দুর্নীতিগ্রস্ত দেশের তালিকায় বাংলাদেশের আরো অবনতি

4

।। ডেস্ক রিপোর্ট।। দুর্নীতির ধারণা সূচকে আগের বছরের তুলনায় আরো দুই ধাপ নীচে নেমে এসেছে বাংলাদেশ। বার্লিনভিত্তিক  ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল (টিআই) কর্তৃক পরিচালিত ‘দুর্নীতির ধারণা সূচক (সিপিআই) ২০২০’ এর বৈশ্বিক প্রকাশ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) এক ভার্চ্যুয়াল সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য তুলে ধরেন টিআই’র বাংলাদেশ চাপটারের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

সিপিআই ২০২০ অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে তালিকায় নীচের দিক থেকে বাংলাদেশ ১২তম অবস্থানে আছে। যেটা সিপিআই-২০১৯ এর তুলনায় দুই ধাপ নীচে নেমেছে বলে উল্লেখ করা হয়। ২০১৯ সালে নিম্নক্রম অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ছিল ১৪ তম। প্রতিবেদনে এর পেছনে অন্যতম কারণ হিসেবে করোনাভাইরাস মহামারীর মধ্যে বাংলাদেশের স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক দুর্নীতির বিষয়টিকে উল্লেখ করা হয়।

রাষ্ট্রীয় খাতে ঘুষ লেনদেন, সরকারি অবস্থান ও সম্পদ ব্যক্তিগত স্বার্থে ব্যবহার, স্বজনপ্রীতি এবং রাষ্ট্রকাঠামোকে দখল করার প্রবণতাকে এই সূচকের বিবেচনায় আনা হয়েছে। এছাড়া একটি দেশের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে ব্যবস্থা, গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতা, তথ্য অধিকার ও স্বার্থের সংঘাত সংক্রান্ত আইনের প্রয়োগ, প্রাতিষ্ঠানিক শুদ্ধাচার, দুর্নীতিগ্রস্তদের বিচারের আওতায় আনা, সম্পদের তথ্য প্রকাশ, তথ্য প্রকাশকারীদের নিরাপত্তা, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ইত্যাদিও এই সূচকের মূল বিষয় হিসেবে কাজ করে থাকে।

২০০১ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত টানা ৫ বছর বাংলাদেশ, বিশ্বের সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হিসেবে টিআই প্রতিবেদনে তালিকাভুক্ত হয়েছিল। পরে ধীরে ধীরে বাংলাদেশের অবস্থান এগিয়ে আসতে থাকে।

১০০ এর মধ্যে ৪৩ স্কোরকে গড় স্কোর হিসেবে বিবেচনায় সিপিআই ২০২০ অনুযায়ী বাংলাদেশের স্কোর ২৬। যা সিপিআই ২০১৮ ও ২০১৯ এর তুলনায় অপরিবর্তিত রয়েছে। এছাড়া সর্বোচ্চ থেকে গণনা অনুযায়ী বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৬তম। এক্ষেত্রেও ২০১৯ এর তুলনায় বাংলাদেশের অবস্থান অপরিবর্তিত রয়েছে। দুর্নীতির ধারণা সূচকে বাংলাদেশের এই অবস্থান হতাশাব্যাঞ্জক বলে উল্লেখ করেছেন ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আরও জানান, এই স্কোর অনুযায়ী বাংলাদেশে দুর্নীতির ব্যাপকতা এখনো উদ্বেগজনক বলে তিনি জানান।

এছাড়া এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলের ৩১টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশ চতুর্থ সর্বনিম্ন অবস্থানে এবং দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে একমাত্র আফগানিস্তানই বাংলাদেশের চেয়ে বেশি দুর্নীতিগ্রস্ত। সূচক অনুযায়ী, দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ভুটান, দেশটির স্কোর ৬৮। ১৮০টি দেশের মধ্যে তালিকার ওপর থেকে এই দেশটির অবস্থান ২৪তম। তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ভারত। দেশটির স্কোর ৪০। তালিকার ওপর থেকে দেশটির অবস্থান ৮৬তম। ২০১৯ সালের তুলনায় ভারতের অবস্থান ৬ ধাপ এগিয়েছে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশের ঠিক আগেই পাকিস্তানের অবস্থান। দেশটির অবস্থান ২০১৯ সালের চাইতে এক ধাপ পিছিয়েছে। দেশটির স্কোর ৩১। তালিকার ওপর থেকে দেশটির অবস্থান ১২৪ তম। মূলত দক্ষিণ এশিয়ার ৮টি দেশের মধ্যে শুধুমাত্র ভুটান ও মালদ্বীপ গড় স্কোর করেছে। দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি অগ্রগতি অর্জন করেছে মালদ্বীপ। দেশটি ৫৫ ধাপ উন্নতি করেছে। অর্থাৎ ১৩০তম অবস্থান থেকে ৭৫তম অবস্থানে উঠে এসেছে।

গতবারের মতো এবারও বিশ্বের সবচেয়ে কম দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ ডেনমার্ক এবং নিউজিল্যান্ড। এই দুটি দেশের স্কোর ৮৮। অন্যদিকে সবচেয়ে দুর্নীতিগ্রস্ত দেশ হল সাউথ সুদান এবং সোমালিয়া। দেশ দুটির স্কোর ১২। এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে আছে সিঙ্গাপুর। দেশটির স্কোর ৮৫। সে হিসেবে দেশটি দ্বিতীয় অবস্থানে আছে। মিয়ানমারও তার আগের অবস্থানের চাইতে ১৩ ধাপ উপরে উঠে এসেছে। এশিয়া প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশ শুধুমাত্র কম্বোডিয়া,আফগানিস্তান ও উত্তর কোরিয়ার চাইতে এগিয়ে আছে।

এবারের তালিকা অনুযায়ী ১৮০টি দেশের মধ্যে ১২১টি দেশ ৫০ এর নীচে স্কোর পেয়েছে। সিপিআই ২০১৯ এর তুলনায় ৪৮টি দেশের স্কোর কমেছে। অপরিবর্তিত আছে ৭০টি দেশের স্কোর এবং ৬২টি দেশের স্কোর বেড়েছে। প্রতিবেদন অনুযায়ী কোন দেশই সর্বোচ্চ স্কোর করেনি। অর্থাৎ বিশ্বব্যাপী দুর্নীতি বিরাজমান বলে জানান ইফতেখারুজ্জামান। রাশিয়া মাত্র ৩০ স্কোর পেয়েছে, চীন পেয়েছে ৪২ স্কোর।