নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণে এ পর্যন্ত শিশুসহ ১৭ জনের মৃত্যু

8

।। নিজস্ব বার্তা পরিবেশক।।
নারায়ণগঞ্জের তল্লা বায়তুল সালাহ জামে মসজিদে শুক্রবার রাতে বিস্ফোরণের ঘটনায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৭ জনে দাঁড়িয়েছে। মৃতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শেখ হাসিনা বার্ন অ্যান্ড প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে মোট ৩৭ জন দগ্ধ ব্যক্তিকে ভর্তি করা হয়েছিল। বাকি যারা ভর্তি আছেন তাদের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন প্রধান সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন।
নারায়ণগঞ্জের মসজিদে বিস্ফোরণ হয়েছে নাকি এটি কোনো নাশকতার ঘটনা তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। আজ এক ভার্চুয়াল আলোচনা সভায় মন্ত্রী বলেন, মসজিদে এসি বিস্ফোরণে হতাহতের ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি দগ্ধদের সর্বোচ্চ চিকিৎসা সেবা দেয়ার নির্দেশ ও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে,মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনার পর প্রাথমিকভাবে অনেকেই এসি বিস্ফোরণের ঘটনা হিসেবে উল্লেখ করলেও মূলত তা গ্যাস লাইনের লিকেজ থেকে ঘটেছে বলে তারা মনে করেন । ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের উপ-সহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন গণমাধ্যমকে বিষয়টি জানান। শুক্রবার রাত পৌনে ৯টায় ওই বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে ইমাম ও মুয়াজ্জিনসহ প্রায় ৪৫ জন আহত হয়। তাদের মধ্যে ৩৭ জনকে রাজধানীর শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্ল্যাস্টিক সার্জারি ইন্সটিটিউটে ভর্তি করা হয়। এর মধ্যে এখন পর্যন্ত ১৭ জনের মৃত্যু হয়েছে।
দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে ফায়ার সার্ভিসের টিম। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে তারা জানান, মসজিদের নিচ দিয়ে গ্যাসের একটি পাইপ রয়েছে। ওই পাইপের লিকেজ দিয়ে মসজিদের ভেতরে গ্যাস জমে যায়। এর মধ্যে এসি চলার কারণে মসজিদের ভেতরে সবগুলো জানালা ও দরজা বন্ধ ছিল। ফলে নির্গত গ্যাস বের হতে পারেনি। বিস্ফোরণের আগে কেউ হয়তো বাতি বা বিদ্যুতের কিছু জ্বালানোর সময় স্পার্ক করে। সেই স্পার্ক থেকেই বিস্ফোরণ ঘটে। সঙ্গে সঙ্গে সেটার কারণে এসি ও বাইরের ট্রান্সফরমারেও আগুন ধরতে পারে।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা বলেন, নামাজের আগে থেকেই মসজিদ বন্ধ করে এসিগুলো চালু করার ফলে পুরো রুমেই এসি ও গ্যাস মিশে যায়। আর গ্যাসের ধর্মই হল বিস্ফোরণের অবস্থা তৈরি হলে বা কোনও আগুনের সংশ্লিষ্টতা পেলে এরা বিস্ফোরিত হয় বা জ্বলে উঠে। সেই সূত্র মতেই এই ঘটনা ঘটে। সেই সঙ্গে এসিগুলো বিস্ফোরিত হয় কারণ এসিতেও গ্যাস রয়েছে।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে মসজিদে ভয়াবহ বিস্ফোরণের পর সকল বিতরণ কোম্পানির আওতাধীন এলাকায় মসজিদ-মন্দির ও অন্যান্য ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের বিদ্যুৎ সংযোগ ও এসির অবস্থা পরীক্ষা করার জন্য নির্দেশ দিয়েছে বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়। শনিবার দুপুরে মন্ত্রণালয় থেকে এ নির্দেশ দেওয়া হয়। গতকাল শুক্রবার রাতে নারায়ণগঞ্জ ফতুল্লা তল্লা বাইতুস সালাত জামে মসজিদের বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের ঘটনায় জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস ও তিতাসের পক্ষ থেকে শনিবার পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।