নারায়ণগঞ্জে অগ্নিকান্ডে আট শীর্ষ কর্মকর্তা গ্রেফতার, মৃতদেহ শনাক্তে এক মাসও লাগতে পারে

1

বিশেষ প্রতিনিধি।। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রপের প্রতিষ্ঠান হাসেম ফুডসের কারখানায় অগ্নিকান্ডে অর্ধশতাধিক মৃৃত্যুর ঘটনায় ৮ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়েরের পর শনিবার (১০ জুলাই) সজীব গ্রুপের চেয়ারম্যান আবুল হাসেম, গ্রুপের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) শাহেনশাহ আজাদসহ আট শীর্ষ কর্মকর্তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। বিকেলেই তাদের আদালতে তোলা হলে তাদের চারদিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল শনিবার ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

মন্ত্রী বলেন, এ ঘটনার জন্য কারও ন্যূনতম অবহেলা পাওয়া গেলে তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বলেন, আহত ও নিহত ব্যক্তিদের পরিবারকে সরকারের পক্ষ থেকে যতটা সম্ভব ক্ষতিপূরণ দেওয়া হচ্ছে এবং হবে।

স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে যতগুলো অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে, তার মধ্যে এই অগ্নিকান্ডটি অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী ছিল বলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান। ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও ডেমরা ফায়ার সার্ভিসের ১৭টি ইউনিট প্রায় ২১ ঘন্টা চেষ্টা চালিয়ে ছয়তলা ভবনের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। আজ শনিবার ছয় তলায় অনুসন্ধান চালানোর সময় ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা কোথাও কোথাও ধিকি ধিকি আগুন জ্বলতে দেখেছেন।

অগ্নিকান্ড এত দীর্ঘ সময় ধরে চলার কারণ কী ? বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ওই ভবনে এমনিতেই দাহ্য পদার্থ এবং রাসায়নিকের পরিমাণ অনেক বেশি ছিল। ছিল জ্বালানি তেল, রাসায়নিক দ্রব্য, প্লাস্টিকসামগ্রী, ফয়েল পেপার, প্যাকেট তৈরির কাগজসহ নানা ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য ও তরল পদার্থ। এর সবই দাহ্য পদার্থ। এ ধরনের আগুন শুধু পানি ছিটিয়ে নেভানো সম্ভব নয়। বরং অনেক ক্ষেত্রে শুধু পানি ছিটালে আগুন আরও বেড়ে যায়।

ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স বলছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকান্ডের ঘটনা নিয়মিতভাবে বাড়ছে। অগ্নিকান্ডের সবচেয়ে বড় কারণ হিসেবে চুলা, বিদ্যুৎ-সংযোগ ও সিগারেটের আগুনকে দায়ী করা হয়েছে। সংস্থাটির হিসাবে, ২০১৫ সালে দেশে মোট ১৭ হাজার ৪৮৮টি অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটে। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে ২০২০ সালে তা ২১ হাজার ৭৩ টিতে দাঁড়িয়েছে। চলতি বছরের জুলাই মাসে মগবাজারে ভবনে বিস্ফোরণ এবং সর্বশেষ রূপগঞ্জে হাসেম ফুডে বড় ধরনের অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটল।

আগুনে পুড়ে যাওয়া মরদেহগুলো শনাক্তে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করা হচ্ছে ডিএনএ পরীক্ষা। এজন্যে স্বজনদের কাছ থেকে নমুনা নেওয়া হচ্ছে। বেশি পুড়ে যাওয়ায় ডিএনএ মেলাতে এক মাসের মতো সময় লাগতে পারে বলে জানা গেছে। শনিবার সারাদিন ঢাকা মেডিক্যালের মর্গের সামনে আত্মীয়-স্বজনদের ডিএনএ’র জন্যে নমুনা দিতে অপেক্ষা করতে দেখা যায়। কোন মৃতদেহই দেখে শনাক্ত করার পর্যায়ে নেই।