প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা পৌঁছে দেবো বিজয় দিবসে প্রধানমন্ত্রী

5

ডেস্ক রিপোর্ট।। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের বলিষ্ঠ নেতৃত্বে বাঙালি জাতি ১৯৪৮-’৫২এর ভাষা আন্দোলন, ৬২ শিক্ষা আন্দোলন, ৬৬ দফা, ৬৯ ১১ দফা গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে স্বাধীনতার জন্য প্রস্তুত হয়ে ওঠে ৭০ সাধারণ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমগ্র পাকিস্তানে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে কিন্তু পাকিস্তানিরা বাঙালি জাতিকে ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হতে দেয়নি

মহান বিজয় দিবস (১৬ ডিসেম্বর) উপলক্ষে এক বাণীতে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

তিনি বলেন, জাতির পিতা অনুধাবন করেন, স্বাধীনতা অর্জন ছাড়া বাঙালি জাতির ওপর অত্যাচার, নির্যাতন বঞ্চনার অবসান হবে না তাই তিনি ১৯৭১ সালের মার্চ ঐতিহাসিক রেসকোর্স ময়দানের জনসমুদ্রে দাঁড়িয়ে দৃপ্তকণ্ঠে ঘোষণা করেন, ‘এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ডাকে শুরু হয় অসহযোগ আন্দোলন, চলতে থাকে সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধের প্রস্তুতি পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী ১৯৭১এর ২৫ মার্চ কালরাতে নিরীহ নিরস্ত্র বাঙালির ওপর গণহত্যা শুরু করে ২৬ মার্চের প্রথম প্রহরে বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেন শুরু হয় সশস্ত্র মুক্তিযুদ্ধ

শেখ হাসিনা বলেন, ১৭ এপ্রিল মুজিবনগরে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে রাষ্ট্রপতি, সৈয়দ নজরুল ইসলামকে উপরাষ্ট্রপতি এবং তাজউদ্দিন আহমদকে প্রধানমন্ত্রী করে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশের প্রথম সরকার শপথ গ্রহণ করে মুজিবনগর সরকারের নির্দেশনায় বীর মুক্তিযোদ্ধারা মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে পাকিস্তানি হানাদার এবং তাদের দেশীয় দোসর রাজাকারআলবদরআলশামস বাহিনীকে পরাজিত করে ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় অর্জন করেন

তিনি বলেন, জাতির পিতা মাত্র সাড়ে বছরে যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশকে পুনর্গঠন করেন ধ্বংসপ্রাপ্ত রাস্তাঘাট, ব্রিজকালভার্ট, রেললাইন পোর্ট সচল করে অর্থনীতিতে গতি সঞ্চার করেন মাত্র ১০ মাসে তাঁর নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনার ভিত্তিতে আমাদের সংবিধান প্রণীত হয় ১৯৭৫ সালে জিডিপি প্রবৃদ্ধির হার শতাংশ অতিক্রম করে যুদ্ধবিধ্বস্ত বাংলাদেশকে বঙ্গবন্ধুস্বল্পোন্নতদেশের কাতারে নিয়ে যান

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সকল প্রতিবন্ধকতা মোকাবিলা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব যখন একটি শোষণবঞ্চনামুক্ত অসাম্প্রদায়িক গণতান্ত্রিকসোনার বাংলাগড়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলেন ঠিক তখনই স্বাধীনতাবিরোধী অপশক্তি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের কালরাতে তাঁকে পরিবারের বেশিরভাগ সদস্যসহ নির্মমভাবে হত্যা করে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবকে হত্যার পর থেমে যায় বাংলাদেশের উন্নয়নঅগ্রযাত্রা শুরু হয় হত্যা, ক্যু আর ষড়যন্ত্রের রাজনীতি ঘাতক এবং তাদের দোসররা ইতিহাসের এই জঘন্যতম হত্যাকান্ডের বিচারের পথ রুদ্ধ করতে জারি করেইনডেমনিটি অধ্যাদেশ

তিনি বলেন, দীর্ঘ ২১ বছর পর বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ ১৯৯৬ সালে জনগণের ভোটে জয়ী হয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পায় আমরা দায়িত্ব নিয়েই বাংলাদেশকে একটি মর্যাদাশীল দেশ হিসেবে বিশ্বের বুকে প্রতিষ্ঠিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি প্রবর্তনের মাধ্যমে গরিব, প্রান্তিক মানুষদের সরকারি ভাতার আওতায় আনা হয় কৃষি উৎপাদনের ওপর বিশেষ জোর দিয়ে দেশকে খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করি পানির হিস্যা আদায়ে ১৯৯৬ সালে ভারতের সঙ্গে গঙ্গা পানি বণ্টন চুক্তি সই হয় পার্বত্য চট্টগ্রামে শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ১৯৯৭ সালে ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি সম্পাদন করিইনডেমনিটি অধ্যাদেশবাতিল করে আমরা বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম শুরু করি

শেখ হাসিনা বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সাল থেকে ধারাবাহিকভাবে সরকার গঠন করে গত ১৫ বছর ধরে মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে আমরা আজ জাতির পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো বাস্তবায়ন করছি খাদ্য উৎপাদনে বাংলাদেশ আজ স্বয়ংসম্পূর্ণ আমরা এখন পুষ্টি নিরাপত্তা নিশ্চিতে কাজ করছি মিয়ানমার ভারতের সঙ্গে সমুদ্রসীমা বিরোধের শান্তিপূর্ণ নিষ্পত্তির মাধ্যমে বঙ্গোপসাগরে বিশাল এলাকার ওপর আমাদের সার্বভৈৗম অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশভারত স্থলসীমান্ত চুক্তি বান্তবায়নের মাধ্যমে ছিটমহলবাসীর দীর্ঘদিনের মানবেতর জীবনের অবসান হয়েছে বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডের বিচারের রায় কার্যকরের মধ্য দিয়ে জাতি গ্লানিমুক্ত হয়েছে জাতীয় চার নেতা হত্যাকান্ডের বিচার কার্যক্রম সম্পন্ন করা হয়েছে যুদ্ধাপরাধীদের বিচার অব্যাহত রয়েছে এবং বিচারের রায় কার্যকর করা হচ্ছে

তিনি বলেন, আমরা ২০২১২০৪১ মেয়াদি দ্বিতীয় প্রেক্ষিত পরিকল্পনা প্রণয়ন করেছি এবং ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছি আমরাই বিশ্বে প্রথম শত বছরেরবদ্বীপ পরিকল্পনা ২১০০বাস্তবায়ন শুরু করেছি বাংলাদেশের উন্নয়ন অভিযাত্রায়ডিজিটাল বাংলাদেশএর সুবিধা আজ শহর থেকে প্রত্যন্ত গ্রাম পর্যায়ে বিস্তৃত হয়েছে প্রতিটি গ্রামে শহরের নাগরিক সুযোগসুবিধা পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে দেশের সকল গৃহহীনভূমিহীনের জন্য ঘর তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে বাংলাদেশের একটি মানুষও আর গৃহহীন থাকবে না শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে মাথাপিছু আয় ২০০৫০৬ সালের ৫৪৩ মার্কিন ডলার হতে বৃদ্ধি পেয়ে বর্তমানে হাজার ৭৬৫ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে আমরা দেশের প্রতিটি খাতে অভাবনীয় অগ্রগতি অর্জন করেছি কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, যোগাযোগ, তথ্যপ্রযুক্তি, শিল্প, ব্যবসাবাণিজ্যসহ আর্থসামাজিক উন্নয়নের প্রতিটি ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখন বিশ্বের বুকেরোল মডেল বাংলাদেশ স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মর্যাদাশীলউন্নয়নশীলদেশে উন্নীত হওয়ার জাতিসংঘের চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করেছে

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বাংলাদেশকেস্বল্পোন্নতদেশে উন্নীত করেন, আর আমরা মাতৃভূমিকেউন্নয়নশীলদেশের কাতারে নিয়ে গেছি স্বাধীনতার পর বিগত ৫২ বছরে আমাদের যা কিছু অর্জন তা জাতির পিতা এবং আওয়ামী লীগের হাত ধরেই হয়েছে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমাদের এই উন্নয়নের গতিধারা অব্যাহত থাকলে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশ ২০৪১ সালের মধ্যেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবের ক্ষুধাদারিদ্র্যমুক্ত উন্নতসমৃদ্ধ স্বপ্নের সোনার বাংলাদেশে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ

তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর মুক্তিযুদ্ধে বিজয়ের মাধ্যমে জাতিরাষ্ট্রবাংলাদেশপ্রতিষ্ঠা হলো বাঙালি জাতির শ্রেষ্ঠ অর্জন এই অর্জনকে অর্থবহ করতে স্বাধীনতার মহানায়ক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে সবাইকে জানতে জানাতে হবে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা আমরা পৌঁছে দেবোবিজয় দিবসে এই হোক আমাদের অঙ্গীকার

এর আগে দেশবাসীকে বিজয় দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজয়ের মাসে আমি দেশবাসীকে আন্তরিক শুভেচ্ছা অভিনন্দন জানাই আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে স্মরণ করছি জাতীয় চার নেতা, ৩০ লাখ শহিদ, সম্ভ্রমহারা দুই লাখ মাবোন এবং জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের, যাদের মহান আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা পেয়েছি স্বাধীনসার্বভৌম বাংলাদেশ কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি সেই সব দেশ ব্যক্তিবর্গের প্রতি যারা আমাদের মুক্তিযুদ্ধে নানাভাবে সহায়তা দিয়েছেন