দিনাজপুরে ভূমিদস্যুদের কবল থেকে আদিবাসীদের জমি উদ্ধারের দাবি

6

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে ।। ০৩ মার্চ।। ঘোড়াঘাট উপজেলায় ভূমি দস্যুদের কবল থেকে জমি উদ্ধারে সংবাদ সম্মেলন করেছেন আদিবাসী মহিলা। আজ দুপুর সাড়ে ১২ টায় দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার কালুপুকুর গ্রামে আদিবাসী মহিলা ললিতা মুরমু ভূমি দস্যূদের হাত থেকে জমি উদ্ধারে সংবাদ সম্মেলন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ললিতা মুরমু বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমার পৈতৃক সম্পত্তি দখল করে জাল দলিল সৃষ্টি করে ভোগদখল করেছে ভূমি দস্যূরা। আমরা বাটোয়ারা মামলা করি যার মামলা নং-১৭৩/৭৪ । মামলার বাদী ছিলেন, লোদগা কিস্কু গং। বিবাদী ছিলেন, গাংগু কিস্কু, দূরগী কিস্কু।

উল্লেখ্য যে, ১৯৭৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি প্রাথমিক এবং চূড়ান্ত রায় হাসিল করে ওই সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি জমি বাবদ মিস কেস ঢও/৭২/৭৬-৭৭, ঢও/৯১৪/৮১-৮২, ঢও/৯১৭/৮১-৮২, ঢও/৯১৬/৮১-৮২ নামজারী কেস মূলে খারিজ করেন মামলার বাদী। মামলার বাদী ছিলেন লোদগা গং। জমির পরিমাণ-৩২ দশমিক ৩৩ একর। ইতি পূর্বে গাংগু কিস্কু মূলে ১৭৩/৭৪ বাটোয়ারা মামলা রায়ের ডিগ্রীর বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোটে ১৭/৭৯ সং মামলা দায়ের করলে মামলা চলা অবস্থায় গাংগু কিস্কু মৃত্যু বরণ করেন। সেই সুযোগে গনেশ কিস্কু বিরোধ পূর্ণ জমির মালিক ওয়ারিশ কোন কিছু না হওয়া সত্ত্বেও দীর্ঘ দিন পর উক্ত ১৭/৭৯নং মামলায় এফিটেভিড কারি পিটিশনার তথা পক্ষভূক্ত সন ৮৭ সালে। মূল মালিক মহামান্য হাইকোর্টে চূড়ান্ত ডিগ্রী হাসিল করে ১৯৯৭ সালে। ১৮/০৮/১৯৭৫ ইং তারিখে উপরোক্ত খারিজ মহামন্য হাইকোর্টের আদেশ মতে ঘোড়াঘাট সহকারী কমিশনার ভূমি মিসকেস নং- ঢও/৩৮/২০০৩-০৪ নং কেসে লোদগা কিস্কু গংদের নামীয় খারিজ বাতিলের আবেদন করলে সহকারী কমিশনার ভূমি ঘোড়াঘাটকে হাইকোর্টে ১৭/৯৭ নং মামলার রায় দৃষ্টে ২০০৪ সালের ২৬ অক্টোবর উক্ত খারিজ সমূহ বাতিলের আদেশ দেন।

মামলার অভিযোগকারী পক্ষ নালিশী দাগের জমি বাবদ সহকারী কমিশনার ভূমি ঘোড়াঘাট ঢও/৪৩৮/২০১০-২০১১ নং খারিজ কেস দাখিল করলে আদালত সার্বিক বিবেচনায় উক্ত খারিজ আবেদন মঞ্জুর করেন। অভিযোগকারীর পক্ষের নামীয় উক্ত খারিজ কেস বাতিলের জন্য গণেশ কিস্কু উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ঘোড়াঘাট ঢওওও/০৮/২০১১-২০১২ নং মিসকে দায়ের করেন। উক্ত মিসকেস সহকারী কমিশনার ভূমি ঘোড়াঘাট দিনাজপুর সার্বিক বিবেচনায় গত ২৯/০৩/২০১২ ইং তারিখে খারিজ বাতিলের আবেদন না মঞ্জুর আদেশ দেন। উক্ত আদেশ পর্যালোচনায় বিজ্ঞ আদালতে উল্লেখ্য করেন যে, গণেশ কিস্কু দীর্ঘদিন পর হাইকোটের চলমান মামলা ১৭/৭৯ এর এভিডেভিটকারী পিটিশনার তথ্য পক্ষভূক্ত হন। কিন্ত তার নাম বা তার পিতার নাম নালিশি জমির সি,এস বা এস.এ রেকর্ডে উল্লেখ্য নাই। বাদী পক্ষ গণেশ কিস্কু বা পিতা মুন্সি কিস্কু গং রেকর্ডীয় মালিকের কোন ওয়ারিশ নয়। খতিয়ান নং-৪০৮ নং জেএলনং-১০৯, মৌজা কালুপুরক বার্ষিক ৪ একর ৯৮ শতক জমি প্রভাবশালীর ছত্রছায়ায় দখল করেছে।

সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ করা হয় সরকার মুরমু, গোপিন মুরমু, সেবা মুরমু, ললিতা মুরমু ও লেবু মুরমু জানান, বিশু মুরমু, কবিরাজ হেম্ব্রম দীর্ঘ দিন ধরে জাল দলিল তৈরি করে ঐ জমি দখল করে খাচ্ছে। এ বিষয়ে ঘোড়াঘাট উপজেলার তহসিদার মোহাম্মদ জিল্লুর রহমান এর সাথে জাল দলিল সৃষ্টি ও খারিজ দেওয়ার বিষয়ে কথা বললে তিনি জানান, আমি যোগদানের আগে এ সব খারিজ খাজনা হয়েছে। আমার সময় নয়। কালুপুকুর গ্রামের ললিতা মুরমু জমি উদ্ধারে প্রধানমন্ত্রীর আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এসময় গ্রামের বেশ কিছু আদিবাসী উপস্থিত ছিলেন।