দিনাজপুরে ৪টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর

6

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে।। ১ ফেব্রুয়ারি।।  দিনাজপুরে শত বছরের ঐতিহ্যবাহী শ্রীশ্রী চিবুকা দেবী মন্দিরের কয়েকটি প্রতিমা ভাংচুর করেছে দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করার কথা জানিয়েছে পুলিশ।

৩১ জানুয়ারি রোববার ভোর রাত ৩ টার দিকে দিনাজপুর চিরিরবন্দর উপজেলার আত্রাই নদীর তীরবর্তী শ্রীশ্রী চিবুকা দেবী মন্দিরে এই হামলার ঘটনা ঘটে। মন্দিরের কালী প্রতিমার মুখমন্ডলে, শিবের গলায় আঘাত করে ভেঙে ফেলা হয়েছে। একই সাথে মনসা প্রতিমার কয়েকটি অংশ ভেঙে পার্শ্ববর্তী নদীতে ফেলে দেয়া হয়েছে।

চিবুকা মন্দির ঘুরে দেখা গেছে ভাঙা প্রতিমার অংশগুলো। এ ঘটনার তীব্র নিন্দা করেছেন স্থানীয় সনাতন ধর্মাবলম্বী ও মন্দির কমিটির লোকজন। এই ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে পুলিশ। বিষয়টির লিখিত অভিযোগ দায়েরের জন্য পরামর্শ দিয়েছেন পুলিশের কর্মকর্তারা।

মন্দির কমিটির সহ-সম্পাদক তপন বিশ্বাস ঘটনা প্রসঙ্গে বলেন, ঘটনাটি আমি আজ সোমবার সকাল ১১ টায় মন্দিরের দায়িত্বপ্রাপ্ত সেবায়েতের মাধ্যমে জানতে পারি। এ সম্পর্কে আমাদের তেমন কোন ধারণা নেই। আমাদের ধারণা এটি একটি পরিকল্পিত হামলা। এই মন্দিরের সেবায়েত যিনি আছেন তিনিও সঠিকভাবে বলতে পারছেন না। তিনি সকালে উঠে প্রতিমা ভাঙচুর অবস্থায় দেখেন। তিনি বলেন, এ ঘটনা ঘটার পরে কমিটির কোষাধ্যক্ষ তাপস চন্দ্রের সাহায্যে সকল সদস্যেদেরকে বিষয়টি অবগত করি। সকলে এসে ঘটনা সম্পর্কে নিশ্চিত হয়ে থানায় বিষয়টি জানালে চিরিরবন্দর থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

মন্দিরের সেবায়েত শিবকর্মা জানান, এ ঘটনা রোববার দিবাগত রাতে ঘটেছে।  ভগবান এর বিচার নিশ্চয়ই করবেন। কতদিন আর অন্যায় করে বেঁচে থাকবে তারা। উপরে ভগবান আছেন।

মন্দির কমিটির যুগ্ম-সম্পাদক প্রফুল্ল সরকার জানান, ঘটনাটি ঘটেছে আনুমানিক রাতের শেষার্ধে। সকালে বিষয়টি জানতে পেরে আমি এসে দেখি এখানে তিনটি মন্দিরে অর্থাৎ চিবুকা দেবীর, কালী এবং মনসা মন্দিরে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে প্রতিমার মুখের অংশগুলো ভেঙে দেওয়া হয়েছে এবং মনসা প্রতিমাটি ভেঙে নদীতে ফেলে দিয়েছে।

তিনি বলেন, চিবুকা মাতার মন্দিরের তালা ভেঙে ঢুকতে না পেরে পরিশেষে তারা কিছু দিয়ে খুঁচিয়ে প্রতিমা ভেঙেছে, মন্দিরে ঢিল মেরেছে। এর আগে ওই মন্দিরের পাশের্^ শ্মশানের বাঁশের তৈরী বেড়াও ভেঙে দিয়েছিল দুর্বৃত্তরা। এই ঘটনায় থানায় অভিযোগ দায়ের করা হবে বলে জানান তিনি।

এ ব্যাপারে জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম রায় জানান, বিষয়টি আমরা জেনেছি। এই ঘটনার সাথে যারা জড়িত তাদের দ্রুত তাদের আইনের আওতায় এনে বিচার করাই আমাদের চাওয়া।

অন্যদিকে পুলিশ সুপার আনোয়ার হোসেন জানান, এই ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। কোন ক্রমেই এই সব ঘটনায় কাউকে ছাড় দেয়া হবে না। ইতিমধ্যে পুলিশ তদন্ত কার্যক্রম শুরু করেছে বলে জানান তিনি।

অপরদিকে চিরিরবন্দর উপজেলার ভাইস চেয়ারম্যান জ্যোতিষ চন্দ্র রায় জানান, সেই রাতেই একই সাথে আরো ৩টি মন্দিরের প্রতিমা ভাঙচুর করেছে বলে জানা গেছে। এ মন্দিরগুলো হলো বৈশ্বিক দুর্গা মন্দির, রাজগঞ্জ সার্বজনীন দুর্গা মন্দির ও শ্রীনাথ বটতলা দুর্গা মন্দির।