নারায়ণগঞ্জে কয়েকটি স্থানে হিন্দু সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে, যুব ঐক্য পরিষদের সম্মেলনে জানালেন প্রধান অতিথি

20

। নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি।।  নারায়ণগঞ্জের বেশ কয়েকটি স্থানে হিন্দুদের সম্পত্তি বেদখল হয়ে যাচ্ছে। দেওভোগের ঐতিহ্যবাহী জিওস পুকুরের প্রকৃত মালিক লক্ষ্মীনারায়ণ আখড়া। এই পুকুরের টলটলে জলে এক সময় আমরা সাতার কেটেছি। কিন্ত সেই পুকুর আজ দখল হয়ে গেছে। ১৪ নম্বর দলিল করে নারায়ণগঞ্জের একটি প্রভাবশালী পরিবারের লোকজন প্রায় ২০০ কোটি টাকা মূল্যের এই সম্পত্তি দখল করে নিয়েছে। তারা আবার আগামি নির্বাচনে ভোট প্রার্থনাও করবে। এখন আপনাদের সিদ্ধান্ত নিতে হবে আপনারা কি করবেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জ কেন্দ্রীয় শ্মশানের জায়গাও এখন চারভাগের একভাগে পরিণত হয়েছে, বাকী তিনভাগই দখল হয়ে গেছে। আমাদের শেষ বিদায়ের স্থান এই শ্মশানের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব এখন সিটি কর্পোরেশনের। তাহলে এই বেদখলের দায় দায়িত্ব কার উপরে যায় সেটা আপনারাই বিবেচনা করুন।

গত শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ নারায়ণগঞ্জ জেলা ও মহানগর শাখার  ত্রিবার্ষিক সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. খোকন সাহা একথা বলেন। সকাল দশটায় শহরের পুরাতন কোর্টের জেলা সরকারি গণগ্রন্থাগার প্রাঙ্গণে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। বক্তব্যের শুরুতে খোকন সাহা হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন। সম্প্রতি প্রয়াত ভারতের রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের অকৃত্রিম বন্ধু প্রণব মুখোপাধ্যায়ের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁর স্মৃতিচারণ করেন।

খোকন সাহা বলেন,  প্রণববাবু ছিলেন ভারতের প্রথম বাঙালি রাষ্ট্রপতি। তাঁর মৃত্যুতে বাংলাদেশ তার এক শুভাকাঙ্খিকে হারালো। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় থেকে জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত বাংলাদেশের প্রতিটি প্রয়োজনে নি:স্বার্থভাবে পাশে ছিলেন।

নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস বলেন, ধর্মীয় রাষ্ট্র নয়, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র চাই। ১৯৮৮ সালে অনেক প্রতিকূলতার মধ্য দিয়ে এই সংগঠন গড়ে উঠেছিল। ১৯৯৩ সালে প্রথম নারায়ণগঞ্জে জেলা ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের  সম্মেলন আয়োজন করা হয়, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি সদ্য প্রয়াত বীর মুক্তিযোদ্ধা সি আর দত্ত সে সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন। তিনি বলেন, আমাদেরকে সে সময় এই সংগঠন পরিচালনা করতে অনেক বাধার মুখোমখি হতে হয়েছিলো, প্রশাসনও নেতিবাচক আচরণকরেছিল।

অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র গীতা পাঠ, বাইবেল ও ত্রিপিটক পাঠ করা হয় । পরে বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটি প্রয়াত সভাপতি মেজর জেনারেল সি আর দত্তসহ প্রয়াত সকল নেতাকর্মীদের আত্মার সদগতি কামনা করে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয় । এ সময়ে নারায়ণগঞ্জ – ৪ আসনের সাংসদ এ কে এম শামীম ওসমানের সহধর্মিণী সালমা ওসমান লিপি ও নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সাবেক প্রয়াত সাংসদ এ কে এম নাসিম ওসমানের সহধর্মিণী পারভীন ওসমান সহ ওসমানের পরিবারের সকল সদস্য এবং জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতি কমান্ডার গোপীনাথ দাসের রোগ মুক্তি কামনা করে বিশেষ প্রার্থনা করা হয় ।

নারায়নগঞ্জ জেলা যুব ঐক্য পরিষদের আহ্বায়ক আনন্দ সেরাওগী সুমনের সভাপতিত্বে ও সদস্য সচিব ভজন দাস ও মহানগরের আহ্বায়ক এ্যাড. অঞ্জন দাসের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. খোকন সাহা, সম্মানিত অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সাধারণ সম্পাদক প্রদীপ কুমার দাস। সম্মেলন উদ্বোধন করেন বাংলাদেশ যুব ঐক্য পরিষদ কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি পংকজ কুমার সাহা, রাহুল বড়ুয়া,  প্রধান বক্তা ছিলেন সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার তাপস কান্তি বল, বিশেষ অতিথি ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শিখন সরকার শিপন, নারায়ণগঞ্জ মহানগর ঐক্য পরিষদের সভাপতি লিটন চন্দ্র পাল, সাধারণ সম্পাদক নিমাই দে, নারায়ণগঞ্জ জেলা ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক রঞ্জিত মন্ডল, নারায়ণগঞ্জ মহানগর পূজা পরিষদের সভাপতি অরুণ কুমার দাস,সাধারণ সম্পাদক উত্তম সাহা, জেলা ঐক্য পরিষদের সভাপতিমন্ডলীর সদস্য পিন্টু পলিকাপ পিউরীফিকেশন,অসীম বড়ুয়া, কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি বলরাম বাহাদুর। জেলা ও মহানগর হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, পূজা উদযাপন পরিষদ ও ছাত্র যুব ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দও বক্তব্য রাখেন।

সম্মেলনের দ্বিতীয় পর্বে উপস্থিত সকলের মতামতের ভিত্তিতে জেলা যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে আনন্দ সেরওয়াগী সুমন এবং ভজন দাস। মহানগর যুব ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হন যথাক্রমে এ্যাড. অঞ্জন দাশ এবং রিপন কর্মকার।