দেশের বিভিন্ন স্থানে ভূমিকম্প, বগুড়ায় দেয়াল চাপায় একজনের মৃত্যু

11

ডেস্ক রিপোর্ট।। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ৮টা ২১ মিনিটে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ভূমিকম্পের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রিখটার স্কেলে এর মাত্রা ছিল ৬।

ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল ভারতের আসামে। কয়েক দিন ধরেই সারা দেশে তীব্র দাবদাহ চলছে। এর মধ্যে ভূমিকম্প হলো। এদিকে এনডিটিভির খবরে জানা যায়, ভারতের আসামে ৬ দশমিক ২ মাত্রার ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে।

সিলেট থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়, সিলেট থেকে ভূমিকম্প স্থলের দূরত্ব প্রায় ৩৬৮ কিলোমিটার। সিলেট আবহাওয়া অফিসের জ্যেষ্ঠ আবহাওয়াবিদ সাঈদ আহমদ চৌধুরী বলেন, ভারতের আসামের ঢেকীয়াজুলি শহর এই ভূমিকম্পের উৎপত্তিস্থল। তবে সিলেটে ভূমিকম্পে কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানান সিলেট ফায়ার সার্ভিসের স্টেশন কর্মকর্তা যীশু তালুকদার।

বগুড়া থেকে পাওয়া খবরে বলা হয়, ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্ত একটি মাটির দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে বগুড়ার শিবগঞ্জে বাপ্পী হাসান সিয়াম (১৫) নামে এক মাদরাসা ছাত্র নিহত হয়েছে। বুধবার (২৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বিহার ইউনিয়নের সোলাগাড়ি গ্রামে ওই ঘটনা ঘটে। নিহত সিয়াম সোলাগাড়ি গ্রামের ট্রাক ড্রাইভার ফরহাদ হোসেনের ছেলে। সে স্থানীয় আলীগ্রাম দাখিল মাদাসার অষ্টম শ্রেণির ছাত্র ছিল। শিবগঞ্জ থানার ওসি (তদন্ত) হরিদাস মন্ডল জানান, বুধবার সকাল ৮টা ২৫ মিনিটের দিকে ভূমিকম্প হয়। এতে সোলাগাড়ি গ্রামের ট্রাকচালক ফরহাদ হোসেনের এক প্রতিবেশীর বাড়ির মাটির তৈরি দেওয়াল ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তার এক ঘন্টা পর ফরহাদ হোসেনের ছেলে বাপ্পী হাসান সিয়াম ওই দেওয়ালের পাশে গিয়ে বসে। এরপর আকস্মিকভাবে দেওয়ালটি ধ্বসে তার ওপর পড়ে। এতে সিয়াম মাথায় প্রচন্ড আঘাত পায়। পরে শিবগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়ার পথে তার মৃত্যু হয়।

আনন্দবাজারের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে কেঁপে উঠল উত্তরবঙ্গের একাধিক জেলা। কম্পন অনুভূত হয়েছে দক্ষিণবঙ্গেও। রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬.৪। অসমের গুয়াহাটির কাছে শোনিতপুরে ভূপৃষ্ঠের থেকে ২১.৪ কিলোমিটার নীচে ভূমিকম্পের উৎসস্থল বলে জানা গিয়েছে।

বুধবার সকাল ৭টা ৫১ মিনিটে শোনিতপুরে প্রথম কম্পন অনুভূত হয়। তার পরে ৭টা ৫৪ মিনিট নাগাদ কম্পন অনুভূত হয় উত্তরবঙ্গের জলপাইগুড়ি, কোচবিহার, আলিপুরদুয়ার, দার্জিলিং, কালিম্পং প্রভৃতি জেলায়। কেঁপে ওঠে পায়ের তলার মাটি। এ ছাড়া মালদহ, মুর্শিদাবাদ ও দক্ষিণবঙ্গের কিছু জেলাতেও কম্পন অনুভব করেন বাসিন্দারা। এমনকি কলকাতাতেও মৃদু কম্পন অনুভূত হয়েছে বলে খবর।

সাতসকালে কম্পন শুরু হতেই আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন অঞ্চলে। অনেকেই বাড়ি ছেড়ে বাইরে বেরিয়ে আসেন। বেশ কিছু জায়গায় বিদ্যুতের খুঁটি ভেঙে পড়েছে বলে খবর। বেশ কয়েকটি বাড়ি ও রাস্তাতেও ফাটল ধরেছে অনেক জায়গায়। তবে ঠিক কতটা ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা যায়নি।