ফিরে দেখা পরিষদ বার্তা আগস্ট- ২০০২ অপকর্ম আড়াল করতে ব্যর্থ চেষ্টা ঃ দ্য স্টেটস্ম্যান

1

।। পরিষদ বার্তা রিপোর্ট ।। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ইংরেজি দৈনিক ‘দ্য স্টেটস্ম্যান’ গত ২৫ জুলাই ‘মাইনরিটি পারসিকিউশন ঃ খালেদা’স ভেইন বিড টু কভার আপ ডার্ক ডিডস’ শিরোনামে এক সম্পাদকীয়তে বলেছে  : বেগম খালেদা জিয়ার জোট সরকার হাইকোর্টে জানিয়েছে যে, ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের ওপর ক্রমাগত ও ব্যাপকভিত্তিক অত্যাচার নিষ্ঠুরতার যে ঘটনাগুলো ঘটেছে সেগুলো ছিল পারিবারিক বা ব্যাক্তিগত দ¦ন্দ্বের ফল। অথচ গোটা বিশ^ পুরো বিষয়টি জানে। প্রধানমন্ত্রী সংখ্যালঘুরা ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে ক্রমাগত নির্যাতনের শিকার হওয়ার কথা অব্যাহতভাবে অস্বীকার করে আসছেন। এ্যামনেস্টি ইন্টান্যাশনালের সেক্রেটারি জেনারেল আইরিন জোবায়দা খান, জাতিসংঘ মানবাধিকার কমিশন ও মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর সুনির্দিষ্টভাবে অভিযোগ করা সত্ত্বেও তিনি তা ‘ভিত্তিহীন ও বানোয়াট’ বলে অস্বীকার করেছেন। এই অস্বীকারের কারণ পরিষ্কার।

স্টেটসম্যান লিখেছে, ধর্ষণ, লুটপাট, অগ্নিসংযোগ ও হত্যাকান্ডের অগুণতি ঘটনা, যার অধিকাংশই দলীয় ক্যাডারদের দ্বারা সংঘটিত হয়েছে তা অস্বীকার করা যায় না। ইতোমধ্যে দাতা দেশ বা গোষ্ঠী বাংলাদেশ ‘অভূতপূর্ব আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতির’ উন্নতি সাধনে সরকার সক্ষম না হওয়া পর্যন্ত সাহায্যের প্রতিশ্রুতি দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। তার দল ও জোট শরিকরাই শুধু এসব ঘটনার একমাত্র হোতা নয়। দেশের প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিন আহমদ এবং তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান, সাবেক প্রধান বিচারপতি লতিফুর রহমান তাদের ক্ষমতাসীন সময়ে সংসদ নির্বাচনের পূর্বে এবং পরে বিভিন্ন মহলের উদ্বেগ প্রকাশ সত্বেও সংখ্যালঘুদের রক্ষায় উদাসীনতা দেখিয়ে সাম্প্রদায়িক হামলার প্রকোপ বাড়তে সহায়তা করেছেন। সত্যিকার অর্থে এই দুই ব্যক্তি এবং বাংলাদেশের প্রধান নির্বাচন কমিশনার ওসব ঘটনাকে অস্বাভাবিক কিছু মনে না করে সেগুলোকে নির্বাচনকালীন স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে দেখেছেন।

সংবাদপত্রটির সম্পাদকীতে আরো বলা হয়েছে, বেগম খালেদা জিয়া সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়গুলোকে প্রশমিত করার জন্য বলেছেন, বাংলাদেশ সংখ্যাগুরু বা সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বলে কিছু নেই। সেখানে সবাই বাংলাদেশি। ‘মাত্র দু’টো ঘটনা আংশিক সত্য’ বলে উল্লেখ করে সরকারি তদন্ত রিপোর্ট পেশ সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি হোয়াইটওয়াশের শামিল। এমনকি ঢাকার সরকার-পন্থী সংবাদপত্রগুলোও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনাগুলো ডাহা মিথ্যা কিনা প্রশ্ন তুলেছে। প্রশ্ন তোলা হয়েছে, সাংবাদিক-মানবাধিকার কর্মী শাহরিয়ার কবিরকে গ্রেফতার ও কারাগারে নির্যাতন করা হয়েছে কেন ? একটি পত্রিকা জিজ্ঞেস করেছে, শাহরিয়ারের লেখা ও সচিত্র প্রতিবেদন ক্ষমতাসীন জোটের সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে অপরাধে সংশ্লিষ্টতা, যা অনেককে ভারতে পালিয়ে যেতে বাধ্য করেছে, সে বিষয়টি তুলে ধরেছে। এ কারণেই কি শাহরিয়ারকে গ্রেফতার ও নির্যাতন করা হয়নি ?

আরেকটি পত্রিকা লিখেছে, বেগম জিয়া যদি সত্যি বলে থাকেন তাহলে এ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সংখ্যালঘুদের ওপর এভাবে ব্যাপক মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি কিভাবে প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে। ঢাকার শীর্ষ স্থানীয় সংবাদপত্রগুলো যদি সত্যনিষ্ঠ সংবাদ প্রকাশে সাহসী ভূমিকা না নিতো তাহলে ১৯৭১ এর পর এরকম ভয়াবহ সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিষয়টি অজ্ঞাতই থেকে যেতো। সংবাদপত্রের এই ভূমিকা সরকারকে দারুণ বিব্রত করেছে। অবশ্য বেগম জিয়ার সরকার এজন্য বসে নেই। তারা জনকণ্ঠ-এর মতো পত্রিকাকে শাস্তি দিচ্ছে । বেগম জিয়া উল্টো সাংবাদিকদের এই পেশাগত দায়িত্ব পালনের বিষয়টিও তার এবং দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণœ করার অপচেষ্টা বলে অভিহিত করেছেন যা খুবই দুর্ভাগ্যজনক। পুরো বিষয়টিকে তার আরো গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত ছিল।