দিনাজপুরে বীরগঞ্জে নদী থেকে বালু উত্তোলন করায় শতাধিক একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত

1

রতন সিং, দিনাজপুর থেকে ।। ২৯ জানুয়ারি।।  দিনাজপুর বীরগঞ্জ উপজেলার বলদিয়া পাড়া বালু মহল খাস কালেকশনের নামে গভীর গর্ত করে বালু তোলার ফলে নদীর পাড় ভেঙে প্রায় শতাধিক একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই এলাকার জনসাধারণ এদিকে দৃষ্টি দেয়ার জন্যে প্রশাসনের কাছে দাবি জানিয়েছেন।

দিনাজপুর বীরগঞ্জ উপজেলার আত্রাই নদীর পাশে বলদিয়া পাড়া এলাকার জনসাধারণের অভিযোগ বালু মহল খাস কালেকশনের নামে বালু বিক্রির টাকা সরকারি কোষাগারে নাম মাত্র জমা হলেও ইজারাদার ও প্রশাসনের কিছু কর্মকর্তা ও কর্মচারী ওই অর্থ হরিলুট করা হচ্ছে। ড্রেজার মেশিন দিয়ে আত্রাই নদীতে গভীর গর্ত করে বালু তোলার ফলে নদীর পার ভেঙে নদীতে পরিণত হয়েছে। ফলে বলদিয়া পাড়া গ্রামের প্রায় শতাধিক একর জমি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ওই জমিতে ইরি,বোরো, আমন সহ সব ধরনের ফসল আবাদ হত। ড্রাম ট্রাক চলাচলের কারণে ওই এলাকার প্রায় ২ কিলোমিটার পাকা রাস্তা ভে্েঙ গেছে। বালূ পরিবহনে ড্রাম ট্রাক বন্ধের দাবিতে স্থানীয় জনসাধারণ ইতিপূর্বে মানব বন্ধন করেছে। লোক দেখানো ৩ টি ড্রাম গত ডিসেম্বর মাসে থানায় আটক করে পরে ছেড়ে দেয়া হয়েছে। আবার একই ভাবে ড্রাম ট্রাকে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত করে বালু পরিবহন করা হয়েছে।

খাস কালেকশনের দায়িত্বে নিয়োজিত উপজেলা পরিষদের রাখা ব্যক্তি রুবেল ও নূর আলম জানান তারা গত ৪ মাস পূর্বে বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের নির্বাহী কর্মকর্তা ফজলে এলাহীর সাথে কথা বলে তার নির্দেশে খাস কালেকশনে বালু উত্তোলন করছেন। এ পর্যন্ত ৩ কিস্তিতে তারা সরকারি কোষাগারে দেড় লক্ষ টাকা জমা দিয়েছে। এছাড়া প্রশাসনকে অতিরিক্ত নগদ টাকা দিয়ে তারা বালু উত্তোলনের কাজ করছেন।

এদিকে বীরগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কমকর্তা ফজলে এলাহীর কাছে এ ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, আমি এই ব্যাপারে কোন বক্তব্য দেব না। তবে তথ্য নিতে পারেন। তিনি বলেন, বালু ব্যবস্থাপনা কমিটির রেজুলেশন রয়েছে। খাস কালেকশনে সরকারি জনবল না থাকায় অন্য লোকের মাধ্যমে ওই এলাকার বালু উত্তোলন করে টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে।

এ বিষয়ে বীরগঞ্জ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আমিনুল ইসলামের কাছে জানতে চাওয়া হলে তিনি জানান, বিষয়টি দুঃখজনক, খাস কালেকশনের নামে আত্রাই নদী ড্রেজার মেশিন দিয়ে গভীর গর্ত করায় বিপদ জনক অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এরপরেও বালু বিক্রির পুরো টাকা সরকারি কোষাগারে জমা হয়েছে কিনা বিষয়টি তদন্ত করা দরকার।