নারীপাচার চক্র পাঁচ শতাধিক নারীকে ভারতে পাচার করেছে

4

ডেস্ক রিপোর্ট।। একটি আন্তর্জাতিক নারীপাচার চক্র গত পাঁচ বছরে বাংলাদেশ থেকে কমপক্ষে পাঁচ শতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছে এবং তাদের জোরপূর্বক যৌনকর্মে বাধ্য করেছে বলে জানিয়েছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)।

এই চক্রে উভয় দেশের প্রায় ৫০ জন সদস্য আছে। র‌্যাব জানায়, চক্রের অন্যতম ‘মূল হোতা’ ঝিনাইদহের আশরাফুল মন্ডল ওরফে ‘বস রাফি’।

রাফি গত পাঁচ বছর ধরে নারীপাচারের সঙ্গে জড়িত। দুই বছর আগে তার সঙ্গে টিকটক হৃদয়ের পরিচয় হয়। রাফি টিকটক হৃদয়ের মাধ্যমে প্রায় অর্ধশতাধিক তরুণীকে ভারতে পাচার করেছেন বলে জানায় র‌্যাব। মঙ্গলবার (০১ জুন) রাজধানীর কারওয়ানবাজারে র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে র‌্যাবের গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন এসব তথ্য জানান।

সম্প্রতি ২২ বছরের এক তরুণীকে যৌন নির্যাতনের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে গত ২৭ মে ভারতের বেঙ্গালুরু থেকে টিকটক হৃদয়সহ ছয় জনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

এ ঘটনার পর গত দুই দিনে অভিযান চালিয়ে রাফিসহ চার জনকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। অন্য তিন জন হলেন, যশোরের সাহিদা বেগম ওরফে ম্যাডাম সাহিদা, ইসমাইল সরদার ও আবদুর রহমান শেখ ওরফে আরমান শেখ। ঝিনাইদহ ও যশোরের অভয়নগর ও বেনাপোল এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, ভারতে গ্রেপ্তারকৃত টিকটক হৃদয় রাফির অন্যতম সরবরাহকারী বা এজেন্ট। টিকটক হৃদয় অনলাইনে টিকটক ও বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া গ্রুপের তরুণীদের টিকটক মডেল বানানো ও অন্যান্য প্রলোভন দেখিয়ে উশৃংখল জীবনে আকৃষ্ট ও অভ্যস্ত করতেন। পরবর্তীতে তাদেরকে ভারত বা বিভিন্ন উন্নত দেশে বিভিন্ন মার্কেট, সুপারশপ, বিউটি পার্লারে ভালো বেতনের চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে রাফির মাধ্যমে ভারতে পাচার করতেন মূলত যৌনবৃত্তিতে নিয়োজিত করার উদ্দেশ্যেই প্রতিবেশি দেশের দক্ষিণ অঞ্চলে তাদের পাচার করা হতো বলে জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব জানায়, রাফির শিক্ষাগত যোগ্যতা অষ্টম শ্রেণি। আট বছর আগে থেকে ভারতের দক্ষিণাঞ্চলে তার যাতায়াত আছে। তিনি সেখানে ট্যাক্সি ড্রাইভার, হোটেলে রিসোর্ট কর্মচারী ও কাপড়ের ব্যবসা করতেন।

রাফি তামিল ভাষা রপ্ত করেছিলেন, এক্ষেত্রে তার ভাষাগত দক্ষতা ব্যাপক ভূমিকা রাখে। এক পর্যায়ে তিনি রিং লিডার হয়ে যান। ভারতের এজেন্ট তাকে খদ্দের প্রতি ১০-১৫ হাজার টাকা কমিশন দিতেন বলেও জানায় র‌্যাব।

র‌্যাব আরও জানায়, বেঙ্গালুরুতে রাফির বেশ কয়েকটি সেফ হাউস আছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের সীমান্তবর্তী জেলাগুলোতে তার সেফ হাউস রয়েছে।