকার মিরপুরে শিশু কন্যা ধর্ষিত হয়েছে। এসিড নিক্ষেপ করা হয়েছে কয়েকজন মহিলার ওপর।