প্রণববাবু ও বাংলাদেশ (প্রথম পর্ব)

25

গৌতম লাহিড়ী

তৃতীয় অধ্যায়

অভিভাবক প্রণবদা

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট। নয়াদিল্লিতে ভারতের স্বাধীনতা দিবস উদযাপন। লালকেল্লা থেকে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী জাতির উদ্দেশে ভাষণ দিচ্ছেন। সেই দিনই ভোর রাতে ঢাকার ধানমন্ডির বাড়িতে উপস্থিত সদস্যসহ নিহত বঙ্গবন্ধু। তারপরই সামরিক অভুত্থান। প্রণববাবু সেদিন কলকাতায় ছিলেন। আকাশবাণীর সংবাদে জানতে পারেন দুঃসংবাদ। ছুটে আসেন দিল্লি। প্রথমেই খোঁজ করেন কারা কারা নিহত। বঙ্গবন্ধু ছাড়া পতœী ফজিলাতুন্নেসা, ভাই শেখ নাসের, দুই পুত্র শেখ কামাল ও শেখ জামাল এবং কনিষ্ঠ পুত্র শেখ রাসেল। পরিবারের অন্য যে সদস্যরা ছিলেন তাদেরও হত্যা করা হয়। সৌভাগ্যবশত দুই কন্যা শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা তখন ঢাকায় ছিলেন না।

শেখ হাসিনার স্বামী এম এ ওয়াজেদ মিয়াঁ পরমাণু বিজ্ঞানী। সপরিবারে গিয়েছিলেন জার্মানি। বন শহরে। জার্মানির বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত হুমায়ুন রশীদ চৌধুরী। তাঁর আতিথেয়তায় ছিলেন। সেখান থেকে ব্রাসেলসে ছুটি কাটাতে গিয়েছিলেন ওঁরা। ব্রাসেলসে রাষ্ট্রদূত ছিলেন সানওয়ারুল হক। তাঁর আতিথেয়তায় ছিলেন। তিনিই প্রথম জানতে পারেন ঢাকার অঘটনের কথা। তখনও বঙ্গবন্ধু হত্যার কথা শেখ হাসিনাকে জানাননি। পরিবর্তে তাঁদের দ্রুত বনে ফেরত যেতে বলেন। শুধু এই কথা বলেন, ঢাকায় সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। আদতে তিনি জানতে পেরেছিলেন সামরিক অভ্যুত্থান হয়েছে। মুজিব সরকার আর নেই। এখন যদি সেনা প্রশাসন জানতে পারে তিনি শেখ হাসিনাদের আশ্রয় দিয়েছেন তাহলে তাঁর চাকরি নিয়ে টানাটানি হবে। কোনো ঝুঁকি নিতে চাননি। যত দ্রুত সম্ভব ব্রাসেলসের সীমান্ত পার করিয়ে দেন।

বন-এ ফিরে শেখ হাসিনা জানতে পারেন ভয়াবহ তথ্য। ঠিক সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর দূত বন-এ পৌঁছায়। তিনি জানান, ম্যাডাম চাইছেন আপনারা সকলেই ভারতে আসুন। তিনি নিরাপদ আশ্রয় দেবেন। কেননা বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলকে হত্যা করাই খুনিদের উদ্দেশ্য। হত্যাকারীরা যদি জানতে পারে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা বেঁচে আছেন তাহলে তাঁদের ওপরও হামলা হবে। হত্যাকারীরা মুজিব পরিবারকেই মুছে দিতে চেয়েছিল। প্রণববাবু তখন ইন্দিরা মন্ত্রিসভার ব্যাংকিং ও রাজস্বমন্ত্রী। স্ত্রী শুভ্রা মুখার্জি ইন্দিরা গান্ধীর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ। পছন্দ করতেন তাঁর কন্ঠের রবীন্দ্রসঙ্গীত। বৌদির হাতের মাছের ঝোল পছন্দ। তাঁকেই বলেছিলেন, এক বিশেষ অতিথি আসবেন। তাঁর পরিবারকে তোমায় দেখতে হবে। সেই সূত্রেই প্রণববাবুর সঙ্গে শেখ হাসিনার পরিচয়। পুত্র সজীব ওয়াজেদ আর সাইমা (পুতুল) ওয়াজেদ অত্যন্ত ছোটো।

শেখ হাসিনা স্বামী, বোন রেহানাকে নিয়ে চলে এলেন দিল্লিতে। ভারতীয় গোয়েন্দাদের ‘সেফ হাউস’ ছিল লাজপত নগরে। ৫৬ নম্বর। ভারত সরকারের গোপন অতিথিরা এখানে উঠতেন। প্রধানমন্ত্রী গান্ধী শেখ হাসিনার স্বামী ওয়াজেদ মিঁয়াকে ভারতের পরমাণু গবেষণা নিগমের ল্যাবরেটরিতে গবেষণার জন্য মনোনীত করেন। কিছুদিনের মধ্যেই ভারতে জরুরি অবস্থা জারি করা হলো। দেশ উত্তাল। সেই সময়ে প্রণববাবু প্রধানমন্ত্রীকে বলে শেখ হাসিনার পরিবারকে ল্যুটিয়েন দিল্লিতে নিয়ে আসার প্রস্তাব দেন। রোজ তাঁদের পক্ষে লাজপত নগরে খোঁজখবর করা সম্ভব নয়। ইন্ডিয়া গেটের কাছে পান্ডারা রোডের সি ব্লকে একটা অফিসার্স কোয়াটার্স দেওয়া হলো। প্রায় প্রতিদিনই শেখ হাসিনা ছেলে-মেয়েদের নিয়ে চলে আসতেন প্রণববাবুর বাড়িতে। প্রণববাবুর স্ত্রী, গীতা বৌদি নামে পরিচিত, তিনিই তাঁদের দেখভাল করতেন। সময় কাটাতেন। জয়-পুতুলের খেলার সাথী ছিল প্রণবের ছেলে-মেয়ে। অভিজিত-শর্মিষ্ঠা। অনেক সময় ওরা যেতেন ইন্দিরা গান্ধীর বাড়ি। রাহুল-প্রিয়াংকার  সঙ্গেও সময় কাটাতেন।

এই কাহিনির উল্লেখ করার কারণ Ñপ্রধানমন্ত্রী ও প্রণববাবু বাংলাদেশের ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তিত ছিলেন। মাঝেমধ্যেই আলোচনা হতো। ইন্দিরা বলতেনÑ হোয়াটস লেটেস্ট ইন ঢাকা প্রণব। প্রণববাবু ঘনিষ্ঠ মহলে বলতেনÑ বঙ্গবন্ধুর হত্যার জবাব দিতেই হবে। আর এটা পারবে একমাত্র শেখ হাসিনা। জবাব বুলেটে নয়। ব্যালটে। ইন্দিরা গান্ধীকে বলেছিলেনÑ আমি হাসিনার মধ্যে এক ধরনের আত্মপ্রত্যয় দেখছি। সবসময়েই দেশ নিয়ে ভাবছে। পিতার নৃশংস হত্যার পরও মুষড়ে পড়েনি। বরং পিতার স্বপ্ন পূরণ করার এক অদম্য আগ্রহ রয়েছে। ও দেশে ফিরতে চায়।

ইন্দিরা গান্ধী রাজী হননি। কারণ ভিন্ন। দেশের অভ্যন্তরে জরুরি অবস্থার বিরুদ্ধে জনতা রাস্তায়। নির্বাচন ঘোষণা করা হয়েছে। বাংলাদেশ নিয়ে ভাববার অবকাশ ছিল না। নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী পরাজিত হলেন। ক্ষমতাচ্যুত। নতুন প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই তাঁর বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশন গঠন করেছেন। যা ভারতে শাহ কমিশন নামে খ্যাত। তবে প্রধানমন্ত্রী মোরারজী দেশাই সরকার শেখ হাসিনা পরিবারকে বিব্রত করেনি। নির্দেশ ছিল একটাই। যখন তখন কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে দেখা করা চলবে না। তবে শুনেছি অনেকেই গোপনে দেখা করতো। এখন যিনি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রেস সচিব ইহসানুল কারম তখন দিল্লিতে মাস কমিউনিকেশনের ছাত্র। তিনি গোপনে দেখা করতেন। যেমন করতেন সাংবাদিক জগলুল চৌধুরী।

মোরারজী দেশাই সরকার বেশিদিন টিকলো না। ফের নির্বাচন। ১৯৮০ সাল। ইন্দিরা গান্ধী নিশ্চিত তিনি জিতবেন। প্রণববাবুকে বলেই ফেললেন- ‘আমি জিতছি। সরকার হোক। তারপর তোমার বাংলাদেশ নিয়ে ভাববো।’ ইন্দিরা গান্ধী জয়ী। আবার প্রধানমন্ত্রী। তখন বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি উত্তাল। অনিশ্চিত পরিমন্ডল। শেখ হাসিনা ফিরতে মরিয়া। শেষ পর্যন্ত ১৯৮১ সালের মে মাসে শেখ হাসিনা ফিরলেন ঢাকায়। তার আগে তিনি ‘নির্বাসিত’ অবস্থায় আওয়ামী লীগের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন। পুত্র জয় প্রথমে নৈনিতালের সেন্ট যোশেফ স্কুল এবং পরে তামিলনাড়–র পালানি হিলসের কোডাইকানাল ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে পড়াশোনা করেন। বাঙ্গালোর বিশ্ববিদ্যালয়ে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে ¯œাতক হওয়ার পর টেক্সাস চলে যান। যতদিন এঁরা দিল্লিতে ছিলেন ততদিন প্রণববাবু প্রকৃত অর্থেই ‘স্থানীয় অভিভাবক’ ছিলেন। সেই সূত্র ধরেই তিনি বাংলাদেশের ‘অঘোষিত অভিভাবক’ হয়ে যান। আজও তাঁকে বাংলাদেশের জনতা অভিভাবক রূপে স্বীকৃতি দেন। তিনি শেখ হাসিনার ‘প্রণবদা’।

শেখ হাসিনা পরিবারের সঙ্গে প্রণববাবুর পরিবারের সম্পর্ক রাজনীতির সীমা ছাড়িয়ে পারিবারিক সম্পর্কে রূপান্তরিত হয়। এই প্রসঙ্গে একটা ঘটনার উল্লেখ না করে পারছি না। হাসিনা পরিবারের যে কেউ দিল্লিতে আসতো তাঁরা একবার প্রণববাবুর বাড়িতে না এসে থাকতে পারতো না। বিশেষ করে জয়-পুতুল এলেই ‘আংকল প্রণব’ এর সঙ্গে দেখা না করে ফিরতো না। এঁদের সঙ্গে দেখা হলে সবসময় রাজনীতির কথা হতো, তা নয়। বাংলাদেশ নিয়ে নিশ্চয়ই আলোচনা হতো। রাজনৈতিক রণনীতি নিয়ে কথা হতো না। এই বিষয়ে প্রণববাবু প্রটোকল মেনে চলেন। কার সঙ্গে কী আলোচনা করতে হবে সেটা তিনি জানেন।

প্রথম ইউপিএ সরকারের আমলে প্রণববাবু প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। জয় এসেছিল আমেরিকা থেকে। প্রণববাবু তাকে বাড়িতে ডেকে নৈশভোজ খাওয়ান। ঢাকায় বিএনপির খালেদা জিয়ার সরকার। দিল্লিতে সরকারি সংবাদ সংস্থা বাসস-এর প্রতিনিধি ছিলেন জাহাঙ্গীর হোসেন। রাজনৈতিক মতাদর্শ যাই হোক অত্যন্ত দক্ষ সাংবাদিক। আমার সঙ্গে বন্ধুত্ব হয়ে গিয়েছিল। যেমন প্রায় অধিকাংশ বাংলাদেশি সাংবাদিকের সঙ্গে হয়।

জাহাঙ্গীরভাই গোয়েন্দা সূত্রে খবর পান হাসিনা তনয় জয় দিল্লিতে। তাঁর সন্দেহ, প্রণববাবুর সঙ্গে দেখা হবেই। আমাকে বললেন প্রণববাবুর সঙ্গে দেখা করবেন। সেদিন সংসদের অধিবেশন চলছে। প্রণববাবু সংসদভবনে। ওঁনার কক্ষ ১৩ নম্বর। ওঁনার জীবনে ঐ ১৩ আনলাকি নয়। ওঁনার বাড়ি ১৩ নম্বর তালকোটরা রোড। ঘটনাচক্রে পরে যখন রাষ্ট্রপতি হন তখন তিনি ত্রয়োদশ রাষ্ট্রপতি। ইউপিএ সরকার ক্ষমতায় আসার পরে সোনিয়া গান্ধী তাঁকে বলেছিলেন তাঁর দশ নম্বর জনপথের নিকটবর্তী কোনো সরকারি বাংলোয় চলে আসতে। প্রণববাবু ঐ ১৩ নস্বর ছাড়তে রাজী হননি।

যেকথা বলছিলাম। জাহাঙ্গীরকে নিয়ে পার্লামেন্টে এলাম। কথা মতো প্রণববাবুর কক্ষে ঢুকলাম। ভীষণ ক্লান্ত। বললেন, ‘আজ কথা বলতে পারছি না।’ বললামÑ আপনাকে বলেছিলাম বাসস-এর দিল্লি প্রতিনিধিকে নিয়ে আসবো। উনি এসেছেন। প্রণববাবু স্বভাবসিদ্ধ ঢং-এ বললেনÑ আজ নয়। অন্যদিন আসুন দেখা করবো। জাহাঙ্গীর এক মুহুর্ত সময় নষ্ট না করে প্রশ্ন করে বসলোÑ আপনার কাছে জয় এসেছিল ? প্রণববাবু সাতপাঁচ না ভেবেই বললেনÑ হ্যাঁ। ও তো ডিনার করলো। ওরা তো দিল্লি এলেই দেখা করে। এ আর নতুন কি ? নমস্কার বিনিময় করে ফিরে এলাম। বেসমেন্টে প্রণববাবুর অফিস। সেখানে ব্যক্তিগত স্টাফরা বসেন। বসেন আপ্ত সহায়ক প্রদ্যুত গুহ। সকলের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দিলাম। সকলেই বললোÑ বাংলাদেশ তো আমাদের বিশেষ পছন্দের দেশ। আপনি স্বাগত। আমাদের দিনে দশটা ফোন ধরতে হয় ঢাকার। নয়তো কেউ আসে।

পরদিন সাত সকালে প্রণববাবুর অফিস থেকে ফোন। প্রদ্যুত বললোÑ দাদা তোকে ডেকেছে। গেলাম। বললেনÑ কাল কাকে নিয়ে এসেছিলি ? সেতো ঢাকায় আগুন জ্বালিয়ে দিয়েছে। শুনলাম বাসসের দিল্লি প্রতিনিধি খবর পাঠিয়েছে Ñ ইন্ডিয়ান ডিফেন্স মিনিষ্টার হ্যাড এ সিক্রেট মিটিং উইথ সজীব জয় ইন নিউদিল্লি টু ডিসলজ বিএনপি গভর্নমেন্ট। নাম প্রণব মুখার্জি হলে কি হবে ? আসলে তিনি তো ভারতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী। যথেষ্ট উত্তেজনা তৈরি হলো। তখন ঢাকার যুগান্তর পত্রিকার প্রতিনিধি আজকালের দেবারুণ রায়ের স্ত্রী শর্মিষ্ঠা। ঢাকা থেকে ফোন। খোঁজ নিন। দেবারুণ উত্তেজিত হয়ে আমায় ফোন করলো। আমি তখন বাধ্য হয়ে ফের প্রণববাবুর সঙ্গে দেখা করে বলি, আপনি খবরটা খন্ডন করুন। এই ধরনের কোন মিটিং হয়নি। নইলে অযথা বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সন্ধ্যায় ভারতের প্রেস ইনফরমেশন ব্যুরো থেকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বিবৃতি জারি হলো। তিনি জয়ের সঙ্গে কোনো রাজনৈতিক বৈঠক করেননি। বৈঠক করেননিÑ এটা কৌশল করে অস্বীকার করা হলো না। আজ এতোদিন পরে পিছন ফিরে দেখলে মনে হয়, প্রণববাবু বিশেষ উত্তেজিত হননি। কেননা, তিনি চাইছিলেন খালেদা জিয়া সরকার চাপের মধ্যে পড়–ক। হয়তো সেই কারণেই কোনাদিনই খালেদা জিয়ার সঙ্গে প্রণববাবুর কোনো রসায়ন তৈরি হয়নি। পরে প্রণববাবুই বলেছিলেনÑ ওকে আবার নিয়ে আসিস। এবার জাহাঙ্গীর নিজেই ভয়ে আসেননি।

সেই আগের কথায় ফিরে আসি। নির্বাসিত হাসিনা ঢাকা ফিরছেন দিল্লি থেকে। ১৯৮১ সালের মে মাস। বাংলাদেশে প্রবল রাজনৈতিক অস্থিরতা। সামরিক শাসক জেনারেল জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামে অতিথিনিবাসে বিদ্রোহী সেনাদের হাতে নিহত। কিছুদিন বিচারপতি সাত্তার রাষ্ট্রপতি হলেও সেনাপ্রধান হুসেইন মহম্মদ এরশাদ ক্ষমতা দখল করলেন কিছুদিনের মধ্যেই। এরশাদের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর যদিও একটা সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। তার প্রয়োজন ছিল। উত্তরপূর্ব ভারতে জঙ্গীদের উৎপাত বেড়েছে। ইন্দিরা গান্ধী চাইছিলেন এরশাদকে দিয়ে সেটা দমন করাতে। প্রণববাবু কতটা সন থেকে মেনে নিয়েছিলেন তাতে সন্দেহ রয়েছে। যদিও কোনো মন্তব্য করেননি। প্রধানমন্ত্রী গান্ধীর বিরোধিতা করার কথা স্বপ্নেও ভাবেন না। তাছাড়া তিনি অর্থমন্ত্রী হিসাবে বাংলাদেশ নিয়ে ততটা মনোনিবেশ করেননি। ১৯৮৪ সালে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর আচমকা হত্যাকান্ডের পর প্রণববাবুর রাজনৈতিক ভাগ্য বদলে গিয়েছিল। সেটা আমার ‘অকথিত প্রণব’ এর প্রথম দুটি খন্ডে উল্লেখ করেছি।

প্রণববাবু ফের কেন্দ্রে মন্ত্রী হন ১৯৯৩ সালে। বিদেশমন্ত্রী হন ১৯৯৫ সালে। এক বছরের মধ্যে  নরসিংহ রাওয়ের সরকারের লোকসভা ভোটে পরাজয়। সেই সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে চিন্তা করার সময় পাননি। যদিও হাসিনা পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ ছিল। নিয়মিত বাংলাদেশ রাজনৈতিক পরিস্থিতির ওপর নজর রাখতেন।                                                               (চলবে)